মাদকে ভাসছে গলাচিপা

গলাচিপা(পটুয়াখালী):

মাদকের নেশায় ‘বুদ’ হয়ে থাকছে গলাচিপার উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্ন শ্রেনীর হাজারো মানুষ।

মাদকের নেশার তালিকায় রয়েছেন সরকারী কর্মকর্তা, শিক্ষক, ডাক্তার, ছাত্র, ছাত্রী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষ। বর্তমানে গলাচিপাতে হাত বাড়ালেই মিলছে বিভিন্ন প্রকারের মাদক দ্রব্য।

তবে ফেনসিডিল, ইয়াবা আর গাঁজার চাহিদা গলাচিপাতে বেশী বলে এক অনুসন্ধানে জানাগেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় মাদকদ্রব্য বিক্রি ও সেবন হলেও তারা দেখেও না দেখার ভান করেন।

ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গলাচিপাতে মাদকের ব্যবসা করছেন এমন তথ্যও পাওয়া গেছে। তাছাড়া পুলিশকে ম্যানেজ করে মাসের পর মাস মাদক ব্যবসা করছে অনেকেই। মাদক বিক্রির তালিকায় প্রভাবশালী পরিবারের সন্তানেরা জড়িত বলে জানাগেছে। প্রভাবশালীদের কারনেই প্রশাসন রয়েছে ‘নিরব’।

দিনের পর দিন প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চলে আসার কারনেই গোটা গলাচিপাজুড়ে এখন মাদকে সয়লাব হয়ে আছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে মাদকসেবীর সংখ্যা। ফলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন অভিভাবকেরা।

মাদক বিক্রি ঠেকাতে কয়েকজন উদ্যোগ নিলেও প্রভাবশালীদের কারনে তা ভেস্তে গেছে। গলাচিপার টিএনটি রোড ও গলাচিপা কোর্টের সামনে নার্সারিকে মাদকের আখড়া বলে অভিহিত করেছেন অনেকেই।

নামপ্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি বলেছেন, গলাচিপাতে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি মাদকের ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে। তাছাড়া মাদকের ব্যবসায় লগ্নি আছে বেশ কয়েকজনের। মূলত প্রভাবশালী কয়েক ব্যক্তির টাকায় কেনা হয় মাদক। আর ডেলিভারী ম্যানের সাহায্যে মাদক বিক্রি হয় বিভিন্ন স্পটে।

প্রতিদিন গড়ে কয়েক লাখ টাকার মাদক বিক্রি হয় গলাচিপাতে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, গলাচিপাতে মাদক দ্রব্য আসে যশোর, বরিশাল, ঝিনাইদহ থেকে। যশোর-ঝিনাইদহ থেকে বরিশাল হয়ে রামনাবাদ নদী পার হয়ে গলাচিপাতে আসছে মাদক। যশোর অঞ্চল থেকে ফেনসিডিল বেশী আসলেও ফরিদপুর থেকে আসে ‘ইয়াবা’ আর ‘গাঁজা’। গলাচিপাতে ফেনসিডিলের চেয়ে এখন ইয়াবার বিক্রি বেশী বলে জানাগেছে।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, যারা কিছুটা বিত্তশালী তারাই ফেনসিডিলের দিকেই ঝুঁকে রয়েছে। আর ‘ইয়াবা’ ‘গাঁজা’র দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় এ দুটি মাদকের দিকে নজর সবার।

গলাচিপার একাধিক স্পটে মাদক দ্রব্য বিক্রি হয় বলে জানাগেছে। পৌর এলাকার আরৎ পট্টি শশ্বান ঘাট, সিদ্দিক প্যাদা রোডে, আরামবাগ, টিএনটি রোডে, কোর্টের সামনে নার্সারীতে, হাসপাতালের আশপাশে, হরিদেবপুর বাসষ্টশন সংলগ্ন এলাকা, স্নান ঘাটে, শ্যামলীবাগ, ফিডার রোডে চৌকিদার বাড়ি, সাবরেজিস্ট্রার অফিসের মধ্যে, ওয়াপদা মোড়, মাইক্রোস্ট্যান্ড, বাসস্ট্যান্ডসহ একাধিক স্পটে প্রকাশ্যেই মাদকের ব্যবসা হচ্ছে।

তাছাড়া অনেকেই পুলিশী ঝামেল এড়াতে ভ্রাম্যমান থেকে মাদক বিক্রি করে আসছে। টিএনটি রোডে ৮ জন, ফিডার রোডে ৬ জন, স্যামলী বাগ ৩ জন, রুপনগরে ৫জন, ওয়াবদায় ৯জন মাদক দ্রব্য বিক্রির নিয়ন্ত্রন করে থাকে। তাছাড়া পৌর এলাকার বেশ কিছু ব্যক্তি জড়িত রয়েছে মাদক ব্যবসার সাথে। পুলিশকে ম্যানেজ করে মাদক ব্যবসা চলে গলাচিপাতে এমন অভিযোগও রয়েছে।

ফলে গলাচিপাতে মাদকে সয়লাব হলেও মাদক ব্যবসায়ীরা থাকেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। গলাচিপাতে মাদকের ভয়াবহতা দিনকে দিন বাড়তে থাকায় উদ্বিগ্ন রয়েছেন অভিভাবকেরা। মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে আইনের আওতায় আনার দাবী সচেতন গলাচিপাবাসীর।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *