শেবাচিমে ৯ মাসের অন্তসত্ত্বা রোগীর মৃত্যু : হাসপাতালে ভাংচুর

:: ৭১বিডি২৪ডটকম :: ব্যুরো প্রধান ::


বরিশাল


:: বরিশাল :: বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খাদিজা আক্তার (২৩) নামে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এতে তার গর্ভে থাকা শিশুসন্তানটিও ভূমিষ্ট হওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করেছে। মৃত্যুর খবের ক্ষুব্দ হয়ে রোগীর স্বজনরা ওটির প্রবেশদ্বার ভাংচুর করে। পাশাপাশি রোগীর স্বজন ও ইন্টার্নী চিকিৎসকের মাঝে মারামারির ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় হাসপাতালের পঞ্চম তলার গাইনী বিভাগের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) তে ওই রোগীর মৃত্যু হয়। মৃত খাদিজা (২২) ভোলা সদরের বাসিন্দা ও পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার পুলিশ কনস্টেবল মোহাম্মদ শাকিল এর স্ত্রী।

মোহাম্মদ শাকিল জানান, তার স্ত্রীর আগামী ২৬ মার্চ নির্ধারিত ডেলিভারির তারিখ ছিলো। কিন্তু আজ সকাল অসুস্থ হয়ে পড়লে ভোলার স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে কিছু ঔষধের প্রয়োজনীয়তায় সেখান থেকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় তলার লেবার ওয়ার্ডে বেলা ১২ টার দিকে ভর্তি করা হয়।

ভর্তির পর থেকে চিকিৎসকরা যা যা বলেছেন তাই করা হয়েছে জানিয়ে শাকিল বলেন,খাদিজার অবস্থা তেমন একটা ভালো না থাকায় বেলা ৩ টার দিকে ওটিতে নেয়ার কথা থাকলেও তা নেয়া হয়নি। অনেক অনুরোধে খাদিজাকে সন্ধ্যা ৬ টার দিকে পঞ্চম তলার ওটিতে নেয়ার কথা বলেন ওয়ার্ডের চিকিৎসকরা। সেখানে গিয়ে কোন চিকিৎসক না পেয়ে তৃতীয় তলায় লেবার ওয়ার্ডে এসে চিকিৎসকদের ওপরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানাই। এসময় চিকিৎসকরা দেরি করতে থাকলে তাদের সাথে বাকবিতান্ডা হয়। এক চিকিৎসককে ওপরে যাওয়ার জন্য টান দিলে তাৎক্ষনিক অন্য চিকিৎসকরা আমাকে মারধর শুরু করে। শত অনুরোধেও তারা আমাকে মারধর বন্ধ করে রোগীর কাছে যায়নি। ঘটনাচক্রে খাদিজা পেটে সন্তান নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। খাদিজার মৃত্যুর খবর শুনে আমার শ্যালক রিয়াজ উদ্দিন ক্ষুদ্ধ হয়ে অপারেশন থিয়েটারের সামনের একটি দরজার গ্লাস ভেঙ্গে ফেলে। তারপর শত অনুরোধেও শিশু সন্তানটিকেও বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি চিকিৎসকরা।

তবে এসব ইন্টার্ন ডক্টর্স এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডা: নাহিদ হাসান জানান, রোগীটি মূমুর্ষ অবস্থায় এখানে ভর্তি হয়। তার প্রেশার অত্যাধিক বেড়ে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রনের বাইরে ছিল। সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে প্রেশার নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য। কিন্তু রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকলে জরুরী ভিত্তিতে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। আর অপারেশন টেবিলে ওঠানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। যার কারণে বাচ্চাটিকেও বাঁচানো যায়নি। কিন্তু এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে রোগীর স্বজনরা অপারেশন থিয়েটার ভাংচুর ও ইন্টার্নী চিকিৎসকদের মারধর করে।

এই বিষয়ে অপারেশন থিয়েটারে থাকা শেবাচিম হাসাপাতালের গাইনী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা: ফরিদা জানান, খাদিজা এ্যাটলামসিয়া’র রোগী। তার প্রেশার অত্যাধিক বেশী ছিল। এই ধরনের রোগীর অবস্থা একটু ক্রিটিক্যাল হয়। চিকিৎসকদের কোনো গাফলতি ছিল না। টেবিলে ওঠানোর আগেই রোগীর মৃত্যু হয়।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *