মহেশখালীতে ২য় দফায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হাতে আত্মসমর্পন করেছে ৯৬ জন জলদস্যু

মহেশখালীতে ২য় দফায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হাতে আত্মসমর্পন করেছে ৯৬ জন জলদস্যু

৭১বিডি২৪ডটকম | আবদুর রাজ্জাক | বিশেষ প্রতিনিধিঃ


সুস্থ স্বাভাবিক জীবনের আশায় অস্ত্র-গুলি জমা দিয়ে আত্মসমর্পন করেছেন মহেশখালী-কতুবদিয়ার কুখ্যাত জলদস্যুদের ১২টি সন্ত্রাসী বাহিনীর ৯৬জন জলদস্যু, সন্ত্রাসী, অস্ত্রকারীগর।

অতীতের অপরাধমূলক কৃতকর্মে অনুতপ্ত হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করার উদ্দেশ্যে শনিবার দুপুরে মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পন করেন তারা। ১২টি সন্ত্রাসী বাহির ৯৬জন জলদস্যু,২৭৩টি গোলাবারুদ,১৫৫টি দেশিয় তৈরী বন্দুক ও বিপুল পরিমান অস্ত্র তৈরীর সরঞ্জাম সরকারের কাছে হস্তান্তর করেন।

আত্নসমর্পনকৃত সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধানগণ হলেন-হোয়ানক কালাগাজীর পাড়ার আব্দুল আজিজের পুত্র আইয়ুব বাহিনীর প্রধান আইয়ুব আলী সহ ১২জন আবুল শামা,নুর মোহাম্মদ মোহাম্মদ হাবীব আমিরুল হক কারিঙ্গা,মাইনুর উদ্দিন নাছির,উদ্দিন আব্দুল খালেক,মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ,গিয়াসুদ্দিন,নেজাম উদ্দিন আকতার হোসেন ,কালামারছড়ার আধারঘোনা গ্রামের মোহাম্মদ মিয়ার পুত্র আব্দুল করিম বদাইয়া বাহিনীর প্রধান আব্দুল করিম বদাইয়া,৬জন তারা হলেন আজিজুল হক, এরফান,মোহাম্মদ উল্লাহ,মোহাম্মদ রফিক,রফিকুল ইসলাম, কুতুবদিয়ার লেমশীখালীর মোহাম্মদ হোসাইন এর পুত্র কালু বাহীনীর প্রধান মোহাম্মদ কালু সহ ৭জন তারা হলেন মামুন,মোহাম্মদ জাফর,মোহাম্মদ রাশেল,খলিলুর রহমান,জালাল উদ্দিন,মোহাম্মদ শাহরিয়ার, কালারমারছড়ার ইউনুচখালী গ্রামের হামিদ গ্রুপের আব্দুল হামিদ সহ ৪জন তারা হলেন মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন,শেখ মুজিবুর রহমান,জমির উদ্দিন,মোহাম্মদ একরামুল হক,কালারমারছড়া মোহাম্মদ শাহা ঘোনা এলাকার কালা জাহাঙ্গীর বাহীনির জাহাঙ্গীর আলম সহ ৮জন তারা হলেন মোহাম্মদ নেছার উদ্দিন,সেলিম উল্লাহ,জসিম উদ্দিন, আবুল কাসেম,সালামত উল্লাহ, মাহাবুব আলম,জমির উদ্দি,জিয়া বাহীনির প্রধান জিয়াউর রহমান সহ ১০জন তারা হলেন সরওয়ার কামাল,জাফর আলম,মোহাম্মদ সাগর উল্লাহ,মোহাম্মদ মানিক, আজিজুল হক, আব্দুল আজিজ রুবেল,মোহাম্মদ খোরশেদ,মোহাম্মদ নাছিম উদ্দিন, সাদ্দাম হোসেন, বড় মহেশখালীর দেবাঙ্গপাড়ার আব্দুল হাকিমেরর পুত্র মাহামদুল করিম সহ ৫জন তারা হলেন,মোহাম্মদ বেলাল, আব্বদুল মালেক,মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সরওয়ার, ঝাপুয়া এলাকার জালাল আহাম্মদের পুত্র সিরাজুদৌল্লাহ বাহিনীর সিরাজুদৌল্লাহ সহ ৭জন তারা হলেন মোহাম্মদ বশির, মোহাম্মদ সিরাজ, আব্দুশুক্কুর, মোজাম্মেল হক, আবুবক্কর প্রকাশ মনু,মোহাম্মদ প্রকাশ বাদশা,সিকদার বাহীনীর প্রধান সহ ২জন জাহাঙ্গীর আলম ও রুবেল উদ্দিন। হোয়ানক কেরুনতলী হিন্দুপাড়া গ্রামের মনিন্দ্র গ্রামের মান্না দে স্বপন সহ ৩জন রবিউল আলম,মোহাম্মদ ইমাম হোসেন মিন্টু,সোনাদিয়ার আনজু বাহিনীর মোহাম্মদ রাশেল, কুতুবদিয়া লেমশীখালীর ঝুনাইদ বাহীনির মোহাম্মদ নাছের,অস্ত্র কারিহর জাফর আলম,মোহাদ্দেস, আব্দুল হাকিম,জালাল আহাম্মদ, কালাজাহাঙ্গীর বাহিনীর বোরহান উদ্দিন, মিন্টু বাহীনির আব্দুল্লাহ মিন্টু, কালাবদা বাহিনীর মোহাম্মদ আমিন প্রকাশ মনু আলম, স্বপন বাহীনির আনচারুল্লাহ, কাউছার, জিয়া বাহিনীর আজিজুল হক প্রকাশ আয়াত উল্লাহ।

মহেশখালীতে ২য় দফায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হাতে আত্মসমর্পন করেছে ৯৬ জন জলদস্যু

এই বাহিনীগুলো সোনাদিয়ার পশ্চিমে,মহেশখালী ও কুতুবদিয়া চ্যানেলে সাগরে ডাকাতি ও দস্যুতায় লিপ্ত ছিল।সরবারী ১২নং পাহাড় মৌজার বিশাল খাস জমি,চিংড়ীঘের,স্লুইচ গেইট দখল ণিয়ন্ত্রণ নিয়ে সন্ত্রাসী গ্রুপ তৈরী হয়।

২৩শে নভেম্বর শনিবার দুপুর ১২টায় কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানটি ককসবাজারের (ভারপ্রাপ্ত) জেলা প্রশাসক আশরাফুল আফসার এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীবীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি,বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল ড.জাবেদ পাটোয়ারী,মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক,সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল,চকরিয়া পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম এমএ,পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, কক্সবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খান বাহাদুর মোস্তাক আহাম্মদ,কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তাফা,জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান,বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতিওসমানগনী ওসমান,মহেশখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্দ শরীফ বাদশা, মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জামিরুল ইসলাম জেলা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি সাংবাদিক তোফাইল আহাম্মদ, কালারমারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ, মসজিদের পবিত্র কোরান তেলোয়াত করেন জেলা পুলিশ লাইন মসজিদের ইমাম পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল মান্নান।

আত্মসমর্পনকারী সিরাজুদৌল্লাহ তার বক্তবে তার বাহীনি গঠন ও অন্ধকারজীন যাপনে ঈদের, জানাযার নামাজ পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার করুন কাহীনি বনর্না করেন।১ম দফায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হাতে আত্মসমর্পনকারী সোনাদিয়ার রুহুল আমিন তার জীবন সুন্দর করে চলাফেরা করার বর্ননা দেয়,তাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলা প্রত্যহারে মন্ত্রীর প্রতি আহবান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী- আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আত্মসমর্পণকারীদের পূণর্বাসন করা হবে, কিন্তু পূর্বের পেশায় ফিরে গেলে কঠোর পরিণতি হবে। খুন ও ধর্ষণ ছাড়া যাদের বিরুদ্ধে অন্যান্য লঘু অভিযোগ রয়েছে তাদের বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।তিনি বলেন, যারা বিপথে চলে গেছেন কিংবা পথ হারিয়েছেন কিংবা যারা অনুতপ্ত হয়েছেন, যারা জঙ্গিবাদে চলে গিয়েছেন-অনুতপ্ত হয়েছেন, যারা জলদস্যুতায় চলে গিয়েছেন- অনুতপ্ত হয়েছেন, তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডাক দিয়েছেন। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে তারা সবাই ফিরে আসবে, চলে আসবে,স্বাভাবিক জীবন-যাপন করে বাংলাদেশকে একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিনির্মাণে সহযোগীতা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

ডি আইজি গোলাম ফারুক বলেন ,জনগনের চেয়ে ক্ষমতার মালিক কেহ না,পূনরায় কোন গডফাদার জলদস্যুদের যেন আশ্রয় না দেয়। তাহলে পরবর্তীতে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা ঘোষনা দেয়। মহেশখালী তথা কক্সবাজার জেলায় কোন দস্যুতা চলবে না।
বাকি জলদস্যু ও সন্ত্রাসী বাহিনীকে অচিরে আত্মসমর্পণ করে সুস্থ ও সুন্দর জীবনে ফিরে আসার আহ্বান তিনি বলেন, আর যদি কোন বাহিনী এ শান্তির পথে না আসে তাহলে তারা জন্য কঠোর পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকে। মহেশখালী-কুতুবদিয়ার কোন প্রকার দস্যুতা ও দাদাগিরি চলবে না।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *