১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ১৮৫ জনের যাবজ্জীবন

৭১বিডি২৪ডটকম ॥ নিজস্ব প্রতিবেদক;


১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ১৮৫ জনের যাবজ্জীবন


পিলখানার বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় বিডিআরের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) তৌহিদসহ ফাঁসির দন্ড পাওয়া ১৫২ জন আসামির মধ্যে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। বাকি ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১৬০ জনের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীসহ ১২ জনকে খালাস দিয়ে ১৪৬ জনের সাজা বহাল রাখা হয়েছে। বাকি ২ জন মারা গেছেন। এছাড়া নিম্ন আদালতে খালাস পাওয়া ৬৯ জনের মধ্যে ৩১ জনসহ সর্বমোট ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়েছে।

১০ বছর সাজাপ্রাপ্ত ১৮২ জন আসামির আপিল খারিজ করে দিয়ে তাদের দণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। সর্বমোট ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই রায় দেন। বেঞ্চের অপর দুই বিচারপতি হলেন মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। আদালত এই রায়কে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে রায়ে বিভিন্ন সুপারিশও করা হয়েছে।

এ মামলায় আসামি ছিলেন ৮৫০ জন। নিম্ন আদালতে সাজা হয় ৫৬৮ জনের। তাদের মধ্যে বিচারিক আদালতের রায়ে ১৫২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২৫৬ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছিল। খালাস পেয়েছিলেন ২৭৭ জন। এই ২৭৭ জনের মধ্যে ৬৯ জনের বিরুদ্ধে আপিল করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ। হাইকোর্টের রায়ে মোট ৮৫০ জন আসামীর মধ্যে ৫৫২ জন সাজা পেলেন। খালাস পেলেন ২৯৮জন।

প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরে সন্তোস প্রকাশ করেন। অন্যদিকে আসামী পক্ষের আইনজীবী বলেন, রায় এভাবে ঘোষণা হতে পারে না। কোন সাক্ষী ছাড়াই অনেকের সাজা বহাল রাখা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে সাজাপ্রাপ্ত অনেকেই খালাস পাবেন।

পরে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম্ সেখানে তিনি বলেন, আদালত সর্বমোট ৭ টি পর্যবেক্ষন দিয়েছেন। এর মধ্যে একটি হলো সেদিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কী গাফিলতি ছিল তা খতিয়ে দেখা। রায়ে তিনিও সন্তোস প্রকাশ করেন।


১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ১৮৫ জনের যাবজ্জীবন


নিম্ন আদালতের রায়:
বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় এক নম্বরে ছিলেন বিদ্রোহের অন্যতম পরিকল্পনাকারী উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) তৌহিদুল আলম। বিডিআরের বাইরে দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। এঁরা হলেন বিএনপির সাবেক সাংসদ নাসির উদ্দীন আহম্মেদ পিন্টু ও স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা তোরাব আলী। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে কারাগারে মারা যান নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু। নিম্ন আদালতের রায়টি ছিল মোট চার হাজার পৃষ্ঠার।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক তখন বলেছিলেন, এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হত্যা মামলা। একটি বিদ্রোহ থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে যে কারণে এ বিদ্রোহ হয়েছে, তা ছিল অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন। সেনাবাহিনীর মনোবল নষ্ট করা, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়াই ছিল হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ।

আদালত ১৫২ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়ে বলেন, মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এঁদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সাধারণ নাগরিক হলেন পিলখানার পাশের এলাকার বাসিন্দা নায়েক সুবেদার (অব.) কাঞ্চন আলীর ছেলে জাকির হোসেন। পিন্টু ও তোরাব আলীকে যাবজ্জীবনের পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়; অনাদায়ে আরও পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে অস্ত্র লুণ্ঠনের দায়ে আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এতে করে তাঁদের ৪০ বছরের সাজা হয়। ২৫৬ জনের মধ্যে ২০৭ জনকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তাঁদের আরেকটি অভিযোগে আরও তিন বছরের সাজা দেওয়া হয়। এ নিয়ে মোট ১৩ বছর কারাভোগ করতে হবে তাঁদের।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *