ভোজ্যতেলের দাম কমছে লিটারে ৫ টাকা

ভোজ্যতেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা করে কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাইকারি ব্যবসায়ীরা। আগামী শনিবার থেকে তেলের এই নতুন দাম কার্যকর হবে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য সহায়ক পরামর্শক কমিটির বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা ভোজ্য তেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেন।

বৈঠক শেষে তেলের দাম কমানোর কথা জানান অ্যাসোসিয়েশনের নেতা সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, পাইকারি বাজারে দাম কমলে এর প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়বে। এর আগে পাইকারি ভোজ্যতেলের আমদানিকারক সমিতি তেলের দাম লিটার প্রতি চার টাকা কমাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব দেয়। পরে বাণিজ্যমন্ত্রী তাদের কাছে পার লিটারে পাঁচ টাকা কমানোর অনুরোধ করেন। শেষ পর্যন্ত সমিতির নেতা ফজলুর রহমান অনুরোধ রাখেন। ফলে সর্বসম্মতিতে পাঁচ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ভোজ্যতেলের দাম মূলত নিয়ন্ত্রণ করে আমদানিকারক সমিতি। তারা ভোজ্যতেলের দাম কমানোর যে উদ্যোগ নিয়েছে, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে তাদের ধন্যবাদ। বিগত সময়ে দেশের বিরাজমান প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। পদ্মা বহুমুখী সেতু, কর্ণফুলী টানেল, রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ সরকার বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। যোগাযোগ ব্যাবস্থা উন্নত করা হয়েছে। শিল্প কারখানা নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা বেড়েই চলছে। গত বছর দেশের রপ্তানি ৩১.২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ বছর রপ্তানির লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলমান রপ্তানির ধারা অব্যাহত থাকলে এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানান তোফায়েল আহমেদ।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে এখন কোন রাজনৈতিক অস্থিরতা নেই। আগামী ২০১৯ সালে দেশের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যারা এক সময় দেশেকে অস্থিতিশীল করার জন্য ধ্বংসাত্বক আন্দোলন করেছিলেন, তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে স্বাভাবিক রাজনীতিতে ফিরে এসেছেন। আগামী দিনগুলোতে দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীগণ স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবেন। বৈঠকে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাষ্ট্রীর সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, আমরা অতীতে যে সব বিনিয়োগ করেছি তার সুফল এখন পাচ্ছি।

তবে বর্তমানে বিনিয়োগে তেমন কোন শুভ সংবাদ পাচ্ছি না। তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের গ্রিডের কারণে আমরা নতুন ভাবে বিভিন্ন সেক্টর চালু করতে পারছি না। এগুলোর সমস্যা সমাধানে বাণিজ্যমন্ত্রীকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেন।

এছাড়াও গার্মেন্টস সেক্টরে বিদেশি বায়ারদের দেশে এনে তাদের সঙ্গে আলোচনায় অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এ কে আজাদ বলেন, বায়ারদেরকে অনুরোধ করলে তারা জানান যে, তোমাদের দেশে আইএস আছে। এজন্য গার্মেন্টস রাপ্তানি সেক্টরে অনেক অসুবিধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।এছাড়াও বিভিন্ন সেক্টরের ব্যবসায়ী নেতারা তাদের ব্যবসার অসুবিধার কথা মন্ত্রীর কছে তুলে ধরেন।

এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী সকল সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেন। বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাণিজ্য মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী সংসদীয় কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এফবিসিসিআই-এর সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমেদ, বিজিএমই-এর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, বিকেএমই-এর সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান, বাংলাদেশ মহিলা চেম্বার এন্ড কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভানেত্রী সেলিমা আহমেদ, সিটি গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, মেঘনা গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল এবং বিটিএমএ-এর প্রেসিডেন্ট তপন চৌধুরী।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *