বাংলাদেশ এখন চ্যালেঞ্জ নিতে পারে, বললেন প্রধানমন্ত্রী

৭১বিডি২৪.কম। ঢাকা:


বাংলাদেশ এখন চ্যালেঞ্জ নিতে পারে, বললেন প্রধানমন্ত্রীপ্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ড নিয়ে বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জাতীয় চার নেতাকে হত্যার মূল উদ্দেশ্য ছিল কোনোমতেই যেন স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি উঠে দাঁড়াতে না পারে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ এখন যেকোনো চ্যালেঞ্জ নিয়ে তা মোকাবিলা করতে পারে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর খামারবাড়িতে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণসভায় শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকারের ধারাবাহিকতায় থাকায় আমাদের উন্নয়নের কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা রয়েছে। আজকে কারও কাছে হাত পেতে নয়, আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি। যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষমতা বাংলাদেশ রাখে। কেউ অপবাদ দিলেই মাথা পেতে নিই না, চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিই। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমরা দেখিয়ে দিয়েছি যে হ্যাঁ, বাংলাদেশ পারে। কারণ আমরা মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ী জাতি। তাই পদ্মা সেতু নিয়ে যখন আমাদের অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হলো—আমরা যখন এর প্রতিবাদ করে দাঁড়ালাম; আজকে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করছি। এই ক্ষমতাটুকু আজকে বাংলাদেশের হয়েছে। এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। সরকারের ধারাবাহিকতা ছিল বলেই আমরা এই উন্নয়ন করতে পারছি। ভবিষ্যতে আরও উন্নয়ন করতে পারব। প্রত্যেক খাতে আমরা উন্নয়ন করতে পারছি। বিশ্বসভায় আজকে আমরা উন্নয়নের রোল মডেল।’

আওয়ামী লীগ, এর সহযোগী সংগঠন ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছি। এর জন্য আপনারা সহযোগিতা করছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে পারি, সেটা তো ইংল্যান্ডকে দেখালাম। মাত্র তিন দিনের মাথায় টেস্ট ক্রিকেটের ১ নম্বর দেশ ইংল্যান্ডকে আমরা হারালাম। তারাও দেখল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগাররা কীভাবে হুংকার দিতে পারে, আর বিজয় আনতে পারে। আমরা যে পারি, এটাও একটা নমুনা।’

শাস্তির ভয়ে খালেদা আদালতে হাজিরা দিতে ভয় পান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা দিতে ভয় পান উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি জানেন, আদালতে হাজিরা দিলে শাস্তি পাবেন, এ জন্য আদালতে হাজিরা দিতে ভয় পান। যদি সততা থাকত, বুকে সাহস থাকত যে অন্যায় করিনি, তাহলে তো মামলা মোকাবিলায় ভয় পাওয়ার কথা নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আমার নামে মামলা দিয়েছিল, আমি তখন আমেরিকায় ছিলাম। আমি তখন এসে তা মোকাবিলা করেছি। কিন্তু তিনি কেন ভয় পাচ্ছেন, বোঝেন না? ওই এতিমের টাকা মেরে খেয়ে এখন পালাই পালাই ভাব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির নেতারা যখন গুম-খুনের কথা বলেন, তখন মনে হয় তাঁরা নিজেদের চেহারাটা আয়না দেখেন না। আয়নায় চেহারাটা দেখা মানে শুধু মেকআপ করা না, নিজেদের আসল চেহারা, রূপটা দেখা।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘খুনি মোশতাক ক্ষমতা দখল করেই সেনাপ্রধান করল জিয়াউর রহমানকে। তার মানে এটাই স্পষ্ট যে ১৫ আগস্টের ওই ঘটনার সঙ্গে খুনি মোশতাকের সঙ্গে জিয়াও যে জড়িত ছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর সে কথাটা আত্মস্বীকৃত খুনি, যাদের আমরা বিচার করেছি, যাদের অনেকের ফাঁসি হয়েছে, তারা বিবিসিতে সাক্ষাৎকারে নিজের মুখে তারা স্বীকার করেছে, জিয়ার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল, তাদের ইশারা দিয়েছিল এবং সমর্থন দিয়েছিল, এটা স্পষ্ট। অতএব, মোশতাক তাকে বানাল সেনাপ্রধান।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ উড়ে এসে জুড়ে বসা বা অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীর দল নয়। আওয়ামী লীগের শিকড় বাংলার মাটিতে গভীরভাবে প্রোথিত। আওয়ামী লীগকে কেউ নিশ্চিহ্ন করতে পারবে না। ভবিষ্যতেও পারবে না। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বংশপরম্পরায় সবাই যেন জানতে পারে, সেভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে।

স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ সাজেদা চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ। স্মরণসভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *