মির্জাগঞ্জে হারিয়ে যাচ্ছে মধুবৃক্ষ খেজুর গাছ

৭১বিডি২৪ডটকম | সোহাগ হোসেন;


মির্জাগঞ্জে হারিয়ে যাচ্ছে মধুবৃক্ষ খেজুর গাছ


মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী): কালের বিবর্তনে ঐতিহ্যবাহী গ্রাম বাংলার মধুবৃক্ষ খেজুর গাছ হারিয়ে যাচ্ছে। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে যে, কালের বিবর্তনে বিগত এক থেকে দেড় দশকের মধ্যে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্য বাংলার মধুবৃক্ষ খেজুর গাছ। এই বৃক্ষ হারিয়ে যাওয়ার ফলে দেখা দিয়েছে খেজুর রসের ব্যাপক সংকট। যার ফলে গাছ কাটা গাছিরা আর আগের মতো তেমন করে খেজুর গাছ কাটতে পারছেনা। আর এ কারনেই নতুন প্রজন্ম চিনছেনা তেমন খেজুর রস বা রস দিয়ে তৈরি রসালো নানান মুখরোচখ খাবার খাওয়ার মজা। আজ থেকে ১২ বছর আগে দেখা গেছে এলাকার গাছিরা গাছ কেটে গাছে মাটির তৈরি হাড়ি বসিয়ে রস সংগ্রহ করে তা দিয়ে জ্বালিয়ে গুর বা বাটালি তৈরি করছে। গ্রামের লোকজন ওই নতুন বাটালি ক্রয় করে শীতের বিভিন্ন পিঠা, পায়েশ তৈরি করে নবান্ন উৎসব পালন করেছে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই কেউ কেউ আবার টাটকা রস খাওয়ার জন্য দৌড়াতো গাছির বাড়ি অথবা দাড়িয়ে থাকত গাছে কাছে কখন গাছ থেকে রস নামাবে গাছি আর ঠিক তখনই খাবে টাটকা রস। যদিও মির্জাগঞ্জ উপজেলায় গ্রামে- গঞ্জে কিছু খেজুর গাছ মেলে তবুও তার সংখ্যা আগের তুলনায় একেবারেই নগন্য। শীত বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাছিরা গাছ কাটাকে একটা শৈল্পিক কাজ মনে করেন। গাছিরা সাধারনত বিকেলে গাছ কেটে গাছের মুখে হাড়ি পেতে দিয়ে আসে। সকাল হলেই গাছিরা ছুটে যায় গাছের গোড়ায়। গাছে পুনরায় উঠে নামিয়ে নিয়ে আসে এক হাড়ি টাটকা খেজুরের রস। পরিপুর্ণ এক হাড়ি দেখে গাছের উঠার কষ্ট ও গাছ কাটার কষ্ট ভূলে গাছির মুখে দেখা যায় শীতের সকালে মৃদু এক ঝলক হাসি। তালতলী এলাকার গনি খা গাছি জানান, বর্তমানে খেজুর গাছের ব্যাপক সংকট। আগে এক সময় শতাধিত গাছ কাটতাম এখন মাত্র ৫/৬ টি গাছ কাটি মাত্র। যার জন্য আগের মতো আর গাছ না থাকায় আমাদের আয় উপার্জনও কমে গেছে। মির্জাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব সুবিদখালী গ্রামের গৌতম গাছি জানান, আমরা ১২/১৫ বছর আগে গাছ কেটে যে রস পেতাম সে রস জ্বাল দিয়ে গুড় ও পাটালি তৈরি করে প্রচুর টাকা রোজগার করতাম যা দিয়ে সুন্দরভাবে সংসার পরিচালনা করতাম। কালের বির্বতনে সে গাছ আর নেই, গাছ কাটার সে আনন্দ আর পাচ্ছিনা। যে গাছ আছে তা একটু বড় হলেই ইট ভাটার কাজে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি আরোও বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য এবং ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য সকলে একযোগে খেজুর চারা রোপন করলে দেশে আবারও আগের মতো সেই রস পেত আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। আমরা আবার ফিরে পেতাম সেই ঐতিহ্য বাহী খেজুর রস।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *