‘বাঙালির বিশ্বের বুকে ডানা মেলার শুভ উদ্বোধন হলো ৭ই মার্চের ভাষণ’

:: ৭১বিডি২৪ডটকম :: নিজস্ব প্রতিবেদক ::


বাঙালির বিশ্বের বুকে ডানা মেলার শুভ উদ্বোধন হলো ৭ই মার্চের ভাষণ


:: ঢাবি :: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বাঙালি জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা একটি অবিস্মরণীয় দিন। এই দিনে তৎকালীন ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দান বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক উত্তাল জনসমুদ্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দেন।

জাতির জনকের ঐতিহাসিক ভাষণের স্মৃতি-বিজড়িত ৭ মার্চ উপলক্ষে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ। ইউনেস্কো কর্তৃক প্রামান্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় এবারের সমাবেশ অন্য যেকোন সময়ের থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

কর্মসূচির মধ্যে ৭ মার্চ দুপুর ২টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা অন্যতম। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন।

ইতিমধ্যে সমাবেশকে সফল করতে আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো দেশব্যাপী ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছে। আওয়ামীলীগের ভ্রাতিপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগ সারা ঢাকা শহরে মাইকিং ও গণসংযোগ করে যাচ্ছে নিয়মিত। আর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ ও সমাবেশ নিয়ে ৭১নিউজ২৪.কমকে ছাত্রলীগের অনুপ্রেরণা ও প্রস্তুতির কথা বলছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম.ফিল অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী খাদিমুল বাশার জয়।


'বাঙালির বিশ্বের বুকে ডানা মেলার শুভ উদ্বোধন হলো ৭ই মার্চের ভাষণ'


৭১নিউজ২৪.কম- ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ ও প্রামন্য ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতিকে ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে কিভাবে দেখছেন?

খাদিমুল বাশার জয়- সংগ্রামের চিরকালীন সত্তার অনুরণন, আশাজাগানিয়া স্বপ্নের সাহসী উচ্চারণ, বাঙালি জাতির বিশ্বের বুকে ডানা মেলার শুভ উদ্বোধন হলো ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ। ইউনেস্কো কর্তৃক এর স্বীকৃতি একটি যুগান্তকারী ঘটনা।

৭১নিউজ২৪.কম- একজন ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে ৭ই মার্চের ভাষণ কি ধরনের অনুপ্রেরণার সৃষ্টি করে আপনার মধ্যে?

খাদিমুল বাশার জয়- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের সাথে পরিচিত হই শৈশবে। ২০০০ সালে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বরগুনা জেলায় আয়োজিত কুচকাওয়াজ এর পরে আমাদের স্কুল তখন বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে প্রদর্শনের জন্য আগ্রহী হয়। আমাকে বলা হলো ছোটদের বঙ্গবন্ধু সাজতে হবে এবং বঙ্গবন্ধুর পুরো ভাষণটি দিতে হবে শ্রোতাদের সামনে। ১৯ মিনিটের ভাষণটি উপস্থাপন করেছিলাম সেদিন।

৭১নিউজ২৪.কম- ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃতি পাওয়ার পর প্রথম ৭ই মার্চ এবং আওয়ামীলীগ কর্তৃক সাম্প্রতিক সময়ের সর্ববৃহৎ সমাবেশের আয়োজন, কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করেন?

খাদিমুল বাশার জয়- ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনসমাবেশ জনসমুদ্রে রূপ নেবে বলে মনে করি। বিগত ২ মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী ও খুলনাতে যে জনসভা গুলোতে উপস্থিত ছিলেন প্রতিটি জনসভাই জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। উন্নয়নকন্যা, মাদার অব হিউম্যানিটি জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ৭ই মার্চের জনসভাকে সফল ও সার্থক করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গত ১ মার্চ থেকে সারা ঢাকা শহরে সংগ্রামী সভাপতি জনাব সাইফুর রহমান সোহাগ ভাই ও বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক জনাব এস এম জাকির হোসাইন ভাইয়ের নেতৃত্বে ব্যাপক প্রচার ও প্রচারণা চালাচ্ছে।

৭১নিউজ২৪.কম- ছাত্রলীগের রাজনীতিতে আপনার হাতেখড়ি কিভাবে?

খাদিমুল বাশার জয়- ছাত্রলীগের রাজনীতিতে হাতেখড়ি স্কুল জীবনে। তখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে (২০০১-২০০৬)। বরগুনা জিলা স্কুলে অধ্যয়নের সময় তখনকার বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এনায়েত করিম মুরাদ ভাই ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ভাইয়ের নির্দেশে স্কুল ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করার জন্য কাজ করি। বিরোধী দলের রাজনীতিতে অগ্রজদের আন্দোলন-সংগ্রাম-ত্যাগ এখনো শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি।

৭১নিউজ২৪.কম- ছাত্রলীগ করার অনুপ্রেরনা পেয়েছেন কাদের নিকট থেকে?

খাদিমুল বাশার জয়- প্রেরণার প্রথমেই ছিল আমার পরিবার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন পিতা মো: আবদুল মান্নান, বড় চাচা মো: আবদুল কাদের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। এছাড়া চাচা ইঞ্জি: মো: আবদুল হালিম একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৯৭১ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। চাচাতো ভাই এনায়েত করিম মুরাদ ২০০৪ সালে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। তখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকার কারণে শৈশবেই আমাকে মামলা-হামলা-জেল-আদালত ইত্যাদি বিষয়ের সাথে প্রত্যক্ষভাবে পরিচিত হতে হয়েছিল।

৭১নিউজ২৪.কম- ভবিষ্যত ছাত্রলীগকে কিভাবে দেখতে চান?

খাদিমুল বাশার জয়- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সরকার ইতোমধ্যেই বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করেছেন। দেশরত্ন শেখ হাসিনার বিশ্বস্তভ্যানগার্ড হিসেবেই আগামী দিনে রূপকল্প- ২০২১ ও একটি উন্নত আয়ের বাংলাদেশ – ২০৪১ বাস্তবায়নে আগামী দিনেও বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতা কর্মী কাজ করবে বলে বিশ্বাস করি।

৭১নিউজ২৪.কম- ধন্যবাদ।
খাদিমুল বাশার জয়- আপনাকেও ধন্যবাদ।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *