শিশুদের লেখাপড়া বন্ধ! স্কুলের সকল কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিলেন সভাপতি, শিক্ষক নিয়োগের বিরোধ


শিশুদের লেখাপড়া বন্ধ! স্কুলের সকল কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিলেন সভাপতি, শিক্ষক নিয়োগের বিরোধ


পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চাকামইয়া ইউনিয়নের মৌলভীতবক বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শ্রেনীকক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সুলতান আহমেদ। বুধবার সকালে সভাপতির এমন কান্ডে হতবাক বনে গেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। অনিশ্চয়তায় পড়েছে শিশুদের লেখাপড়া। স্কুলে সভাপতির পছন্দের শিক্ষক নিয়োগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ কান্ড করেছেন সভাপতি সুলতান আহমেদ। এঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়েরে ছয়টি কক্ষেই তালা মারা রয়েছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে গেছে। কিছু শিক্ষার্থী বইখাতা নিয়ে বারান্দায় ঘুরছে। শিক্ষকরা বারান্দায় পায়চারী করছেন। তৃতীয় শ্রেণির ইয়াছিন, পঞ্চম শ্রেণির রুমাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষিকা সালমা পারভীন বাইরের বারান্দায় দাড়িয়ে আছেন। সালমা পারভিন জানান, সকাল নয়টায় স্কুলে এসে দেখি সব রুমে তালা মারা রয়েছে। তিনি সভাপতির নানা হয়রানির কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তাকে আর স্কুলে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেনীর শিশু আবু বকরের বাবা নুর জামাল জানান, সকালে ছেলেকে স্কুলে পাঠালে কিছু সময় পরে বাড়ি ফিরে যায়। পরে স্কুলে গিয়ে জানতে পারেন সভাপতি স্কুল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আলমগীর হাওলাদার জানান, সুলতান আহমেদ বুধবার সকালে সকল রুমে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন স্কুল বন্ধ থাকবে।

সুলতান আহমেদ বিষয়টি অস্বাীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ের দু’জন শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন। এতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এরা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। উপজেলা প্রাথমকি শিক্ষা অফিসার জালাল আহমেদ জানান, অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা নির্বহী অফিসার মহোদয় সরজমিনে তদন্তের নির্দেশনা দিয়েছেন। শিক্ষা সপ্তাহ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি। এক সপ্তাহ পরে বিষয়টি দেখব। অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


৭১বিডি২৪ডটকম/মো. ছগির হোসেন/কলাপাড়া (পটুয়াখালী) 

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *