মাদকের ছোবলে নীল, গলাচিপা যেন দেখার কেউ নেই?

৭১বিডি২৪.কন | করেসপন্ডেন্ট;


মাদকে ভাসছে গলাচিপা


গলাচিপা(পটুয়াখালী): গলাচিপাজুড়ে গাঁজার পাশাপাশি যুব সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে বাবা নামের ইয়াবা ট্যাবলেট। জীবনকে বেশি আনন্দময় করতে ইয়াবা নামের মাদক ট্যাবলেট কিনে সেবন করছে যুব সমাজ। ইয়াবা নামের মাদক বাবার দখলে উপজেলার প্রতিটি ছোট-বড় বাজার ও গ্রামগঞ্জ। বাবার নীল ছোবলে ধ্বংস হচ্ছে গলাচিপার যুব সমাজ। এ ছাড়া মাদকাসক্ত পরিবারে অশান্তি বাড়ছে বলে একাধিক ভুক্তভোগি পরিবার জানায়। অন্যান্য মাদকের চেয়ে বাবা নামের মাদক বহনে সহজ, তাই তারা বেছে নিয়েছে এ পেশা। অল্প দিনেই অবৈধ পথে আসা এ মাদক যুব সমাজের মন কেড়েছে। তাই নেশায় আসক্ত যুবকরা ইয়াবা নামের ট্যাবলেটকে আদর করে বাবা ডাকে বলে জানা যায়।

জানা যায়, কথিত ইয়াবা নামের মরণ নেশা মাদক বাবার ছোবলে যুব সমাজ মনের অজান্তেই নিজেকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। সেই সাথে নেশার টাকা জোগাতে সর্বশান্ত করছে পরিবারকে। মাদকাসক্তরা দিনে একটি করে বাবা নেশা ব্যবহার শুরু করে, অল্পদিনের ব্যবধানে তাদের দিনে ৫/৬টি করে কিনে খেতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রতিটি ট্যাবলেটের মূল্য কমপে ৫শ’/৬শ’ টাকা বলে জানা যায়। ওই টাকা জোগাতে অনেক সময় মাদকাসক্তের হাতে পরিবারের অনেকেই লাঞ্ছিত, কখনো চুরি, ছিনতাই এমনকি খুন হচ্ছে।

এ ছাড়াও মাদকাসক্তরা নেশার টাকা জোগাতে কখনো কখনো নিজ ঘরের পরিবারের শখের মূল্যবান জিনিসপত্র বিক্রি করে নেশার টাকা জোগাড় করে বলে ভুক্তভোগি পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন। মাদকাসক্ত পুত্রের অত্যাচারে অশান্তিতে থাকা পরিবারের লোকজন নিরুপায় হয়ে আদরের সন্তানকে পুলিশ দিয়ে আটক করে বা মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে রেখে দিচ্ছে। এমন ঘটনা আমাদের সমাজে অহরহ ঘটে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদকাসক্ত জানান, শুরুতে আনন্দের সাথে বন্ধু-বান্ধবের পালায় পড়ে বিয়ে বাড়িতে গিয়ে, বিভিন্ন পার্টিতে গিয়ে নেশা শুরু করি। ওই মরণ নেশা ব্যবহারে মন ও শরির দুটোই ভালো থাকতো বলে জানায় তারা। কিন্তু পরে দেখি রাতে ঘুম বলে কি জিনিস তা বুঝতে পারতাম না। সারা রাত জেগে থাকতে কোন ক্লান্তি বোধ হতো না। দু-তিন সপ্তাহ একাধারে খাবার পর একটি ট্যাবলেট খেয়ে আর ভালোলাগে না, তখন দিনে দুটি খেতে হয়। তিন থেকে ছয় মাস নেশার বয়স হলে দিনে ৫-৬টি ট্যাবলেট লাগছে।

আসক্তরা আরো জানায়, ওই ট্যাবলেট প্রতিদিন কিনে খেতে না পারলে কিছুই ভালো লাগে না, শরিরে ব্যাথা অনুভব হয়। মনে হয় দুনিয়াটা অন্ধকার। খেলেই মনে অনেক শান্তি পাই। কমে যায় ক্লান্তি। তাই ইয়াবাকে ভালোবেসে আসক্তরা বাবা বলেই ডাকে। আরো জানায়, শুরুতে যারা নেশায় আসক্ত হয়েছিল, তারা এখন নিজেরাই ব্যবসায়ী সেজেছে। ওই নেশায় আসক্তরা পরিবার থেকে টাকা জোগার করতে না পেরে বাধ্য হয়েই ব্যবসা শুরু করেছে। নিজেদের বন্ধু-বান্ধবদের মাঝে বিক্রি করে একসাথে খাওয়া হয় আর লাভের টাকায় নিজের নেশাও চলে।

অনেক নামি-দামি পরিবারের যুবকরাও বাবা নেশায় আসক্ত হয়ে ভদ্রবেশে রাজনৈতিক দলের নেতা ও ক্যাডার নিজেরাই চুটিয়ে ব্যবসা করছে বলে জানা যায়। প্রভাবশালি পরিবারের সরকার দলের নেতা ও ক্যাডার হওয়ায় প্রশাসন দেখেও না দেখার অভিনয় করছে বলে অভিযোগ মাদক বিরোধিদের। যদিও প্রশাসন মাঝে মধ্যে দু-এক জনকে গ্রেফতার করলে, সরকারি দলের প্রভাবশালি মহলের ফোনে বা তদবিরে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। আবার ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সমাজের কিছু গরিব দুস্থ মাদকাসক্তদের জেল জরিমানা করা হয়ে থাকে বলে মাদক বিরোধিদের থেকে জানা যায়। কিন্তু পার পেয়ে যায় প্রভাবশালি মাদক ব্যবসায়ীরা। সচেতন মহল মনে করেন, রাজনৈতিক দলের নেতা ও প্রশাসনের সদিচ্ছাই পারে আমাদের বিপদগামি সন্তানদের মরণ ব্যাধি ইয়াবা নামের বাবা থেকে বাচাঁতে।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *