মৌমাছি আর মৌচাক দেখা মিলছে না গ্রামগঞ্জে

৭১বিডি২৪, কলাপাড়া॥

স্বার্থপর মানুষের অবিবেচনায় প্রকৃতির আর সব পতঙ্গের সাথে সাথে এখন প্রাকৃতিক মৌমাছিও হারিয়ে যেতে বসেছে। প্রকৃতির ও মানুষের বন্ধু মৌমাছির ঐক্যবদ্ধ অবস্থান আগের মতো আর চোখে পড়ে না। আগে বাংলাদেশের সব জায়গায় দেখা যেত মৌমাছির মৌচাক। এখন গ্রামগঞ্জ শহরে আর তেমন দেখা মিলছে না মৌমাছি আর মৌচাক। মুক্ত মৌমাছির ভোঁ-ভোঁ শব্দ শুনতে পাওয়া যায় না। দেখতে পাওয়া যায় না ছোটদের মৌচাকে ঢিল মারার দৃশ্য।
মৌমাছির প্রজনন বৃদ্ধি ও বসবাসের পরিবেশের অভাবে মৌমাছি ও মৌচাক হারিয়ে যাচ্ছে দিনে দিনে এদেশ থেকে। নব কৃষ্ণ ভট্টাচার্যের বিখ্যাত শিশুতোষ কবিতা “মৌমাছি মৌমাছি কোথা যাও নাচিনাচি- দাঁড়াও না একবার ভাই/ওই ফুল ফোটে বনে, যাই মধু আহরণে, দাঁড়াবার সময়তো নাই”। এখনও পাঠ্য পুস্তকে আছে বৈকি, বাস্তবে মেলা ভাড়, তবে তার অর্থবহতা আর নেই।
সেই বন আর নেই। তাই সেখানে আর ফুল ফোটে না। গুনগুনিয়ে মধু আহরণে যাবার সুযোগও সংকুচিত হয়েছে মৌমাছির। অন্যদিকে দাঁড়াবার জায়গা কোথায় আছে আর মৌমাছিদের। মাঠের ধানের সেই বড় ছায়াদার বৃক্ষতো সেই কবেই গিলে ফেলেছে ইটভাটা। অথচ চোখটা বন্ধ করে মনের জানালা খুলে একবারে নিকট অতীতের দিকে তাকালে বিলের গ্রামে-মাঠে-গেরস্থের বাড়ির পাশের গাছটিতেও ফসলের মৌসুম তো বটেই, অমৌসুমেও মৌমাছিদের চাক দেখা যেত। আগের দিনে বিশেষ করে রবি ফসলের মৌসুমে মৌমাছিদের দেখা মিলতো খুব। মৌমাছিরা এ সব ফসলের পরাগায়ন ঘটায়। আর ফলের মৌসুমেতো মৌমাছিদের জয়জয়কার। প্রায় সব ফলেরই পরাগায়ন ঘটে মৌমাছির মাধ্যমে। মৌচাক থেকে মাসে দুইবার মধু সংগ্রহ করা যায়। একটি মৌচাক থেকে প্রতিবার ৫/৬ কেজি মধু সংগ্রহ করা যায়। সর্বগ্রাসী গুনের প্রাকৃতিক এই নির্যাস।
কলাপাড়া উপজেলার বালিয়াতলী ইনিয়নের লেমুপাড়া গ্রামের মধু সংগ্রহকারী শাহা আলি বলেন, আগে মধু সংগ্রহ করে সংসার ছেলে-মেয়ের লেখা-পড়া সবই চলত। বর্তমানে আমি এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশা মানে কৃষি কাজ করে মোটামুটি ভালই আছি। এখন ১০-১৫ দিন ঘোরাফেরা করেও একটি মৌচাক খুঁজে পাচ্ছেন না। যদিও বা কোথাও পাওয়া যায় তা আকারে অনেক ছোট তাতে মধুর পরিমাণও খুবই কম থাকছে। আগে যেমন বড় বড় মধুর চাক পাওয়া যেত, তাতে মধুর পরিমানও বেশি দেশে সাধারণত তিন জাতের মৌমাছি দেখা যায়, এর মধ্যে পাহাড়িয়া, খুদে ও খুড়লে। পাহাড়ীয়া মৌমাছিরা সাধারণত বড় বড় গাছের মগডালে, উঁচু পানির ট্যাংকের উপরে ও বড় বড় ঘরের উপরে চাক বাঁধে। খুদে মৌমাছি ছোট ছোট ঝোপঝাড়ে সাধারনত চাক বেঁধে থাকে আর খুড়ুলে মৌমাছি বড় বড় গাছের খোড়লে চাক বাঁধতে পছন্দ করে। মৌমাছি আর মৌচাক হারিয়ে যাওয়ার বড় কারন হলো প্রাকৃতিক দূর্যোগ,তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বসবাসের উপযোগি পরিবেশের অভাব, খাদ্যের অভাব, ফসলে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকের প্রয়োগ,আনাড়ি মধু সংগ্রহকারীদের মৌমাছি পুড়িয়ে হত্যা করাসহ নানাবিধ কারনে মৌমাছি ধ্বংস হয়ে মৌচাকের দেখা মিলছেনা।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *