বিশ্বনেতাদের মধ্যে শেখ হাসিনা অনন্য কেন?

একাত্তরবিডিটুয়েন্টিফোর:

২০১১ সালের দিকে সিরিয়ায় বাশার আল আসাদ সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হলে সরকার ভীষণ বেকায়দায় পড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের মদদে দেশটি গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হয়। উত্থান ঘটে আইএস নামক জঙ্গী গোষ্ঠীর। আর আইএস নির্মূলের অজুহাতে দেশটিতে আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এই আগ্রাসনকে বৈধতা দিতে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সম্পৃক্ত করে ন্যাটোকে (মূলত ফ্রান্সকে)। এক পর্যায়ে ফ্রান্স এই আগ্রাসনে শিথিলতা দেখালে ফ্রান্সের নিস শহরে বাস্তিল দূর্গ পতন দিবসে হামলা চালায় আইএস। প্রায় ৮৪ জন নিহত হন এই হামলায়। ফলে নৈতিকতার জায়গা থেকে সিরিয়ায় আবার হামলা জোরদার করতে বাধ্য হয় ফ্রান্স। আসাদ সরকারের পক্ষে আছে রাশিয়া, ইরান এবং ইরান সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহ।

সিরিয়ার আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও আইএস। আইএসকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছে তুরস্ক। যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিমা শক্তিসমূহ এবং তুরস্ক কিন্তু আমাদের দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধেও শেখ হাসিনার সরকারের বিরোধিতা করেছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার অবস্থা এখন এমন যে, দেশটির মাথাপিছু আয় প্রায় ৬০০০ ডলার থেকে প্রায় ১৫০০ ডলারে নেমেছে।

সিরিয়ার ঘটনার সাথে এবার বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটভূমি মিলিয়ে নিন। ২০১৩ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু করলো যুক্তরাষ্ট্র আশীর্বাদপুষ্ট বিএনপি-জামায়াত। ২০১৪ এর নির্বাচনের পর আবার শুরু হলো সরকারবিরোধী আন্দোলন। এবার শুরু হলো পেট্রোল বোমার পৈশাচিক ব্যবহার। মানুষ পুড়িয়ে মেরে সরকার পতনের চেষ্টা হলো। সরকার সেসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করলো। এভাবেও যখন সরকার পতন করা গেলো না তখন বিদেশীদের হত্যা করে সরকারকে আন্তর্জাতিক চাপে ফেলার চেষ্টা করা হলো।

এভাবে শুরু হলো নতুন গেইম। এরপর গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার পরেই সরকার এসব সন্ত্রাসীকে নির্মূলে জিরো টলারেন্স দেখালো। সন্ত্রাসীদের নির্মূল করার পথে অনেকখানি সফলতা এলো।

লক্ষ্য করে দেখুন, সিরিয়ায় ঘটনার পেছনে যারা, সেই একই শক্তি কিন্তু এদেশের সব সন্ত্রাসী ঘটনারও মূল কারিগর। কিন্তু যে মানুষটির কারণে আমরা বেঁচে গিয়েছি, তিনি হলেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা। যার নেতৃত্ব, সাহস ও বুদ্ধিমত্তা সিরিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে পার্থক্য করে দিয়েছে, তিনি শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ যার কারণে সিরিয়ার মতো অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়নি, তিনি বঙ্গবন্ধুকন্যা, আমাদের দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

মালয়েশিয়ার মাহাথির মোহাম্মদের উদাহরণ আমরা প্রায়ই দিই, সিঙ্গাপুরের লি ক্যুয়ানের কথাও বলি। এরা দেশকে উন্নয়ন দিয়েছেন, গণতন্ত্র দেননি। একমাত্র শেখ হাসিনাই গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একসাথে কার্যকর করেছেন।

উল্লেখ্য, নিজ দলের ভেতর মাহাথির মোহাম্মদ এতটাই একঘরে হয়ে গেছেন যে, এখন তিনি নিজেই তার প্রতিষ্ঠিত দল থেকে বেরিয়ে আরেকটি দল প্রতিষ্ঠা করছেন। অথচ, শেখ হাসিনা তার দলের নেতাকর্মীদের কাছে অদ্বিতীয়, অবিনশ্বর।

খুব মনে পড়ে, কিংবদন্তী নেতা হুগো শ্যাভেজের কথা। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ভেনিজুয়েলার এই নেতা নিজের জীবন ব্যয় করেছেন দেশের মানুষের কল্যাণে। সে দেশেও দেখলাম প্রায় ১৪ বছর পর একটি ডানপন্থী দল সরকার গঠন করলো। অথচ বাংলাদেশে যে মানুষটির জন্য ডানপন্থীরা রাজনৈতিকভাবে মুমূর্ষু, তার নাম শেখ হাসিনা।

একমাত্র শেখ হাসিনার চোখেই আমরা দেখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন। তিনিই আমাদের শিখিয়েছেন কিভাবে সাম্রাজ্যবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হয়, শিখিয়েছেন কিভাবে বিশ্বপরাশক্তির ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে একটি স্বপ্নের পদ্মাসেতু করতে হয়, দেখিয়েছেন সরকারী দলের সংসদ সদস্য হয়েও অপরাধ করলে কিভাবে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হয়, কিভাবে একটি পরাক্রমশালী প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কাছ থেকে ছিটমহলে স্বাধীনতা আনতে হয়।

শেখ হাসিনা এজন্যই অন্যান্য বিশ্বনেতার মাঝে অনন্য। তিনি আমাদের রত্ন, দেশরত্ন। তাঁর জন্মদিনে আমাদের সকলের পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

(তৌহিদুর রহমান হিমেলের ফেসবুক থেকে নেয়া)

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *