মির্জাগঞ্জে বিনা দরপত্রে ৭টি সেতু ভাগ-বাটোয়ারার অভিযোগ

সোহাগ হোসেন, (মির্জাগঞ্জ)পটুয়াখালী :

পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ১১টি সেতু নির্মাণ কাজ চলছে। এর মধ্যে ৭টির সেতুর কাজ বিনা দরপত্রে পছন্দের ঠিকাদারদের দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও সিডিউল মোতাবেক কাজ না হওয়ার অভিযোগ উঠছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ঠিকাদার বলেন ০৪/০৩/২০১৬ইং তারিখ ৪টি সেতু নির্মাণ দরপত্র আহźান করে এবং লটারির মাধ্যমে ৪ জন ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। অন্যদিকে একই দিনে অনৈতিকভাবে ৭টি সেতুর ঠিকাদারদের কাছ থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম মিয়া ৩ লক্ষ টাকা করে মোট ২১ লক্ষ টাকা উৎকোচ নিয়ে দরপত্র আহźান না করে গোপনে পছন্দের ঠিকাদরদের ৭টি সেতু ভাগ বাটোয়ারা করে দেন। গত সোমবার দুপুর ২টায় সরেজমিনে দেখা যায় উপজেলা ডোকলাখালী গ্রামে মাওঃ মোসলেম উদ্দিনের বাড়ি সংলগś খালের উপর সেতুর উপরে স্লাব ঢালাইয়ের কাজ চলছে। সেখানে নিমśমানের এবং সিডিউল মোতাবেক কাজ না হওয়ায় এলাকার লোকজনের বাঁধার মূখে কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে ঠিকাদার মোঃ রিপন মিয়ার সাথে মুঠোফোনে (০১৭১৭৫৬১৪৩৮) যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করে নাই। সেখানে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের এমএলএস সঞ্চয় মালী বসা ছিলেন। তাকে জিজ্ঞেস করলে বলেন স্যার আমাকে পাঠিয়েছে। আমি কাজের কিছু বুঝি না। পরে কাজে নিয়োজিত সুপারভাইজার ও তদারকী কর্মকর্তা মলয় বাবু বলেন ঠিকাদার প্রভাবশালী আমি নিরুপায়। এছাড়াও কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের ˆবদ্যপাশা ওয়াজেদ মাষ্টারের বাড়ির পূর্ব পাশে খালের উপর সেতু নির্মাণ নিচের অংশের সিসি ঢালাইয়ের কাজ চলছে। কাজের মান খারাপ হওয়ায় অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ শতশত লোকজন উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ করে এবং ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ করে দেয়। সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কোন প্রতিনিধি ছিলনা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে বার্ষিক উনśয়ন কর্মসূচীর আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে গ্রামীন রাস্তায় সেতু কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদিত হয়। মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ১ কোটি ১৫ লক্ষ ৪ হাজার ২৭৮ টাকা ব্যয়ে ৪টি সেতু দরপত্রের আহবান করে এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় লটারী অনুষ্ঠিত হয়। এই ৪টি সেতুর নির্মাণ ব্যয় ও তালিকাসহ নোটিশ বোর্ডে টানানো ছিল। বাকি ৭টি সেতু যার প্রকল্প মূল্য ২ কোটি ২৪ লক্ষ ৭৩ হাজার ৭৫৫ টাকা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের মধ্য ভাগ বাটোয়ারা করে দেয় এবং ঐ ৭টি সেতুর তালিকা নোটিশ বোর্ডে টানানো ছিলনা।
প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি কোন ঠিকাদারের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণ করিনি। ১১টা ব্রিজের কাজ প্রায় শেষের পথে । এগুলো নিমার্ণে কোন অনিয়ম হয়নি। তবে কিছু অনিয়মের কথা তিনি স্বীকার করে বলেন, দুই একটি ব্রিজে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে তা রেক্টিফাই করে পুনঃরায় কাজ করিয়েছি।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *