April 18, 2024, 12:38 am

ভয়ংকর সাকার মাছের রাজত্ব বুড়িগঙ্গায়, ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে

নিজস্ব প্রতিনিধি;

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর ও কেরানীগঞ্জ এর মাঝদিয়ে বয়ে যাওয়া নদী বুড়িগঙ্গা। বুড়িগঙ্গা নদীতে কিছুদিন যাবৎ লক্ষ করা গেছে ভয়ংকর এক প্রজাতির মাছ সাকার ফিস নামেই পরিচিত। এমাছ বেশী দেখা যেত বিদেশের কোস্টারিকা, পানামা এবং দক্ষিণ আমেরিকার বিস্তৃত জলাশয়ে তবে এই মাছগুলো এখন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও রয়েছে। চীন, মিয়ানমারের পর এবার এই মাছের দেখা মিলছে বাংলাদেশেও।

সাকার ফিশ নামে পরিচিত হলেও এই মাছের নাম মূলত ‘সাকার মাউথ ক্যাটফিস’। এর বৈজ্ঞানিক নাম হিপোসটোমাস প্লেকাসটোমাস। তবে স্থানীয়রা একে চেগবেগা মাছ বলেই চিনে। এই পর্যন্ত এই মাছের দুটি ধরন পাওয়া গেছে। একটির রং সাদা। এর ওপর ছোপ ছোপ দাগ। অন্যটি কালো। এর ওপর সাদা ডোরাকাটা দাগ রয়েছে।

আরও পড়ুন – পটুয়াখালীতে ৪শ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার, টাকাসহ ২ জন গ্রেফতার

বর্তমানে বাংলাদেশের নদ-নদীতে কালো সাকার ফিশটি ব্যাপকভাবে পাওয়া যাচ্ছে। এটি সাধারণ অ্যাকোরিয়ামের জন্য আদর্শ মাছ। কারণ এই মাছ অ্যাকোরিয়ামের ময়লা খেয়ে বেঁচে থাকে। সম্প্রতি বুড়িগঙ্গা নদীতে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে ভিনদেশি এই সাকার ফিশ। দ্রুত বংশবিস্তারকারী মাছটির দখলে পুরো বুড়িগঙ্গা নদী।

এই মাছের পিঠের ওপরে এবং শরীরের দুপাশে বড় ধারালো পাখনা আছে। দাঁতগুলোও বেশ ধারালো। সাধারণত আগাছা, জলজ পোকামাকড় ও ছোট মাছ এদের প্রধান খাবার। এরা ছোট মাছ ও জলজ উদ্ভিদ খাওয়ার কারণে নদীতে অন্যান্য মাছের পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। পানি দূষণের কারণে যেখানে অন্য মাছ বাঁচতে পারে না, সেখানে এই মাছ দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে। এমনকি পানি ছাড়াও মাছটি ২৪ ঘণ্টা জীবিত থাকতে পারে।

বুড়িগঙ্গায় জেলেদের জালে সাকার মাছ

বুড়িগঙ্গায় জেলেদের জালে সাকার মাছ

বুড়িগঙ্গায় গত কিছুদিন ধরেই প্রচুর পরিমাণে দেখা যাচ্ছে এই সাকার মাছ। নদীর তীরে দাঁড়ালেই দেখা মিলে ঝাঁকে ঝাঁকে সাকার মাছের অস্তিত্ব। নদীতে এখন জাল ফেললেই কমপক্ষে ১০০ থেকে ২০০টি সাকার মাছ ধরা পড়ছে।

কামরাঙ্গীরচরের হুজুরপাড়া এলাকার বাসিন্দা তৈয়ব আলী বলেন, ‘আমি বুড়িগঙ্গায় নৌকা চালাই ২০ বছর ধরে। এবারের মতো এত মাছ আগে কখনো নদীতে দেখিনি। বছর দু-এক আগে জেলেদের জালে দু-একটি ধরা পরলেও এখন প্রতিবার জালে ১০০–২০০টি চেগবেগা উঠে।’

কেরানীগঞ্জর জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, ‘সাকার ফিশ মূলত ভিনদেশি প্রজাতির অ্যাকোরিয়ামের মাছ। এটা খুব দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করে এবং যে কোনো পরিবেশেই টিকে থাকতে পারে। বর্তমানে উন্মুক্ত জলাশয়ে ব্যাপক হারে দেখা যাচ্ছে এই মাছ। এটা আমাদের জন্য একটি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

আরও পড়ুন – মুরাদনগর বাঙ্গরায় থানায় অজ্ঞাতনামা মৃতদেহ উদ্ধার

সেলিম রেজা বলেন, ‘এ মাছটি এখনো ক্ষতিকর প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃত না। কিন্তু জলাশয়ে এই মাছ বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছের আবাসস্থল কমে যাচ্ছে। তা ছাড়া এই মাছটি সর্বভুক। দেশীয় মাছের পোনা ও ডিমও খেয়ে ফেলছে। জলাশয়ে এ মাছের আধিক্য দেশীয় প্রজাতির মাছের বিলুপ্তির কারণ হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই মাছটি নিয়ে দ্রুত গবেষণা হওয়া দরকার। এটি যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে এটা নির্মূল করা সম্ভব নয় বললেই চলে। তবে পুষ্টিগুণ বিবেচনা করে এটা খাওয়ার উপযোগী কিনা, সেটা আগে খতিয়ে দেখা যেতে পারে।’স্থানীয় জেলেরা মাছ ধরতে গেলেই ঝাকে ঝাকে জালে আটকা পড়ছে সাকার মাছ, সরকারের মৎস কর্মকর্তাদের কাছে তারা দাবী করছেন সাকার মাছ বিলুপ্ত না করা গেলে অন্যান্ন মাছ উৎপন্ন করা প্রায় অসম্ভব এসব ভয়ংকর সাকার মাছ বুড়িগঙ্গা থেকে মুক্ত করারও জোর দাবী তাদের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা