বরিশাল পলিটেকনিকের ছাত্র অপহরন ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা

৭১বিডি২৪ডটকম । করেসপন্ডেন্ট:


বরিশাল


বরিশাল : বরিশাল সরকারি পলিটেকনিক ইনিষ্টিটিউটের ছাত্র অপহরন এবং পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার দিবাগত রাতে অপহৃত ছাত্র এবং পুলিশ বাদী হয়ে মামলা তিনটি দায়ের করেন।

ঘটনার সময় ছাত্রাবাস থেকে ২৫ জনকে আটক করা হলেও এতে আসামী করা হয়েছে ১৮ জনকে। এছাড়া মামলায় আরো বেশ কিছু শিক্ষার্থীদের অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।

বুধবার রাতে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. আওলাদ হোসেন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থল হতে যাদের আটক করা হয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ১৮ জনের ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। যে কারনে ১৮ জনকে আপাতত মামলার আসামী করা হয়েছে। বাকিদের পুলিশি নজরদারীতে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, অপহরন, নির্যাতন এবং চাঁদাদাবীর অভিযোগ এনে বরিশাল সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর ৭ম সেমিস্টারের ছাত্র দ্বীপ কুমার পাল বাদী হয়ে দায়েরকৃত মামলয় আসাদুজ্জামান ফাহিম সহ তার সহযোগিদের আসামী করা হয়েছে।

এছাড়া পুলিশ বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাঁধা প্রদান এবং পুলিশেল উপর হামলার অভিযোগ এনে এ পৃথক মামলা দুটি দায়ের করেছে। তবে এ মামলা দুটির আসামীদের নাম জানা যায়নি।

এরআগে বুধবার দুপুরে বরিশাল সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অপহৃত এক ছাত্রকে ছাত্রাবাস থেকে উদ্ধার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে থানা পুলিশ।

পুরো ঘটনায় অপহরনকারী ছাত্রলীগ নেতাসহ ২৫ জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। পাশাপাশি ছাত্রাবাস থেকে অপহৃত ছাত্র ও ধারালো চাকুসহ বেশ কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

বিকেলে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানায় প্রেস ব্রিফিংকালে সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, বরিশাল সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের ৭ম সেমিস্টারের ছাত্র দেব কুমার পাল পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের জন্য ঢাকা থেকে বরিশালে আসে।

সকাল ৫ টার দিকেসে বাস থেকে নামার পরে নথুল্লাবাদ এলাকা থেকে তাকে ইনিষ্টিটিউটের প্রধান ছাত্রাবাসে ধরে নিয়ে আসে আসাদুজ্জামান ফাহিম। যে নিজেকে কলেজ ছাত্রলীগের একাংশের নেতা দাবী করেছেন।

পরে ছাত্রাবাসের পঞ্চম তলায় ৫০১ নম্বর রুমে দেবকে আটকে রেখে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। এমনকি চাঁদা আদায়ের জন্য ধরে আনা ওই ছাত্রকে হলের মধ্যে আটকে রেখে বিদ্যুৎ শক দেয়াসহ নানানভাবে অত্যাচার করে।

তিনি জানান, দাবীকৃত চাঁদা না দিলে দেবকে জবাই করে হত্যার ভয় ভীতি প্রদর্শন করা হয়। গোপন সংবাদের বিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে অপহৃত দেব কুমার পালকে উদ্ধার করে। পাশাপাশি ৫০১ নম্বরের ওই কক্ষ থেকে চাকু, কসটেপ ও বালতিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয় এবং আসাদুজ্জামান ফাহিমকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

তাদের থানায় নিয়ে আসার চেষ্টা কালে ফাহিমের সহযোগী ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা সঙ্গবব্ধ হয়ে অভিযানকারী পুলিশের ওপর হামলা চালায়।

এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হলে তাৎক্ষনিক ফোর্স বাড়িয়ে হামলাকারীদের ধরতে অভিযান চালানো হয়। পুরো অভিযানে ফাহিম সহ ২৫ জনকে আটক করা হয়।

এদিকে গুরুত্বর আহত থানা পুলিশের কনস্টেবল হাবিবুর রহমানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অপহৃত ছাত্র দেব কুমার পাল জানায়, ফাহিত মূলত হামলায় নিহত ছাত্রলীগ নেতা রেজার অনুসারী ছিলো।

 

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *