ভাঙনে হারিয়ে যেতে বসেছে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন

৭১বিডি২৪ডটকম । করেসপন্ডেন্ট:


CHA


গলাচিপা(পটুয়াখালী): জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বঙ্গোপসাগরে অস্বাভাবিক পানির স্তর বেড়ে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন ভাঙনের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পানির ¯্রােতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে অনেক বাড়ি-ঘর ও ফসলি জমি। নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন শতশত পরিবার।

ওই ইউনিয়নে সরেজমিনে দেখা গেছে, গোলবুনিয়া, ছয় নম্বর, গরুভাঙা, বিবির হাওলা ও মরাজঙ্গী এলাকা ভাঙনের মুখে পড়েছে। প্রতিনিয়ত ভাঙনের কারণে অনেকে গ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চার পাশে ভায়াল সব নদী, মাঝখানে এর অবস্থান। ভয়াল নদীগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে রামনাবাদ, আগুনমুখা, ডিগ্রি নদী। এসব নদী প্রতিনিয়ত গ্রাস করছে চালিতাবুনিয়াকে। হারিয়ে যাচ্ছে বাড়ি-ঘর, ফসলি জমি, পুকুর, বনাঞ্চল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তা-ঘাট, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধসহ অন্যান্য সহায়-সম্পদ। অব্যাহত ভাঙনে বদলে যাচ্ছে চালিতাবুনিয়ার দৃশ্যপট।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নে যে বরফ গলছে, তারই অন্যতম প্রভাব এটি। পানির স্তর বাড়ার ফলে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা মাত্রাতিরিক্তভাবে বাড়ছে। ¯্রােত পরিবর্তন হচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে ঘন ঘন সামুদ্রিক দুর্যোগ। চরম হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে উপকূলীয় জনপদ।

চালিতাবুনিয়ার নদী ভাঙন কবলিত এলাকার মোঃ বাক্কু হাওলাদার, মতলেব মল্লিক, নুরু হাওলাদার, বাহাদুর মুফতি বলেন, নদীর সর্বনাশা ভাঙনে চালিতাবুনিয়াবাসীর ঘুম কেড়ে নিয়েছে। ভাঙনের ফলে কোটি কোটি টাকার সহায়-সম্পদ চিরতরে নদীতে হারিয়ে গেছে। ছোট হয়ে আসছে এখানকার মানচিত্র। ভাঙনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভাসমান পরিবারের সংখ্যা। চালিতাবুনিয়ার গোলবুনিয়া গ্রামের ইদ্রিস গাজী বলেন, এখনো যদি সরকার উদ্যোগ না নেয় তাহলে অচিরেই হারিয়ে যাবে রাঙ্গাবালী উপজেলার মানচিত্র থেকে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নটি।

চালিতাবুনিয়ার গরুভাঙা গ্রামের মোবারক হাওলাদার, সোনা হাওলাদার, ফরিদ মুফতি, সোহাগ মুফতি, জুয়েল হাওলাদার, মঞ্জু হাওলাদার, জলিল হাওলাদার, ছিদ্দিক হাওলাদার বলেন, কয়েক বছর ধরে চালিতাবুনিয়া ভাঙন দেখা দিয়েছে। অব্যাহত ভাঙনে অনেকের সাজানো ঘর-বাড়ি নদীর পানিতে বিলীন হয়ে গেছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে অন্য এলাকা বসবাস করছে তারা। এভাবে ভাঙতে থাকলে এক সময় চালিতাবুনিয়ার নাম রাঙ্গাবালী থেকে মুছে যাবে। চালিতাবুনিয়া রক্ষায় সরকারের দ্রুত উদ্যোগ নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

রাঙ্গাবালীর চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান হাওলাদার বলেন, চালিতাবুনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকায় ব্যাপকভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে। দ্রুত এর প্রতিকার না করলে পুরো চালিতাবুনিয়া নদীর পানিতে বিলীন হয়ে যাবে।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *