মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ১০:৪১ অপরাহ্ন
নোটিশ বোর্ড :
দেশের সকল বিভাগের জেলা, উপজেলা, থানা পর্যায়ে প্রতিনিধি আবশ্যক আগ্রহী প্রার্থীগন আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। মোবাইল নম্বরঃ +8801618833566, ইমেইলঃ 71bd24@gmail.com

যে ৭টি কারনে হেপাটাইটিস হতে পারে

রিপোর্টার / ৮৭২ শেয়ার
আপডেটের সময়ঃ শুক্রবার, ২৩ মার্চ, ২০১৮

:: ৭১বিডি২৪ডটকম :: অনলাইন ডেস্ক ::


যে ৭টি কারনে হেপাটাইটিস হতে পারে


জন্ডিসকে আমরা অনেকেই রোগ মনে করি। কিন্তু আসলে জন্ডিস কোন রোগ নয়। বরং এটি রোগের লক্ষণ। জন্ডিস হলে ত্বক, চোখ অথবা মিউকাস মেমব্রেন হলুদাভ হয়ে যায়। জন্ডিসের অন্যতম প্রধান একটি কারণ হচ্ছে ভাইরাসজনিত হেপাটাইটিস বা লিভারের প্রদাহ।

হেপাটাইটিস কি?

সাধারণত লিভার বা যকৃতে inflammation বা প্রদাহ হলে তাকে হেপাটাইটিস বলা হয়। হেপাটাইটিস দুই ধরনের হয়। acute বা তাৎক্ষনিক এবং chronic বা দীর্ঘমেয়াদি । ক্রনিক হেপাটাইটিসে লিভারের স্থায়ী পরিবর্তন হয়ে যায়। এটা থেকে পরবর্তীতে ক্যান্সার কিংবা লিভার সিরোসিস-এর মতো জটিল রোগ হতে পারে।

হেপাটাইটিস কেন হয়?

হেপাটাইটিসের প্রধান কারণ হচ্ছে জীবাণু (যেমন : ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি)-এর সংক্রমণ। এছাড়া এলকোহল, ড্রাগস বা ওষুধ ও মেটাবলিক কারণেও হেপাটাইটিস হতে পারে। ভাইরাল হেপাটাইটিসের ক্ষেত্রে ভাইরাস শুধুমাত্র লিভারের কোষকে আক্রমণ করে। হেপাটাইটিস’এ’, ‘বি’ ও ‘ই’ ভাইরাস একিউট এবং হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ দিয়ে ক্রনিক হেপাটাইটিস হয়ে থাকে। সবেচেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে হেপাটাইটিস-সি। কারন এর প্রতিরোধে কোন ভ্যাকসিন এখনো তৈরি হয়নি।

হেপাটাইটিস কিভাবে হয়?

১. হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ পানিবাহিত ভাইরাস। রাস্তার পাশের পানি, আখের রস কিংবা অন্য কিছু খেলে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।

২. হেপাটাইটিস ‘বি’ এবং ‘সি’ ভাইরাস দু’টি রক্ত এবং দেহরস (যেমন- সিরাম, বীর্য ইত্যাদি) এর সংস্পর্শে এলে হয়ে থাকে।

৩. হেপাটাইটিস ‘বি’ এবং ‘সি’ ভাইরাস মা থেকে শিশুর দেহে সংক্রমিত হতে পারে। মায়ের শরীরে যদি হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাস থাকে, তবে বাচ্চার হেপাটাইটিস ‘বি’ সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। এই সংক্রমণ সাধারণত জন্মের সময় হয়ে থাকে।

৪. রক্ত পরিসঞ্চালন করলে অথবা রক্তের অন্যান্য উপাদান (যেমন: সিরাম) গ্রহণের ফলে।

৫. অনিরাপদ যৌনমিলন, মাদক ব্যবহার, সংক্রমিত সুঁচ এবং সিরিঞ্জ ব্যবহার কিংবা  আক্রান্ত ব্যক্তির রেজার ও ব্রাশ ব্যবহার করলে হতে পারে।

৬. অনভিজ্ঞ ও হাতুড়ে দন্ত চিকিৎসক দ্বারা দাঁতের চিকিৎসা করা বা দাঁত উঠানো।

৭. অসতর্কভাবে নাক ও কান ফোঁড়ানো এবং শরীরে ট্যাটু আঁকা।

কাদের হেপাটাইটিস টেস্ট করা উচিত?

১. যদি পরিবারের কারো হেপাটাইটিস বা যকৃতের রোগ হয়ে থাকে

২. যাদের জীবনে কোনো সময় জন্ডিস হয়েছিল

৩. মায়ের হেপাটাইটিস থাকলে সন্তানের

৪. মাদকাসক্ত ব্যক্তি

৫. যাদের রক্ত পরিসঞ্চালনের পূর্বে যথাযথ পরীক্ষা করা হয় নাই

৬. চিকিৎসা সেবার সাথে সংশ্লিষ্ট লোকজন

৭. অস্বাভাবিক শারীরিক দুর্বলতা এবং ওজন হ্রাসের অন্য কোনো ডাক্তারি কারন পাওয়া না গেলে

৮. অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক স্থাপনকারী।

হেপাটাইটিস বি এর টিকা না নেয়া থাকলে আপনি আজ-ই HBsAg পরীক্ষা করে নিন। যদি এখনও সংক্রমিত না হয়ে থাকেন তবে অতি দ্রুত হেপাটাইটিস-বি এর প্রতিষেধক টিকা নিন। হেপাটাইটিস ‘বি’ সংক্রমণ থেকে রেহাই পেতে প্রতিরোধই একমাত্র উপায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ