সুখী জীবনের জন্য যেসব অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে

৭১বিডি২৪ডটকম ॥ অনলাইন ডেস্ক;


সুখী জীবনের জন্য যেসব অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে


পরিবেশ, অবস্থান এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়েই প্রত্যেকেই সুখী হতে চায়। সুখের পেছনে সবাই দৌড়ায়। সুখী হতে হলে কী করতে হবে সেটা জানতে চায় সবাই। কিন্তু সুখী হতে চাইলে কী করা বাদ দিতে হবে অথবা কোন অভ্যাসগুলো ত্যাগ করতে হবে সেটাও জানার প্রয়োজন।

কারণ এসব অভ্যাস থাকলে সুখী হবার জন্য যাই করা হোক না কেন প্রকৃত অর্থে সুখী মানুষ হিসেবে জীবন যাপন করা সম্ভব হবে না। নিজের মানসিক শান্তি এবং জীবনে ভালো থাকার প্রয়োজনে কিছু অভ্যাস, কিছু বিষয়, কিছু কাজ, কিছু চিন্তাধারা একেবারেই বাদ দিতে হবে। আজ দেয়া হলো কিভাবে সুখী থাকা যায়-

  • সব সময় নিজেকে সঠিক ভাবা বন্ধ করুন :
    সবকিছুতে নিজেকে সঠিক প্রমাণ করার জন্য অনেক বেশী মানসিক চাপের প্রয়োজন হয়। এই সকল মানসিক চাপ খুব স্বাভাবিকভাবেই একজন মানুষের মনের উপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে সুখে থাকার ব্যাপারটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। অনেকের ক্ষেত্রে যে সমস্যাটি দেখা যায় সেটা হল, কোন কাজের ক্ষেত্রে নিজের ভুল একেবারেই স্বীকার করতে চান না। কারণ এতে তার অহংবোধে আঘাত হানে। যার ফলে নিজেকে সঠিক দেখানোর জন্য বাড়তি চাপ নিয়ে অনেকেই অনেক কাজ করেন। এ সকল কারণে যে মানসিক চাপের সৃষ্টি হয় সেটা কোন মানুষকে অসুখী করার জন্য যথেষ্ট।
  • অতীত সম্পর্কে চিন্তা করা বাদ দিতে হবে :
    অতীত মানে যেটা চলে গেছে, যে সময়গুলো গত হয়ে গেছে, পেছনে ফেলে আসা প্রতিটা মুহূর্ত। হোক কষ্টদায়ক কিংবা সুখের, অতীত কখনোই ফিরে আসে না। তাই পেছনের কথা ভেবে বর্তমান সময় নষ্ট করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ এর সময়গুলো নষ্ট হতে পারে। তাই বর্তমান সময়কে ঘিরে পরিকল্পনা করতে হবে, কীভাবে নিজেকে আনন্দে রাখা যায় সেই বিষয়ে কাজ করতে হবে।
  • ‘পারফেকশনিষ্ট’ হওয়ার চিন্তা বাদ দিন :
    জীবনে সুখী হওয়ার অন্যতম অন্তরায় হলো অতিরিক্ত খুঁতখুতে হওয়া, তথা পারফেকশনিষ্ট হওয়া। কোন ব্যক্তি যদি পারফেকশনিষ্ট হয়ে থাকেন তবে সে নিজেই সুখী হওয়ার উপায় থেকে নিজেকে দূরে রাখছেন। খুব সাধারণভাবে বললে- পরীক্ষায় সকল বিষয়ে সর্বোচ্চ নাম্বার পেতে হবে, এমন মনোভাব জীবনের উপরে অনেক বেশী চাপের সৃষ্টি করে। পরীক্ষায় ভালো ফল করার তাগিদ এবং সকলকে ছাড়িয়ে নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার তাগিদের মাঝে থাকে বিস্তর পার্থক্য।
  • অন্যের সাথে নিজের তুলনা করা একেবারেই বন্ধ করতে হবে :
    যে কোনো ক্ষেত্রে নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করার অভ্যাসটি সুখে থাকার ক্ষেত্রে তো বটেই, স্বাভাবিক জীবনযাপনের উপরেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সবসময় মনের মাঝে অন্যের সাথে নিজের তুলনা করার অভ্যাস গড়ে তুললে, কখনোই মানসিকভাবে শান্তি পাওয়া সম্ভব হয় না। ‘অমুকের ওই জিনিসটা আছে, আমার তো নেই’ অথবা, ‘সে মাসে অতো হাজার টাকা বেতন পায় আমি তার থেকে পাঁচ হাজার টাকা কম পাই’ এমন ধরণের তুলনামূলক চিন্তাবোধ যখন মাথার মাঝে ঘুরতে থাকে, তখন কোন কিছুতেই সন্তুষ্টি কাজ করে না। যার ফলে মানসিক শান্তিটাও থাকে না একেবারে। আর মানসিক শান্তি না থাকলে কখনোই সুখী হওয়া সম্ভব নয়, এটা কে না জানে!
  • অভিযোগ করা বন্ধ করতে হবে :
    কিছু মানুষের মাঝে একটা অদ্ভুত ধারণা কাজ করে। তারা ভাবেন, অভিযোগ না করলে তার আশেপাশের কোনকিছুই ঠিক হবেনা! যে কারণে তারা ক্রমাগত তাঁদের বাসা, বাসার মানুষ, অফিস, বন্ধু, পরিচিত মানুষ, রাজনীতি, সমাজব্যবস্থা- সবকিছু নিয়ে একের পর এক অভিযোগ করতে থাকেন। কিন্তু একটা কথা মাথায় রাখতে হবে। অভিযোগ করলে কখনোই কোন কিছু বদলায়না।

কীভাবে সেই সমস্যা ঠিক করা যায় সেটা নিয়ে কাজ করতে হবে। অনেক সময় সমস্যা এমন কোন অবস্থা হতে পারে যেটা তাৎক্ষণিকভাবে ঠিক করা সম্ভব নয়, যেমন: ট্র্যাফিক জ্যাম। তবে সেক্ষেত্রে নিজের মনযোগ অন্য কিছুর দিকে দিতে হবে। বাসাতে পৌঁছে কি কাজ করা যায় কিংবা সপ্তাহের ছুটির দিনের প্ল্যান করে ফেলা যায়।

  • সবসময় অন্যের খুশির কথা চিন্তা করা বাদ দিন :
    নিজের খুশির পাশাপাশি অন্যের খুশির খেয়াল রাখার ব্যাপারটি সত্যিকার অর্থেই চমৎকার একটি মানবিক গুণ। তবে সেটা যদি মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তবে সমস্যাটি শুরু হয়। নিজের খুশির চাইতে অন্যের খুশির ব্যাপারে বেশী জোর দিতে গেলে নিজের দিক থেকে অনেক কিছুতেই ছাড় দিতে হয় অনিচ্ছা সত্ত্বেও। যার ফলে নিজের ভালো থাকার ব্যাপারটি অনেকটাই হালকা হয়ে যায়। তাই অন্যের খুশির ব্যাপারে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, তবে সেখানেও রাখতে হবে নির্দিষ্ট সীমারেখা।
  • নিজের মনের সীমাবদ্ধতাকে দূর করতে হবে :
    অনেক সময় আমাদের অসুখী থাকার প্রধান কারণ আমাদের নিজেদের চিন্তাভাবনা। আমরা নিজেরা নিজেদের বিশ্বাসকে গুটিয়ে রাখি খুব ছোট একটা পরিসরের মাঝে। আমরা ধরেই নেই, ‘ওই কাজটি আমার পক্ষে করা সম্ভব নয়’ অথবা, ‘অমুক জিনিসটি করার মতো কোন যোগ্যতা অথবা সামর্থ্য আমার নেই’। এই ভাবনাগুলো আমাদেরকে অসুখী করে তোলার জন্য যথেষ্ট। নিজেদের মনের এই সকল সীমাবদ্ধতা গুলোকে ঝেড়ে ফেলতে পারলে, ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে পারলে ভালো থাকা, সুখে থাকাটা তখন কোন বড় ব্যাপার নয়। অন্য কেউ যদি কোন কাজ করতে পারে, তবে আপনিও সেই কাজটি অবশ্যই করতে পারবেন। বিশ্বাস এবং ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে হবে নিজের মধ্যে।
  • যে কোন ক্ষেত্রে পরিবর্তনকে গ্রহণ করতে হবে :
    সফল ব্যক্তিদের জীবনের দিকে তাকালে দেখা যাবে, তারা যেকন ধরণের পরিবর্তনকে স্বাগত জানাতেন। সেটা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করতেন। নিজের ‘কম্ফোর্ট জোন’ এর বাইরে বেরিয়ে এসে ভালো যেকোন ধরণের পরিবর্তনকে গ্রহণ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে নিজের মধ্যে।
  • দুশ্চিন্তা করা বাদ দিতে হবে :
    অন্য সকল কিছু করা সম্ভব হলেও অনেকের কাছেই মনে হবে যে দুশ্চিন্তা করা বাদ দেওয়াটা একেবারেই যেন অসম্ভব। জীবনের ছোট থেকে বড় যেকোন কিছু নিয়েই দুশ্চিন্তা করাটা যেন একদম অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায় অনেকের জন্য। হ্যাঁ, অবশ্যই সঠিক এবং অর্থপূর্ণ কোন কারণে দুশ্চিন্তা করা যায় তবে সেটা যদি অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায় তবে সমস্যা দেখা দেয়।

ভালো থাকাটা একটি অভ্যাসের ব্যাপার। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই এটি নির্ভর করে নিজের বিশ্বাস, অভ্যাস এবং মনোভাবের উপর। তাই সুখে থাকার জন্য এবং ভালো থাকার জন্য কিছু নেতিবাচক অভ্যাস বাদ দেওয়া খুবই প্রয়োজনীয়।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *