রাষ্ট্রের স্বার্থকে সমুন্নত রাখতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

৭১বিডি২৪ডটকম । ঢাকা:


pm_hasinaপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের তিনটি অঙ্গের মাঝে সুষম সমন্বয়, সম্পর্ক ও সমঝোতা গড়তে হবে। জনস্বার্থের পক্ষে এ তিন অঙ্গের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে। রাষ্ট্রের স্বার্থকে সমুন্নত রাখতে হবে। রাষ্ট্রের বিভাগগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব আছে- এমন কথা আসা কারও জন্যই কাম্য নয়। আমি স্পষ্ট করতে চাই- রাষ্ট্রের সঙ্গে বিচার বিভাগের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। বিচার বিভাগ নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তা আলাপ-আলোচনা করে সমাধান করতে হবে।

শনিবার (১৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে দশটায় রাজধানীর কাকরাইলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের জন্য নবনির্মিত বহুতল আবাসিক ভবন উদ্বােধনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার পাশাপাশি সব শ্রেণির মানুষের অধিকার রক্ষার ব্যবস্থা করে গিয়েছিলেন। তাকে হত্যার মধ্য দিয়ে এদেশের অগ্রগতি থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি তাকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে না দিয়ে থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল ন্যায়বিচারের চাকাকেও।

তিনি বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের ব্যবস্থা করেছি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি। কয়েকজন পালিয়ে থাকলেও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বেশিরভাগের ফাঁসির রায় কার্যকরও হয়েছে। পলাতক বাকিদেরও ধরে আনার চেষ্টা চলছে। বেশ কয়েকজন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসিও কার্যকর হয়েছে। এসব বিচারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে।

বিচারপতিদের যুগান্তকারী রায় দেওয়ার মাধ্যমে এ অগ্রযাত্রা শুরু এবং সংশ্লিষ্টদের পদক্ষেপ নেওয়ায়, সহযোগিতা করায় অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নতুন আইন তৈরির সুদীর্ঘ প্রক্রিয়া তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আইন প্রণয়ন ও জাতীয় সংসদে চূড়ান্তভাবে তা পাস করেন সংসদ সদস্যরা। সবশেষে রাষ্টপতির অনুমোদনের পর সে আইন কার্যকর করা হয়। জনস্বার্থেই তাই সব আইন তৈরি হয়। এজন্য কোনো আইন নাকচ বা বাতিল করা হলে এতোদিনের পরিশ্রম ও উদ্যোগ পণ্ড হয়ে যায় বলে মন্তব্য করে এক্ষেত্রে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

পয়লা বৈশাখ নববর্ষে নাশকতার নানা হুমকি ছিল বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের উৎসবে যেন ভাটা না পড়ে, সে জন্য কিছু জানানো হয়নি। কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। নির্বিঘ্নে দিনটি পালিত হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নানা ধরনের হুমকি আমরা পেয়েছিলাম। তখন কাউকে বলিনি, অনেক ধরনের হুমকি আমাদের কাছে এসেছিল এটা হবে, ওটা হবে। কিন্তু আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা তারা এত সক্রিয় ছিলেন যে, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সমগ্র বাংলাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে আমাদের নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ কোনো ধর্মীয় বিষয় না। এটা আমাদের বাঙালিদের একটা ক্যালেন্ডার। সে অনুযায়ী আগের দিনের ব্যবসা-বাণিজ্য, হালখাতা অর্থাৎ সমস্ত দেনা পাওনা শোধ করে নতুন করে দেনা পাওনা পহেলা বৈশাখ থেকে শুরু হতো। এর সাথে আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটা মিল রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু খাটবো, কাজ করবো তা না, কিছু মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা যেন সবার থাকে। একটু স্বস্তি, শান্তিতে উৎসব করতে পারে, সেই সুবিধাও করে দেয়া হোক-এটাও প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।’ তিনি বলেন, ‘নববর্ষটা কিন্তু ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই পালন করে। তার জন্য আমরা নববর্ষ উদযাপনে ভাতার ব্যবস্থাও আমরা করে দিয়েছি যেন একসঙ্গেই সবাই এটা উদযাপন করতে পারে। আমাদের দেশে একটা নতুন উৎপাত তৈরি হয়েছে জঙ্গি সন্ত্রাসবাদ। এ থেকে আমরা দেশকে মুক্ত করতে চাই। এ জন্য আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

এসময় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আইনমন্ত্রী আনিসুুল হক, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, কাকরাইলে অডিট ভবনসংলগ্ন এলাকায় অতি পুরনো সার্কিট হাউস ভেঙে ১ দশমিক ৪৮ একর জমির ওপর একটি বেজমেন্টসহ ২০ তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। অত্যাধুনিক এ ভবনে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। ৩২ হাজার ৯০৯ দশমিক ০৮ বর্গফুট বেজমেন্ট ফ্লোরে ৬৭টি গাড়ি পার্কিং করা যাবে। ২০ হাজার গ্যালন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন দুইটি আন্ডাগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার রয়েছে। ২০ তলার ওপর ১০ হাজার গ্যালন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন দুইটি ওভারহেড ওয়াটার রিজার্ভার রয়েছে। এছাড়া রয়েছে পাঁচটি স্টোররুম, দুইটি পাম্প রুম ও তিনটি মেইনটেনেন্স রুম।

গ্রাউন্ড ফ্লোরের ফ্লোর এরিয়া ২৯ হাজার ৬২ বর্গফুট। এর ভেতরে ২০টি ও বাইরে ১৮টি কার পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ পুরো ভবনটিতে মোট ১০৫টি কার পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। ২ হাজার ৯২০ দশমিক ২৬ বর্গফুটের একটি মাল্টিপারপাস হল রয়েছে। এছাড়া রয়েছে গ্রান্ড লবি, জিমনেশিয়াম, লাইব্রেরি, হেলথকেয়ার সেন্টার। রয়েছে দুইটি রিসেপশন রুম, দুইটি অফিস রুম, একটি সাবস্টেশন রুম, দুইটি ড্রাইভারস রুম, তিনটি গার্ডরুম, একটি গার্বেজ কালেকশন রুম, দুইটি স্টোর রুম। ভবনটিতে সার্বক্ষণিক সেবা দেয়ার জন্য গণপূর্ত বিভাগের সাইট অফিস রুম (ই/এম ও সিভিল) রয়েছে।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *