৪ জনের যাবৎজীবন সহ ৯ জনের দন্ড : খালাস ৩

বরিশাল :

বাবুগঞ্জের আলোচিত ঘটনা কলেজ ছাত্র রাকিবের চক্ষু উৎপাটন মামলার ৪ জনের যাবৎজীবন সহ ৯ জনের বিভিন্ন মেয়াদে দন্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি এ মামলায় অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় ৩ জনকে খালাস দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বরিশালের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মোঃ আনিসুর রহমান আসামীদের উপস্থিতিতে এ রায় প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি একে এম জাহাঙ্গীর জানান, ২০১৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে বাবুগঞ্জের বাহেরচর এলাকার বাসিন্দা মাসুদ মৃধার ভাই রফিকুল ইসলামকে বাজারে বসে মারধর করে অজ্ঞাতরা। এ ঘটনায় রফিকুল ইসলামের ভাই মাসুদ মৃধা এ ঘটনায় সন্দেহ করে একই এলাকার বাসিন্দা সেলিম হাওলাদারের ছেলে বাবুুগঞ্জ সরকারি ডিগ্রী কলেজের ছাত্র রাহাত রেজা ওরফে রাকিবকে। এরজের ধরে ঘটনার দুই দিন পর দুপুুরে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে চরকান্দা মরাডাঙ্গীর খালগোড়ায় পৌছালে মাসুদ মৃধা তার সহযোগীদের নিয়ে রাকিবকে মারধর করে পার্শবর্তী নির্জন স্থানে নিয়ে তার দুটি চোখ উপরে ফেলে দেয়। এক পর্যায় তার ডাক চিৎকারে রাকিবের পরিবারের লোকজনসহ স্থানীয়রা ছুটে আসলে মাসুদ মৃধা তার সহযোগীদের নিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় রাকিবের বাবা সেলিম হাওলাদার বাদি হয়ে দ্রুত বিচার আইনে ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর মাসুদ মৃধাকে প্রধান আসামি করে মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন বাবুগঞ্জ থানায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাবুগঞ্জ থানার এসআই আবু জাফর হাওলাদার একই বছরের ১৩ নভেম্বর মামলার এজাহার ভুক্ত ১১ আসামিদের অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত ১০ জন সাক্ষীর মধ্য থেকে ৮ জনের সাক্ষগ্রহন শেষে এ রায় প্রদান করেন। রায়ে মামলার প্রধান আসামী মাসুদ আলম মৃধাসহ অপর আসামী কালাম মৃধা, কামাল হাওলাদার, মেহেদী হাসান রাজুকে যাবৎজীবন কারাদন্ড, ১০ হাজার টাকা অনাদায়ে আরো ২ বছরের কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি অপর একটি ধারায় চারজনের প্রত্যেককে ১ মাস করে কারাদন্ড প্রদান করা হয়। অপরদিকে মামলার অন্য আসামী সায়েম ফরাজি, আরিফ মৃধা, আঃ হালিম ঘরামি, মোঃ তুষার, সিরাজ বয়াতিকে পৃথক দুই ধারায় ১ বছর ১ মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন। এছারাও অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় মোক্তার হোসেন, শফিউল আলম শামিম, ইমরুল ফরাজিকে খালাস দেয়া হয়।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *