বরিশালে দেড়মাস আগে অপহরণ হওয়া আজাদকে ড্রামে ভড়ে হত্যা

 

:: ৭১বিডি২৪ডটকম :: ব্যুরো প্রধান ::


হত্যা


:: বরিশাল :: বরিশাল নগরের বৈদ্যপাড়া এলাকা থেকে নিঁখোজ হওয়া আব্দুল্লাহ আল আজাদকে অপহরনের পরে হত্যা করে ড্রামে ভড়ে নদীতে ফেলে দেয়া হয়।

চলতি বছরের  গত ২১ ফেব্রুয়ারী বাবুগঞ্জের বাহেরচর সাধুকাঠী নদীর চর থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ে যে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে তা ছিলো আব্দুল্লাহ আল আজাদের। বরিশাল নগরের ইনফ্রা পলিটেকনিক কলেজের অটো মোবাইলস এর সপ্তম সেমিষ্টারের ছাত্র মেহেদী হাসান রনি (২৫) তাকে হত্যা করে ড্রামে ভরে ফেলে দেয়।

ঘটনার দেড়মাস পরে বৃহষ্পতিবার (০৫ এপ্রিল) দিবাগত রাতে বরিশাল মেট্রোপলিটনের এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ এক প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে এমন তথ্যই দিয়েছে।

প্রেস ব্রিফিং কালে সহকারী পুলিশ কমিশনার (এয়ারপোর্ট থানা) মোঃ রকিব হোসেন জানান, গত ১৫ ফেব্রুয়ারী বরিশাল নগরের বৈদ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল আজাদ রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়। এই ঘটনায় স্বামীকে অপহরনের অভিযোগ এনে ১৬ ফেব্রুয়ারি এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন তার স্ত্রী।

এদিকে ঘটনার পর থেকে আব্দুল্লাহ আল আজদ এর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার ঝুনুর ব্যবহৃত নম্বরে ফোন করে বিভিন্ন সময় স্বামীকে ফেরত পেতে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে খাদিজা আক্তার ঝুনু বাদী হয়ে ২৫ ফ্রেব্রুয়ারী চাঁদা দাবী ও অপহরনের অভিযোগ এনে একই থানায় মামলা দায়ের করেন। সময় অতিবাহিত হতে থাকলে স্বামীকে ফেরত পেতে গ্রেফতারৃত রনি’র দেয়া বিকাশ নম্বরে বিভিন্ন সময়ে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন খাদিজা আক্তার।কিন্তু তাতেও কোন কাজ হয়নি।

সর্বশেষ পুলিশ গোপনীয় তদন্ত, বিশ্বস্ত সোর্স ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার দুপুরে ইনফ্রা পলিটেকনিক ছাত্র মেহেদী হাসান রনিকে সন্দেহজনক ভাবে বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর নয়ঘর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। সে ওই এলাকার বাসিন্দা মশিউর রহমান রানা’র ছেলে। তাকে আটকের পরই জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে আজাদ অপহরন, হত্যা ও গুমের মূল রহস্য।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফিরোজ আলম মুন্সি রনি’র দেয়া স্বীকারক্তিমুলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে জানান, গত ১৫ ফেব্রুয়ারী নগরের নথুল্লাবাদ থেকে আব্দুল্লাহ আল আজাদকে কৌশলে অপহরণ করে রনি। পরবর্তীতে আজাদকে নগরের রূপাতলী এলাকায় বসুন্ধরা হাউজিং এর ভাড়া বাসায় নিয়ে যায় এবং সেখানে হাত-পা বেঁধে জোরপূর্বক ঘুমের ওষুধ প্রয়োগ করে আজাদকে ড্রাম বন্ধি করে রাখে। সুযোগ বুঝে ৭ শত টাকায় একটি মাহেন্দ্র (থ্রি হুইলার) ভাড়া করে রাতের আধারে বাবুগঞ্জ থানাধীন সাধুকাঠী এলাকার নদীর চরে ফেলে দেয়। আর ড্রামের মধ্যে বন্দী থাকা অবস্থায় মৃত্যু হয় আব্দুল্লাহ আল আজাদের।

মেহেদী হাসান রনির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ জানায়, গত ২১ ফেব্রুয়ারী বাবুগঞ্জের বাহেরচর সাধুকাঠী নদীর চর থেকে পুলিশ যে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে সেটিই ছিলো আব্দুল্লাহ আল আজাদের। কিন্তু সেটি অজ্ঞাত পরিচয়ে দাফন করা হয়েছে।  এছাড়াও রনি’র দেয়া স্বীকারক্তি অনুযায়ী তার নিজ বাড়ির মাইক্রো ওভেনের মধ্য হতে নিহত আব্দুল্লাহ আল আজাদ এর ব্যবহৃত মোবাইল ও সিম কার্ডটি উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে পুলিশের কাছে রনি দাবী করেছে, আব্দুল্লাহ আল আজাদ এর প্রতিবেশি ছিলো রনি। সেই সুবাদে প্রায় সময়েই রনিকে বলাৎকারের প্রস্তাব দেয় আজাদ। বিভিন্ন সময়ে তাকে জোর করে বলাৎকারও করে আসছিলো। যার প্রতিবাদে আজাদকে অপহরণ ও হত্য করতে বাধ্য হয় সে।

তবে এয়ারপোর্ট থানার ওসি (তদন্ত) এম আর মুকুল আনোয়ার হোসেন বলেন, আসলে বলৎকারের বিষয়টি আটককৃতের বক্তব্য। এ ঘটনায় এখনো কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্চে। এমনও হতে পারে হত্যাকারি নিজেকে বাঁচাতে এমন তথ্য দিচ্ছে। এই অভিযোগ প্রমান না হলে সে বিষয়ে আমরা কিছু বলতে চাচ্ছিও না। তিনি বলেন, আজাদ অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে আজ আদালতে প্রেরণ করা হবে, সেখানে সে জবানবন্দি দিবে।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *