বরিশালে লঞ্চডুবি : মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৭

বরিশালের বানারীপাড়ার দাসেরহাট বাজারের মসজিদ বাড়ি ঘাট সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীতে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবির ঘটনায় আরো ৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট ২৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হলো।

শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সন্ধ্যা নদীর বিভিন্ন অংশ থেকে ওই তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই তিনজন হলেন বানারীপাড়ার মনোয়ারা বেগম (৪৫), উজিরপুরের আল্পনা রানী (২৫) ও একই এলাকার আট বছরের শিশু জিদান। পুলিশের হিসাব অনুসারে এখনও নিখোঁজ রয়েছে ২ জন।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের দাসেরহাট মজিদবাড়ী লঞ্চঘাট এলাকায় লঞ্চটি ডুবে যায়।

বেঁচে যাওয়া কয়েকজন যাত্রী জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বানারীপাড়া লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চটি ৪০-৫০ জন যাত্রী নিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা উজিরপুরের হাবিবপুরে যাচ্ছিল। পথে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লঞ্চটি সন্ধ্যা নদীর ভাঙনকবলিত দাসেরহাট মজিদবাড়ী ঘাটে ভেড়ে। যাত্রী ওঠানামার একপর্যায়ে নদীতীরের একটি বিরাট অংশ ভেঙে লঞ্চের ওপর পড়লে এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একদিকে কাত হয়ে তীব্র স্রোতে তলিয়ে যায়।

পরে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি টেনে পানির উপরিভাগে তোলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধারকারী জাহাজ ‘নির্ভীক’। এর পর লঞ্চ থেকে চারজনের লাশ উদ্ধার করেন নৌবাহিনীর ডুবুরিরা। রাত পর্যন্ত ২৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

২৮ জনের প্রাথমিক নিখোঁজ তালিকা থাকলেও তাদের মধ্য থেকে দুইজন বাড়ি ফিরে গেছে এবং ভুলভাবে তাদের নাম এই তালিকায় লিপিবদ্ধ হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বানারীপাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল আহসান। তবে আরো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করছেন বেঁচে যাওয়া যাত্রী ও স্থানীয়রা।

ওসি আরো জানান, উদ্ধারকৃত নৌযানটি জব্দ করা হয়েছে এবং এর মালিক বানারীপাড়া পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউসুফ আলী হাওলাদারের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরসহ তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

নৌযানটির কোনো রেজিস্ট্রেশন এবং রুট পারমিট ছিলো না বলে জানিয়েছেন বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এ ঘটনায় নৌযান মালিকের বিরুদ্ধে মেরিন আইনে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলেন তিনি।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *