হোটেলের নেয়ার পথে ১১০০ কেজি কুকুরের মাংস উদ্ধার!

:: ৭১বিডি২৪ডটকম :: অনলাইন ডেস্ক ::


হোটেলের নেয়ার পথে ১১০০ কেজি কুকুরের মাংস উদ্ধার!


পলিথিনের প্যাকেটে করে নেয়া হচ্ছে জবাইকৃত প্রাণী। বাইরে থেকে দেখে মনে হচ্ছে ছাগল বা ভেড়া। কিন্তু সেটি আসলে কী, তা নিয়ে সন্দেহ হয় পুলিশের।

১১টি পলিথিনের প্যাকেট। প্যাকেটগুলোর ওজন ১১০০ কেজি। প্রথম দেখায় যে কারো মনে হবে প্যাকেটের ভেতর হয়তো চামড়া ছাড়ানো আস্ত ছাগল রয়েছে। কিন্তু ভুল ভাঙতে বেশি সময় লাগলো না; কারণ নিরাপত্তাকর্মীরা প্যাকেটগুলো তল্লাশির পর বেরিয়ে আসে আসল ঘটনা। এই ১১টি প্যাকেট থেকে উদ্ধার করা হলো ১১০০ কেজি কুকুরের মাংস।

শনিবার (১৭ নভেম্বর) ভারতের চেন্নাইয়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির গণমাধ্যমে খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে।

পার্সেল ভ্যানটি প্লাটফর্মে আসে সকাল ১০টা ১৬ মিনিট নাগাদ৷ এরপরই কিছু লোকজন যারা নিজেদের গ্রাহক বলে দাবি করে তারাই ক্রেটগুলিকে ট্রলিতে তুলতে থাকে৷

সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, নিরাপত্তা বাহিনীর আরপিএফ এর সাব ইন্সপেক্টর এস কৃষ্ণণ এবং এ ভাস্করণের বিষয়টিতে সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা ওই লোক গুলিকে বাক্সে থাকা মাংস গুলি খুলে বাইরে বের করতে বলেন৷ খাদ্য ও চিকিৎসা দফতর এবং স্বাস্থ্য দফতরের অফিসারেরা পৌঁছন ঘটনাস্থলে ততক্ষণে নিজেদের গ্রাহক বলে দাবি করা ওই লোকজন যারা মাংসগুলি ট্রলিতে তুলছিল তারা অবস্থা বুঝে এলাকা থেকে চম্পট দেয়৷

অফিসারেরা ওই মাংসগুলি পরীক্ষা করতে গিয়ে চমকে যান৷ মাংসগুলিতে কোনও রকম সিল করা ছিলনা৷ শুধু চামরা ছাড়ানো অবস্থায় সেগুলিকে প্যাকেটজাত করে নিয়ে আসা হয়েছে৷ ফুড সেফটি অফিসারেরা জানিয়েছেন এগুলি চেন্নাই নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে মনে করা হচ্ছে৷ যেখানে এগুলিকে ‘রাজস্থান মিট’ বলে চালানো হতে পারে৷ যা কম পয়সায় কেনা যায়৷

ঘটনার যে ছবি প্রকাশ পেয়েছে তাতে বোঝা যাচ্ছে এগুলি কুকুরের মাংসই৷ কিন্তু কোথা থেকে এগুলি আনা হল কারা এই কুকুরগুলিকে মেরে তা হোটেলগুলিতে বিক্রি করে এ সম্পর্কে এখনও কোনও তথ্য মেলেনি৷ এ ব্যাপারে পশু প্রেমীদেরও কোনও বক্তব্য মেলেনি৷

রেল দফতরের কাছে এই মাংসগুলি আসার খবর সূত্র মারফত আসে৷ “আমরা তল্লাশি করতে গিয়ে দেখি মাংসগুলিকে ঠিক রাখতে যেমন পদ্ধতিগতভাবে বরফের মধ্যে রাখার কথা সেগুলি সেভাবে ছিলনা৷” জানিয়েছেন এক অফিসার।

আরেকজন অফিসার জানিয়েছেন, মাংসগুলি কুকুরের বলেই মনে হচ্ছে কারণ তার লেজ রয়েছে এবং মাথা নেই কিন্তু শরীরের গঠন দেখে কুকুরই মনে হচ্ছে৷ সেগুলিকে আটক করা হয়েছে৷ এগুলি শহরের হোটেলগুলিতে পাঠানোর মতলব করা হয়েছিল৷ দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে কেউ একজন এই মাংসগুলিকে অর্ডার দিয়ে বুকিং করিয়েছিল৷ মনে হচ্ছে গান্ধীধাম গুজরাটের কেউ৷ সেগুলি যোধপুর-মান্নারগুড়ি এক্সপ্রেসে তিন দিন আগে চাপিয়ে আনা হচ্ছিল৷

পুরো মাংসের ওজন ১,১০০ কিলোগ্রাম৷ এটাই প্রথম নয় অবশ্য৷ এর আগেও গত মাসে পার্সেলে করে মাছ আনার পথে ধরা পরে রেল পুলিশের হাতে৷ এই মাংসগুলির নমুনা সংগ্রহ করে মাদ্রাজ ভেটেরেনারি কলেজে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে৷ সেখানেই চিহ্নিত করা হবে এগুলি কিসের মাংস৷

সুত্র/ভোরেরপাতা/

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *