শুভ জন্মদিন, হুমায়ূন আহমেদ!

:: ৭১বিডি২৪ডটকম :: অনলাইন ডেস্ক ::


হুমায়ূন আহমেদ!


আজ ১৩ নভেম্বর শুক্রবার বাংলাভাষা-সাহিত্যের জনপ্রিয় কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন৷ ১৯৪৮ সালের এই দিনে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম৷শিক্ষাজীবনে অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রাখার পাশাপাশি সাহিত্যেও অতুলনীয় পাঠকনন্দিত তিনি৷

তাঁকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী শ্রেষ্ঠ লেখক গণ্য করা হয়।তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার।বলা হয় আধুনিক বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের তিনি পথিকৃৎ।নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবেও তিনি সমাদৃত।তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই শতাধিক।বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক।এই কালপর্বে তাঁর গল্প-উপন্যাসের জনপ্রিয়তা ছিল তুলনারহিত।তাঁর সৃষ্ট হিমু ও মিসির আলি চরিত্রগুলি বাংলাদেশের যুবকশ্রেণীকে গভীরভাবে উদ্বেলিত করেছে।

তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘শঙ্খনীল কারাগার’৷তব গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশ পায় ‘নন্দিত নরকে’৷ এই দুটি অসাধারণ উপন্যাস লিখে পাঠক হৃদয়ে জায়গা করে নেন তিনি৷আর কোনদিন পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি৷গত প্রায় চার দশকে গল্প-উপন্যাস আর শিশুসাহিত্যসহ প্রায় দু’শতাধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে তাঁর৷ তাঁর অন্যতম উপন্যাস হলো নন্দিত নরকে, মধ্যাহ্ন, জোছনা ও জননীর গল্প, মাতাল হাওয়া ইত্যাদি। তাঁর নির্মিত কয়েকটি চলচ্চিত্র হলো আগুনের পরশমণি, চন্দ্রকথা, শ্যামল ছায়া, দূরত্ব, নয় নম্বর বিপদ সংকেত,দারুচিনি দ্বীপ, দুই দুয়ারী, শ্রাবণ মেঘের দিন, ঘেঁটুপুত্র কমলা ইত্যাদি।

তাঁর অন্যতম ধারাবাহিক নাটক এইসব দিন রাত্রি, বহুব্রীহি, কোথাও কেউ নেই, নক্ষত্রের রাত, অয়োময়, আজ রবিবার, নিমফুল, তারা তিনজন, আমরা তিনজন।

হুমায়ূন আহমেদের বাবা ফয়জুর রহমান ছিলেন পুলিশের কর্মকর্তা৷ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন তিনি৷ মা আয়েশা ফয়েজ৷ তাঁর তিন ছেলে ও তিন কন্যার মধ্যে জ্যেষ্ঠপুত্র হুমায়ূন আহমেদ৷

এই অপ্রতিদ্বন্দ্বী, পাঠকপ্রিয় সাহিত্যিক পেয়েছেন বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৮১), শিশু একাডেমী পুরস্কার, একুশে পদক (১৯৯৪),জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ কাহিনী ১৯৯৪, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ১৯৯৪, শ্রেষ্ঠ সংলাপ ১৯৯৪), মাইকেল মধুসুদন পদক (১৯৮৭), বাচশাস (১৯৮৮) পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননা৷

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে দীর্ঘকাল কর্মরত ছিলেন। লেখালিখি এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বার্থে তিনি অধ্যাপনা ছেড়ে দেন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী তাঁকে আটক করে এবং নির্যাতনের পর হত্যার জন্য গুলি চালায়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে যান।

২০১২ সালে নির্মিত ঘেঁটুপুত্র কমলা ছিলো হুমায়ূন আহমেদের পরিচালিত শেষ চলচ্চিত্র। দীর্ঘ নয় মাস মলাশয়ের ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে চিকিৎসাধীন  অবস্থায় ২০১২ সালের ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্কের বেলেভ্যু হসপিটালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

হুমায়ূন আহমেদ তার সৃষ্টির মাধ্যমে পাঠক ও দর্শক মনে যে স্থান তৈরি করেছেন, তা অভিন্ন ও অপরিবর্তনীয়। তিনি আজও বেঁচে রয়েছেন তার লেখা ও তার সৃষ্ট চরিত্রগুলোর মধ্যে।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *