বিষাক্ত পটকা বা পাফার ফিশ উদ্বিগ্ন জেলেরা

কলাপাড়া(পটুয়াখালী):

কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর ও নদী মোহনায় জেলেদের জালে বিষাক্ত পটকা বা পোটকা বা ফোটকা মাছ (পাফার ফিশ) ধরা পড়ছে। মাছের তীব্র আকালের মধ্যে এই পোটকা মাছ (বৈজ্ঞানিক নাম টেট্রাডন) ধরা পড়ায় জেলেরা আটককৃত মাছ তাৎক্ষণিক নদী ও সাগরে ফেলে দিচ্ছে। গত তিন দিনে হঠাৎ্ করে প্রচুর পরিমাণে এই বিষাক্ত মাছ ধরা পড়ায় জেলেরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে।

কলাপাড়ার বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গত তিন দিনে সাগর থেকে মাছ শিকার করে প্রতিটি মাছ ধরা ট্রলার ও জেলে নৌকায় এ বিষাক্ত পোটকা মাছ ধরা পড়ছে। জেলেরা এই মাছ বিষাক্ত জেনে তা মাছের ঝুড়িতে না রেখে উপকূলে ফিরে আসার আগেই তা ফেলে দিচ্ছে। চর ধুলাসার গ্রামের জেলে মিরাজ মিয়া জানালেন, সাগরে জাল ফেললেও এখন আর তেমন মাছ পাওয়া না গেলেও তিনি ৫৬টি পোটকা মাছ পেয়েছেন। তার মতো জেলে আলী আকবর ৬১টি, জাহাঙ্গীর হোসেন ৬৫টি, আনোয়ার হোসেন ২০টি, কামাল মিয়া ৩১টি, আরিফ হোসেন ৪৪টি পোটকা মাছ পেয়েছেন। প্রতিটি মাছ গড়ে পাঁচশ’ গ্রাম থেকে সাড়ে সাত কেজি ওজনের।

চট্টগ্রামের এফবি সিয়াম ট্রলারের জেলে সিদ্দিকুর রহমান জানান, সাগরের হিরণ পয়েন্ট থেকে শুরু করে সুন্দর মোহনা, ফাতড়ার ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, সুন্দরবন, ঢোশ ও কুয়াকাটার বিভিন্ন মোহনায় এই বিষাক্ত মাছ ধরা পড়ছে।

প্রতি বছর মানুষের অসাবধানতায় এই মাছ খেয়ে অনেক মানুষ মারা যায়। তাই জালে আটকা পড়া মাছ উপকূলে বিক্রির জন্য না এনে তারা সাগরেই ফেলে দিয়েছেন। একই এলাকার এফবি মিতানুর, এফবি রহিমা ট্রলারের জেলে আকবর হোসেন ও জাহিদুল মোল্লা বলেন, তারা প্রায় দুই মণ এই মাছ পেয়েছেন। কিন্তু এগুলো বিদেশে রফতানি হয় জেনেও সাগরে ফেলে দিয়েছেন। কেননা ভুলে এই মাছ এখানকার মানুষ খেয়ে ফেললেই অসুস্থ হয়ে পড়বে। মৃত্যুও হতে পারে।

জানা যায়, বঙ্গোপসাগরে প্রায় ২০-২৫টি প্রজাতির পটকা মাছ পাওয়া যায়। তবে কলাপাড়ার উপকূলে টেট্রাওডোন কুটকুটিয়া প্রজাতির পোটকা বা পটকা মাছ বেশি পাওয়া যায়। এ মাছটিকে স্থানীয়ভাবে টেপা বা ফোটকা মাছও বলা হয়। বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণায় দেখা গেছে সাধারণত প্রজনন ঋতুতে বা বর্ষাকালে এ মাছটি অধিক মাত্রায় বিষাক্ত হয়ে পড়ে। পটকা মাছের বিষ সায়ানাইডের চেয়েও অধিকতর বিষাক্ত এবং জীবননাশক। কোনো কোনো সামুদ্রিক পটকা প্রতি গ্রামে ৪০০০ গট পর্যন্ত বিষ বহন করে থাকে। অর্থাৎ একজন সুস্থ ব্যক্তি এরƒপ বিষাক্ত পটকার ৩ গ্রাম খেলেই বিষাক্রান্ত হয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে মারা যাবে।
একাধিক মৎস্য ব্যবসায়ী জানান, তারা এই মাছ ক্রয় করেন না। তবে যারা শুঁটকি মাছের ব্যবসা করে তারা বিভিন্ন প্রজাতির মাছের সঙ্গে এগুলোও শুঁটকি করেন। এই মাছ খেয়ে অনেক মানুষ মারা যাওয়ার খবর তারা শুনেছেন।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, কী কারণে এই সময়ে এই মাছ ধরা পড়ছে বিষয়টি জেনে বলতে পারবেন। তবে এই মাছটি বিষাক্ত। এটা না খাওয়াই ভালো।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *