বরিশাল বিভাগে বেড়েছে অভিযান ও আটকের পরিমান

৭১বিডি২৪ডটকম ॥ করেসপন্ডেন্ট;


বরিশাল


বরিশাল : ডিমওয়ালা মা ইলিশ নিধন বন্ধের অভিযান শেষ হয়েছে গেলো মধ্যরাতে। বরিশাল জেলার পাশাপাশি বিভাগের বাকী ৫ জেলায় মৎস অফিসের নেতৃত্বে চলেছে একটানা ২২ দিনের অভিযান। আর এ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মা ইলিশ শিকারের দায়ে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ৫’শ ৮০ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এ পর্যন্ত ১৬ লাখ ১৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং ১০ মেট্রিকটন ইলিশ ও ৪০ দশমিক ৩১ লক্ষ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় মৎস অফিসের সিনিয়র সহকারী পরিচালক আজিজুর রহমান।

তিনি জানান, গত ১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর রোববার মধ্যরাত পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় মৎস অধিদপ্তরের নেতৃত্বে মোট ২ হাজার ৯২ টি অভিযান ও ৯৬৮ টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। যার অনুকুলে ৭০৫ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি এ পর্যন্ত বেশ কিছু নৌকা ও ট্রলারও জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে এ বছরের হিসেব অনুযায়ী গত বছরের থেকে কয়েকগুন বেড়েছে অভিযান, মোবাইল কোর্ট, আটক, জেল-জরিমানার পরিমান। গত বছর বরিশাল বিভাগে মোট আটক জেলের সংখ্যা ছিলো ২৭৩ জন, যা এবছর জন বেড়ে দাড়িয়েছে ৫ শ’৩৩ জন। পাশাপাশি গত বছরের থেকে এ বছর ৩ লক্ষ্য ৪০ হাজার টাকা বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং ১০ লক্ষ ৪০ হাজার মিটার অবৈধ জাল ও ৬ মেট্রিকটন বেশি ইলিশ মাছ বেশি জব্দ করা হয়েছে। গত বছরের থেকে এ বছর ২২৬ টি অভিযান ১৩ টি মোবাইল কোর্ট ও ৩৪৫ টি মামলা বেশি দায়ের করা হয়েছে। গত বছর অভিযান হয়েছিলো ১ হাজার ৮৬৬ টি, মোবাইল কোর্ট হয়েছিলো ৯৫৫ টি ও মামলা হয়েছিলো ৩৬০ টি। অপরদিকে বরিশাল বিভাগের মধ্যে এ বছর সবচেয়ে বেশি ৬৪৮টি অভিযান পরিচালনা করেছে বরিশাল জেলা। যেখানে সবচেয়ে বেশি আটক জেল হয়েছে ৩৩২ জনের।

এ বিষয়ে জেলা মৎস অফিসের কর্মকর্তা (হিলসা) বিমল চন্দ্র দাস বলেন, মূলত নদীতে মাছ বেশি থাকায় অসাধু জেলেরা নদীতে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞার সময় নেমে থাকে। এবছর মৎস বিভাগ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সুষ্ঠ ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালাতে পারায় আইন অমান্যকারীদের বেশি করে আটক করাও সম্ভব হয়েছে।

আর জেলা মৎস কর্মকর্তা ড. তপন কুমার পাল বলেন, মৎস বিভাগের প্রতিটি সদস্য ও আইন-শৃ্ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্নিতভাবে নদী পাহারা দিয়েছে। জনপ্রতিনিধি থেকে সাধারন বহু মানুষ নিধন বন্ধে সহায়তাও করেছে। জাতীয় মাছ ইলিশ রক্ষায় সর্বোচ্চ নজরদারী রাখা হয়েছে। পাশাপাশি যেখান থেকেই তথ্য পাওয়া গেছে সেখানেই অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযান চালাতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানান সমস্যায় পড়লেও আইন অমান্যকারীদের কাউকে ছাড় দেয়া হয়নি। তবে এ সম্পদ রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে জাটকা নিধন বন্ধ ও প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ শিকার বন্ধের কারনে গত কয়েকবছর ধরে দেশে ইলিশের পরিমান বেড়েছে। মৎস অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ-পরিচালক মোঃ বজলুর রশিদ বিভাগীয় এই অভিযানকে সফল বলে দাবী করে বলেন, আগামী ১ নভেম্বর থেকে জাটকা বিরোধী অভিযান শুরু হচ্ছে যা চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। জাটকা বিরোধী অভিযান যদি সফল হয় তবে আগামীতে ইলিশের পরিমান আরো বাড়বে।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *