রাঙ্গাবালীর চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটি জমি

৭১বিডি২৪ডটকম | করেসপন্ডেন্ট;


রাঙ্গাবালীর চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটি জমি


গলাচিপা(পটুয়াখালী): আগুনমুখা ও ডিগ্রী নদের অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হচ্ছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ভিটেমাটি ও ফসলি জমি। গত ৫০বছর ধরে ওই ইউনিয়নটিতে নদীভাঙন শুরু হলেও চলতি বর্ষা মৌসুমে এর ব্যাপকতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। গত দুই সপ্তাহে ডিগ্রীর ভাঙনে এ চালিতাবুনিয়া একটি প্রাচীন জামে মসজিদ, হেফজো খানা ও কবরস্থানসহ বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি ও অসংখ্য গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। লঞ্চ ঘাটের সাথে একটি সাইক্লোন সেল্টার ও উত্তরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ শতাধিক বাড়ি ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। নদী সংলগ্ন মানুষজন ভাঙন আতঙ্কে থাকলেও ভাঙনরোধে সরকারি কোনো উদ্যোগ নেই।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ডিগ্রী ও আগুন মুখা নদে চলতি বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ও প্রবল চাকে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত ৫০ বছরে নদের ভাঙনে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের বিশাল অংশ নদী ইতিমধ্যেই গ্রাস করে নিয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকির মুখে থাকা শতাধিক পরিবার তাঁদের ঘরবাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন। ভাঙনের কারণে কয়েক দফা ঘরবাড়ি সরিয়ে নেয়ায় অনেকেই নিঃস্ব হয়েছেন। সরকারের কাছে অনেক আবেদন নিবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেছেন।

চালিতাবুনিয়া গ্রামের মোঃ মাহাউদ্দিন, ডিটু, বরকত, সাইফুল, নিশাত, হুমায়ুন হাওলাদার, জাহিদ চৌকিদার, নিজামসহ গরুভাঙা গ্রামের মনজু হাওলাদার, জুয়েল, সোহাগ মুফতি, মামুন হাওলাদার, সোনা হাওলাদার, মোবারক হাওলাদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের গ্রামে নদীভাঙন চলছে। উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত নেয়া হয়নি। চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের নদীভাঙন কবলিত এলাকার লোকজন মোঃ হানিফ হাওলাদার, বাক্কু হাওলাদার, নকু হাওলাদার, অরুন, সোহেল, লোকমান, সাহাবুদ্দিন, খোকা বলেন, ‘বাড়িঘর ভাইঙা সরানো অনেক কষ্ট। দুইবার কইরা ভাঙছি আবার তুলছি। আবার ভাঙতে ভাঙতে নদী বাড়ি কাছে চইলা আইছে। অহন আবার ভাঙন লাগবো।

ভাঙনে বিলীন হওয়া মসজিদের ইমাম মোঃ ইব্রাহিম ইসলাম বলেন, ১৯৫৫ সালে এখানে মসজিদটা স্থাপিত করা হয়েছিল। আগুন মুখার ডিগ্রী নদের প্রবল ভাঙনের ফলে মসজিদ অর্ধেক ভেঙে গেছে। যার ফলে মসজিদটা এখান থেকে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে।

চালিতাবুনিয়া উত্তরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ বাদল হাওলাদার বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এখন একদম হুমকির মুখে। শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমি অনেক সমস্যায় আছি। একটা বড় ভাঙন দেখা দিলে শিশুরা দৌড়ে ওই জায়গায় যায়। হঠাৎ একটা এক্সিডেন্ট হয়ে গেলে আমি কি করমু।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *