‘যমজ সন্তানের পৃথক বাবা’ কিভাবে সম্ভব হলো?

যমজ সন্তান হওয়া মানেই উভয়ের একই ধরনের চেহারা ও অন্যান্য বিষয়ে দারূণ মিল, এমনটাই সাধারণত দেখা যায়। কিন্তু এটিই একমাত্র কথা নয়। যমজ সন্তানের চেহারাও পৃথক হতে পারে। এমনকি তাদের বাবাও ভিন্ন হতে পারে। বিরল হলেও এমন ঘটনা দেখা গিয়েছে ভিয়েতনামে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ইনডিপেনডেন্ট।

সম্প্রতি ভিয়েতনামের হোয়া বিনহ প্রদেশে যমজ শিশু জন্ম হয়েছে। কিন্তু মজার বিষয় হলো তাদের বাবা দুজন! এটাও কী সম্ভব। ডিএনএ পরীক্ষার আগে বিষয়টি কেউ বিশ্বাস করেনি। কিন্তু ডিএনএ পরীক্ষার পর বিষয়টি প্রমাণিত হলে এর কারণ অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে বিরল এ ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।

ভিয়েতনামের ওই দম্পতি হাসপাতাল থেকে বাচ্চা নিয়ে ফেরার পর থেকে একটু সন্দেহে ছিলেন। কারণ দুই শিশুর শারীরিক গঠন ও চুল একেবারেই ভিন্ন ছিল। এক শিশুর চুল ঘন ও কোকড়ানো। অন্য শিশুটির চুল পাতলা ও সোজা।

ওই দম্পতি সন্দেহ করছিলেন, হাসপাতালে হয়তো কোনোভাবে তাদের একটি শিশুর বদলে অন্য একটি শিশু দেওয়া হয়েছে। সেই সন্দেহ কাটাতে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন তারা। ডিএনএর ফল দেখে তারা বিস্মিত হন। দুই শিশুর মা একজন হলেও বাবা দুজন!

যেভাবে একই মায়ের গর্ভে দুজন পৃথক বাবার সন্তান
ভিয়েতনামে এটাই প্রথম এ ধরনের ঘটনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা দুর্লভ হলেও অসম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

নিউ ইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হসপিটালের ধাত্রীবিদ্যা বিভাগের পরিচালক ড. কিথ ইডলম্যান বলেন, একজন নারী অল্প সময়ের মধ্যে দুজনের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করলে এটা সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, নারীর ডিম্বাণু ১২ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। পুরুষের শুক্রাণু সক্রিয় থাকে সাত থেকে ১০ দিন পর্যন্ত। তাই এই সময়ের মধ্যে ভিন্ন পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক হলে যমজ শিশুর বাবা দুজন হওয়া সম্ভব।

এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, সে সময় নারীর যদি দুটি ডিম্বাণু হয়ে থাকে এবং প্রথমজনের সঙ্গে সম্পর্কের পর একটি ডিম্বাণু নিষিক্ত হয় এবং দ্বিতীয়জনের সঙ্গে সম্পর্কের পর দ্বিতীয় ডিম্বাণুটি নিষিক্ত হয় তাহলে এটি সম্ভব।

গবেষকরা জানাচ্ছেন, মানুষের মাঝে এটি বিরল হলেও বিভিন্ন প্রাণীর মাঝে এটি স্বাভাবিক ঘটনা। বিশেষ করে কুকুর, বিড়াল, গরু ইত্যাদি প্রাণীর মাঝে প্রায়ই এমন ঘটনা দেখা যায়।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *