শ্রীহীন পর্যটক কেন্দ্র কুয়াকাটা, মুছে যাচ্ছে দৃষ্টি নন্দন সব দর্শনীয় স্থান

কলাপাড়া(পটুয়াখালী):

প্রাকৃতিক রুদ্ররোষ আর সমুদ্রের করাল গ্রাসে অস্তিত্ব হারাচ্ছে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা। বর্তমানে যে হারে সৈকতের বালু ক্ষয় হচ্ছে তাতে ধুয়ে মুছে যাচ্ছে দৃষ্টি নন্দন সব দর্শনীয় স্থান। ফলে সেই জৌলস হারিয়ে এখন শ্রীহীন হয়ে পরেছে কুয়াকাটা।

প্রবল ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় চৌরাস্তা জামে মসজিদ আর রাঁধা কৃষ্ণ মন্দিরের কাছাকাছি চলে এসেছে। বিলিন হওয়ার প্রহর গুনছে শহরের মুল বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধটিও। এখনই কার্যকরি ব্যবস্থা না নিলে খুব শীগ্রই অস্তিত্ব সংকট দেখা দিবে বলে মনে করেন পরিবেশবাদিরা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন দুইটি সমন্বয় প্রকল্প’র সমীক্ষা চলছে। এটা বাস্তবায়ন হলে ভাঙ্গনরোধ হবে।

১৯৯৮ সালে অপরুপ সৌন্দার্যের লীলা ভুমি সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটকে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার ঘোষনা দেয় সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উনśতি শুরু হয়। পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের স্থাপন করা হয় ৩টি সেতু। লতাচাপলী ইউনিয়নকে দুটি ভাগ করে কুয়াকাটাকে পৌরসভায় উনśতি করা হয়। কিন্তু বঙ্গোপসাগরের তান্ডবলীলায় দর্শনীয় স্থান বিলীন হয়ে গেলেও দৃষ্টি নেই কর্তৃপক্ষের। এমন অভিযোগ করলেন স্থানীয়রা। কুয়াকাটার বেলাভুমি রক্ষায় বহুবার মিছিল, সমাবেশ আর মানববন্ধন করা হলেও তা কাজে আসছেনা।

স্থানীয়রা জানান, নয়নাভিরাম পরিবেশ আর সুর্য্যােদয় সুর্যাস্ত’র বিরল দৃশ্য উপভোগ করার তীর্থ স্থানে পরিনত হয়েছে অনেক আগেই। যেখানে সমুদ্রের গর্জন আর নৈস্বর্গিক দৃশ্য উপভোগ করতে হুমড়ি খেত ভ্রমন পিপাসুরা। সারাক্ষন কোলাহলপূর্ন থাকত দীর্ঘ বেলাভুমি। সেখানে এবার উল্টো চিত্র। প্রকৃতির বৈরী আচরন আর সমুদ্রের প্রবল ঢেউয়ের তোর একের পর এক লন্ডভন্ড করে দিচ্ছে সব কিছু। ফলে পর্যটক শূন্য হয়ে পরেছে দেশের বিপুল সম্ভাবনাময় এই সমুদ্র সৈকতটি। ফলে বেকার হয়ে পরেছেন এখানের পর্যটক নির্ভর হাজারো মানুষ।

শুটকি ব্যবসায়ী জামাল মাঝি জানান, ঘুর্নিঝড় রোয়ানুর পর ভাঙ্গনের তীব্রতা আরো বেড়েছে। এতে হারিয়ে গেছে মন জুড়ানো বনজ প্রেমী ফয়েজ মিয়ার ঐতিহাসিক সেই নারকেল বাগানের শেষ চিহ্নটুকু। হারিয়ে গেছে তাল বাগান, ঝাউবান, পিকনিক স্পট, শুটকি মার্কেটসহ নানা দর্শনীয় স্থাপনা। ভেঙ্গে যাচ্ছে কুয়াকাটা রক্ষা মুল বাঁধটিও। দোকান-পাট হারিয়ে এখন নিস্ব হয়ে গেছেন অনেকেই। বাকী অস্তিত্ব রক্ষায় সরকারের এখনই নজর দেয়ার দাবি জানালেন তিনি।
বন্যানিয়ন্ত্রন বাঁধ সংলগś স্থায়ী বাসিন্দা সেকান্দার গাজি জানান, স্থানীয় পানি উনśয়ন বোর্ড যে ব্লক বসিয়ে ভাঙ্গন চেষ্টা করছে তা কোন কাজেই আসছেনা। বরং ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। এতে করে তাদের মাঝে ভর করছে নানা অজানা আংতক। জান-মাল এখন উপরওয়ার কাছে ছেড়ে দিয়েছেন তারা। কুয়াটার ব্যবসায়ী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক অনন্ত মুখার্জী জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার যদি এখনই কার্যকরী ব্যবস্থা না নেন তাহলে অল্প দিনের মধ্যে মুল বেড়ি বাঁধ বিলীন হয়ে যাবে। তখন পানিতে একাকার হয়ে যাবে গোটা কুয়াকাটা ।

কুয়াকাটা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল মোতালেব শরীফ জানান, যারা হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এই কুয়াকাটাকে অপরুপ সাজে সাজিয়েছেন তারা এখন নানা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে না পারায় বেশ চিন্তিত বিনিয়োগকারিরা।

রাজশাহীর পর্যটক আমিনুল ইসলাম জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নত হলেও সৈকত ভাঙ্গন রোধ হয়নি। চারদিক আগোছালো পরিবেশ আর দর্শনীয় স্পটগুলো সমুদ্র গর্ভে চলে যাওয়ায় হতাশ তিনি। এতে করে দিনকে দিন পর্যটক শুন্য হয়ে যাচ্ছে । আর সরকারও হারাচ্ছে বিপুল পরিমান রাজস্ব।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *