বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ১২:৫৩ অপরাহ্ন
নোটিশ বোর্ড :
দেশের সকল বিভাগের জেলা, উপজেলা, থানা পর্যায়ে প্রতিনিধি আবশ্যক আগ্রহী প্রার্থীগন আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। মোবাইল নম্বরঃ +8801618833566, ইমেইলঃ 71bd24@gmail.com

বেতাগীতে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় মেয়ের মা ও বাবার প্রতি নানা অত্যাচার এলাকায় উওেজনা বিড়াজ

তরিকুল ইসলাম রতন, বরগুনা প্রতিনিধি / ১৭৭৫ শেয়ার
আপডেটের সময়ঃ সোমবার, ৮ জুন, ২০২০

বরগুনার বেতাগী উপজেলার দেশান্তরকাঠি গ্রামের সুমা মল্লিক (১৮) নামের এক কলেজ ছাত্রীকে দীর্ঘদীন ধরে একই এলাকার প্রভাবশালী ইউপি সদস্য ছত্তার মল্লিকের ছেলে মনির মল্লিক (৩৫) কুপ্রস্তাব ও উত্যক্ত করে আসছিলো ।

মনির মল্লিককে মেয়ের মা-বাবা , বার বার বারন করা সত্বেয় সে তাদের কথা কর্নপাত না করে বিভিন্ন সময় উত্যাক্ত করতে থাকে, কোন উপায় না দেখে মেয়ের ভাই শাহিন মল্লিক (২৪) তিন মাস আগে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির কাছে অভিযোগ জানায় , জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মনির মল্লিককে ফোন করে এসব থেকে বিরত থাকতে বলে , তাতে মনির মল্লিক আরো ক্ষেপে যায় বলে যে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তোর বাপ হয় ? বাপ যেন তোকে রক্ষা করে । সেই থেকেই ভয়ে ভয়ে কাটছিল কখন যেন কি হয়,বেতাগী পৌর মেয়রকেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল কিন্তু ছাত্রলীগ সভাপতি হওয়ায় কেহই কিছু করছিল না।

আরও পড়ুন- পাথরঘাটা ইউপি সদস্যের তান্ডব, অভিযোগ এলাকাবাসী

গত বুধবার ১৩/০৫/২০ ইং তারিখ দুপুরে তাদের বাড়ির পাশের মরিচ ভিটায় মরিচ তুলতে গেলে সুমা মল্লিককে একা পেয়ে মনির মল্লিক (৩৫) কুপ্রস্তাব দেয়। একপর্যায়ে জোড় করে তার হাত ও ওড়না ধরে এবং বিভিন্ন প্রলোভন দেখায়।

পরে তার হাত থেকে ছুটে দৌড়ে সুমা মল্লিক বাড়িতে আসে। এসে তার বাবা ও মাকে উক্ত ঘটনা জানায়। বাবা আনেচ মল্লিক ও মা কদবানু মনির মল্লিক কে ভয়ে কিছু না বলে ছত্তার মল্লিককে বলার অপেক্ষায় থাকে ,পরের দিন সকালে মা কদবানু ছত্তার মল্লিককে ঘটনা বলতে গেলে ছত্তার মল্লিক এসব ঘটনা বাহিরের মানুষ যেন না শুনে তাই বলে কদবানুকে ভয় ভীতি দেখানো শুরুকরে ,এক পর্যায় আনিচ মল্লিক উপস্তিত হলে ছত্তার মল্লিকের সাথে কথার কাটাতাটি হয়,এমন সময় মনির মল্লিক ও তার ভাগিনা কাইয়ুম ঘর থেকে নামে ,মনির মল্লিক অসুস্থ বৃদ্ধ মা কদভানু (৬০)বেগমকে চুলের মুঠি ধরে কিল- ঘুষি মারতে মারতে মাটিতে ফেলে দেয় এবং তার ভাগিনা আল কাইয়ুম আনিচ মল্লিককে এলোপাথারি ভাবে মারতে থাকে।

আরও পড়ুন- পাথরঘাটায় জুয়ার আসর থেকে ইউপি সদস্যসহ আটক-৬

সুমা মল্লিক জানান, মারামারির এক পর্যায়ে যখন আনিচ মল্লিক ও কদবানু ছুটে দৌরে আমাদের ঘরের ভেতর উঠে যায় তখন মনির মল্লিক ও কাইয়ুম আমাদের ঘরের পিছন দুয়ারের সামনে রামদা হাতে নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল ও থানায় যাতে না যেতে পারে সে ভয়ভীতি দেখায়, এমনকি আমাদেরকে জীবন নাশের হুমকি দেয়। ভাই শাহিন মল্লিক জানায়, সে ছিল বড় বোনের বাড়ি ফুলতলায়।থানায় অবহিত করলে এ এস আই সোহেল ভিকটিমের মাতা কদবানু ও বাবা আনিচ মল্লিককে মুমূর্স অবস্হায় অবরুদ্ধ হতে উদ্বার করে বেতাগী হাসপাতালে ভর্তি করান এবং থানায় মামলা দিতে দরখাস্ত জমা দেয় । শাহীন মল্লিক জনায় বারবার থানায় যাওয়ার পরেও ওসি সাহেব এখনো মামলা নেয়নি । বর্তমানে আমার পরিবার পরিজন নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আছি। কখন আমাদেরকে মেরে ফেলে। কোথাও অভিযোগ দিলে ঘটনার স্বাক্ষী সহ আমাকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জরিয়ে হয়রানী করার হুমকি দিচ্ছে।

ভুক্তভোগী সুমা মল্লিকের বাবা আনেস মল্লিক বলেন, আমি এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিদেরকে জানালেও তাদের কাছ থেকে আমার মেয়ের কোনো সুষ্ঠ বিচার এখন পর্যন্ত পাইনি। আমি এর সুষ্ঠবিচার চাই।

আরও পড়ুন- বরগুনায় এএসআই সহ ৮ জন করোনায় পজেটিভ

সুমা মল্লিকের মা কদবানু বলেন,বিচার চাইতে গিয়ে জখম অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছি। ওই ইউপি সদস্য প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা এখন নিরুপায় হয়ে আছি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাই।

এবিষয়ে ইউপি সদস্য ছওার মল্লিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি এসব ব্যাপার এরিয়ে গিয়ে বলেন, সমাজে আমার একটা সম্মান আছে। আমার সম্মান নষ্ট করার জন্যে তারা আমার ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা দুর্নাম রটাচ্ছে আর কিছুই নয়।

তিনি আরও বলেন, আমার অনেক ক্ষমতা আছে কিন্তু আমি তা ব্যাবহার করছি না, আমি একাদিকবার ইউপি সদস্য হয়েছি এবং বর্তমানেও আছি।

বিবিচিনি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নয়ন হোসেন নয়ন বলেন, আমি এসব ব্যাপারে জেনেছি এবং একাদিকবার বৈঠকের চেষ্টাও করেছি কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ