সরকারি ঔষধ উদ্ধারের ঘটনায় শেবাচিম হাসপাতালে ৩টি তদন্ত কমিটি গঠন : থানায় মামলা

৭১বিডি২৪ডটকম । করেসপন্ডেন্ট::


বরিশাল


বরিশাল : বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর স্টাফ কোয়ার্টারের পুকুর থেকে সরকারি ঔষধ উদ্ধারের ঘটনায় ১২ সদস্যের পৃর্থক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আজ শনিবার সকালে হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ এসএম সিরাজুল ইসলাম এ কমিটি গঠন করেন। এদিকে এ ঘটনায় আটককৃত হাসপাতাল কর্মচারী শেফালী বেগম ও তার ছেলে মামুনের বিরুদ্ধে সরাকারি ঔষধ বিক্রির দায়ে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। হাসপাতল সূত্রে জানাগেছে, আজ সকালে প্রথম কর্মদিবসে হাসপাতালের পরিচালক ওই ঘটনায় ৩টি কমিটি গঠন করেছে। এর মধ্যে হামপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ঔষধ ইন্ডেন্ট ও বল্টনের হিসাব তদন্তে ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির প্রধান করা হয়েছে উপ-পরিচালক ডাঃ মো. আব্দুল কাদিরকে। এছাড়া সদস্যরা হলেন, মেডিসিন বর্হি বিভাগের আরপি ডা. এম আর খান, মেডিসিন-১ ইউনিটের রেজিস্ট্রার ডাঃ মোঃ সালমান হোসেন, মেডিসিন-২ এর রেজিস্ট্রার ডাঃ গোলাম ইসতিয়াক কুলল, মেডিসিন-৩ এর রেজিস্ট্রার ডাঃ মুহাম্মাদ মনিরুল ইসলাম ও মেডিসিন-৪ এর রেজিস্ট্রার ডাঃ নওয়াজ হোসেন। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে পরিচালক কার্যালয়ে রিপোর্ট জমা দানের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এদিকে ঔষধগুলো হাসপাতালের মেডিসিন সাব স্টোরের কিনা তা তদন্ত করার জন্য সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মশিউর আলমকে প্রধান করে অপর একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলো শিশু বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. ফজলুল হক পনির ও উচ্চমান সহকারী মো. গোলাম ফারুক মৃধা। এছাড়া ঔষধুগুলো হাসপাতালের মেডিসিন মেইন স্টোরের কিনা তা তদন্ত করার জন্য সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ভান্ডার) ডা. মো. ইউনুস আলীকে প্রধান করে আর একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলো সার্জারি বিভাগের অবাসিক সার্জন ডাঃ মোঃ আব্দুর রহিম ও অফিস সহকারী সৈয়দ মাকসুদুল আলম। আজকের অফিস সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটি দুটোকে পরিচালক কার্যালয়ে রিপোর্ট জমা দানের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এদিকে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার অভিসার্স ইনচার্য মো. আওলাদ হোসেন জানান, এ ঘটনায় ইতো মধ্যে আটক দুই জনের বিরুদ্ধে উপ-পরিদর্শক (এসআই) অরেবিন্দু বাদী হয়ে সরকারি ঔষধ বিক্রির দায়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে আরো তদন্ত করা হচ্ছে। উল্লেখ্য শুক্রবার থানা পুলিশ বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪র্থ শ্রেনী কর্মচারীদের কোয়াটারের ৪ নম্বর ভবনের সামনের একটি মজা পুকুর থেকে বিপুল পরিমানের সরকারি ঔষধ (সেফট্রিয়াক্সোন ইনজেকশন, জেএমআই সিরিঞ্জ, ডেস্কামেটথাসন সোডিয়াম, লার্ব ৫০+, লুমনা-১০, ডমপেরিডন, ভ্যাসোপিস্ক, থিওফাইনিল, জ্যাসোকাইন জেল, ডাইক্লোফেন ইনজেকশন, এনক্লোগ প্লাস, সালবুটামল, এজিথ্রোমাইসিন ৫০০) উদ্ধার করে। পরে ওই পুকুর সংলগ্ন হাসপাতালের আয়া শেফালী বেগমের বাস থেকে আরো ঔষধ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ঔষধ গুলো ২০১৮ এবং কোনটি ২০১৯ সাল পর্যন্ত মেয়াদ রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে আয়া শেফালী বেগম ও তার ছেলে মামুনকে আটক করে পুলিশ।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *