মনগড়া সাক্ষ্য দিয়ে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা হচ্ছে: আদালতে খালেদা জিয়া

৭১বিডি২৪ডটকম ॥ অনলাইন ডেস্ক;


মনগড়া সাক্ষ্য দিয়ে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা হচ্ছে: আদালতে খালেদা জিয়া
ছবি-ইন্টারনেট

ঢাকা: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থণের বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আদালতে বলেছেন,আমি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অনুকূলে কখনো কোনো অর্থ নেইনি, সাক্ষী হারুণ অর রশীদ একজন অনুসন্ধানকারী ও তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসাবে কোনো দালিলিক প্রমাণ ছাড়া আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে এইরূপ মনগড়া সাক্ষ্য দিয়েছেন।

খালেদা জিয়া আরো বলেন, আমাদের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিশেষ করে, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রী পরিষদের কতিপয় সদস্য প্রায়ই আমাকে জড়িয়ে জনসম্মূখে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করছে।

খালেদার পক্ষে শুনানি করছেন ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে রয়েছেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জমির উদ্দিন সরকার বলেন, গত ধার্য তারিখে হরতালে নিরাপত্তা জনিত কারনে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। ন্যায় বিচারের স্বার্থে আত্মপক্ষ সমর্থনে ফৌজদারি কার্যবিধি ৩৪২ ধারা অনুসারে বক্তব্যর জন্য আবেদন করছি।

অপরদিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, খালেদা জিয়া জামিনের শর্ত ভঙ্গ করেছেন, এ মুহুর্তে আত্মপক্ষের সুযোগ নেই, ইতোপূর্বে বহুবার জামিনের শর্ত ভঙ্গ করেছেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) আদালতে হাজির না হওয়ায় দুই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর সাবেক নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

এছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *