বেসরকারী সংস্থা বীমা প্রকল্প আলিকো’র ফাঁদে ইতি রানী দেবনাথ!!

৭১বিডি২৪ডটকম । সঞ্জিব দাস,


COMPALINE


স্বামী হারা ও এক সন্তানের জননী ইতি রানী দেবনাথ (৩৩) কেরানিগঞ্জের একটি বেসরকারী স্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। বেতন যা পান তাতে তিনি কোন মতে জীবন যাপন করেন। একদিকে তিনি যেমন শিশুদের আলো ছড়াচ্ছেন। অন্যদিকে জীবন যুদ্ধে অক্লান্ত পরিশ্রম করে পৃথিবীতে টিকে আছেন। তার স্বামীর ১৮ বছর মেয়াদী বেসরকারী সংস্থা বীমা আলিকোতে ৮ বছর ধরে রেখে যাওয়া কিছু টাকা বৎসরিক জমা দিতেন। সেই টাকা যদি উত্তোলন করা যেত তা হলে পুত্র দেব বসাক (৭) কে নিয়ে হয়তো শান্তিতে বাস করা যেত। জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলার কোন্ডা ইউনিয়নের দক্ষিন পানগাঁও গ্রামের সুধীর চন্দ্র দেবনাথ এর ছোট মেয়ে ইতি রানী দেবনাথ এর সাথে প্রায় ৮বছর আগে বিয়ে হয় বরিশালের উজিরপুর উপজেলার কার্তিক চন্দ্র বসাকের ছেলে গোবিন্দ্র চন্দ্র বসাক এর সাথে। বিয়ের সাত বছর পর ২০১৬ সালের ১লা মার্চ ইতির স্বামী গোবিন্দ্র মারা যান। ইতি রানীর দেব বসাক নামে সাত বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই তিনি অতিকষ্টে জীবন অতিবাহিত করে আসছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়। বর্তমানে ইতি রানী ফয়সাল প্রি-ক্যাডেট এন্ড হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকুরিরত। ৮ বছর পূর্বে বীমা সংস্থা আলিকো থেকে ১৮ বছর মেয়াদী একটি বীমা করেন গোবিন্দ্র চন্দ্র বসাক। নমীনি রেখে যান তার মা লক্ষ্মী রাণী বসাককে। উল্লেখ্য যে, লক্ষ্মী রাণী বসাক এর দুই ছেলে দিলিপ বসাক, গোবিন্দ্র চন্দ বসাক দীর্ঘ ১০ বছর পূর্বে পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌর সভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এসে স্থায়ী ভাবে বসবাস এবং ব্যবসা শুরু করেন। এরপর থেকে তার মা লক্ষ্মী রাণী বসাক ছেলেদের সাথেই থাকতেন। গোবিন্দ্র চন্দ বসাক মারা যাওয়ার পর মাতা লক্ষ্মী রাণী বসাক গত ৩০ শে মার্চ গলাচিপায় বাত জনিত কারণে মৃত্যু বরণ করেন। গোবিন্দ্র চন্দ বসাকের স্ত্রী ইতি রানী দেবনাথের কোন খোঁজ খবর রাখেননি দেবররা । ফলে বাধ্য হয়ে ইতি রানী দেবনাথ বাঁচার তাগিদে তাকে ছোট চাকরী করে কেরানিগঞ্জে থাকতে হচ্ছে। শুক্রবার সকালে গলাচিপায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকার মতিঝিল আলিকোর অফিসের অডিটর নুর নবী। এ ব্যাপারে আলিকোর অফিসের অডিটর নুর নবী জানান, ইতি রানী দেবনাথের স্বামী গোবিন্দ্র চন্দ বসাক এর বীমাকৃত টাকা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেরানিগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ফারুক জানান, ইতি রানী দেবনাথ আসলেই অসহায়। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহিন প্রতিবেদককে বলেন, অসহায় বলেই ওকে চাকরী দেয়ার ব্যাপারে সহযোগিতা করেছি। আলিকোর বীমার টাকাটা পেলে পুত্র সন্তান নিয়ে ভাল থাকতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *