বরিশালে চামড়া নিয়ে বিপাকে ব্যবসায়ীরা

বরিশাল :

ঈদুল আজহায় কোরবানি দেওয়া পশুর চামড়া নিয়ে বিপাকে পরেছেন মৌসুমী ও পাইকার ব্যবসায়ীরা। এর কারন হিসেবে মূলধন কমে যাওয়া, সঠিক দাম না পাওয়া, মৌসুমী কসাইদের কারনে চামড়ার মানে প্রভাব ফেলা, লবনের দাম ও শ্রমিকের মজুরী বেশি হওয়ার মতো অভিযোগ গুলোকে তুলে ধরছেন ব্যবসায়ীরা।

তবে মৌসুমী ও পাইকার ব্যবসায়ীদের পাল্টাপাল্টি নানান অভিযোগের মধ্যেই প্রচুর চামড়া সংগ্রহ করেছেন বরিশালের পদ্মাবতি রোডের ব্যবসায়ীরা। বরিশালের পোর্টরোডের চামড়া পট্রি ঘুরে দেখা যায়, মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে এখানে চামড়া নিয়ে আসতে শুরু করেন মৌসুমী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। দুপুরে গরুর একটি মাঝারি আকারের চামড়ায় দাম হাজার টাকা দেয়া হলেও বিকেল হতে না হতেই এর দাম কমতে শুরু করে। সন্ধ্যার পর এসব চামড়া ৬ থেকে ৮ শত টাকায় কিনতে দেখা গেছে পাইকারদের। তবে বড়ো চামড়ায় দাম এরচেয়ে একটু বেশি ছিলো। আর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি ছাগলের চামড়া ক্রয় করা হচ্ছিলো ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে। যে দর চলে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত। দাম কম হলেও বিকল্প বিক্রির ব্যবস্থা না থাকায় এখানেই মৌসুমী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হন। ফলে কোরবানীর ঈদকে পুঁজি করে যে সব মৌসুমী ব্যবসায়ী তৃণমূল থেকে চামড়া কিনে এখানে এসেছেন তাদের মাথায় হাত দেয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। এরই মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকেই সরগরম হয়ে ওঠা পদ্মাবতি রোডে চামড়া সংরক্ষন করার কাজ শুরু হয়েছে, শ্রমিক সংকট থাকায় এ কাজ আরো ১/২ দিন চলবে বলে জানিয়েছেন মোকাম ব্যবসায়ীরা।

এদিকে দ্বিতীয় দিনে কোরবানী দেয়া পশুর চামড়া ও মাদ্রাসার চামড়াগুলো সকাল থেকে চামড়া পট্রিতে আসতে শুরু করে। মোকামের ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের দাম কম দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ মৌসুমী ব্যবসায়ীদের।

অপরদিকে অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত দামের চেয়ে দাম বেশি দিয়েও মৌসুমী ব্যবসায়ীদের খুশি করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ পাইকারদের। বরিশাল চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান শাহিন জানান, কম মূল্যে চামড়া ক্রয় করার বিষয়টি ভিত্তিহীন, বরিশালের পাইকাররা সর্বোচ্চ চামড়ার মূল্য দেয়ার চেষ্টা করছেন। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বরিশালের পাইকার ব্যবসায়ীদের সাথে কথা না হবে ঘোষনা অনুযায়ী আবার অনেক ক্ষেত্রে তার চেয়ে বেশি দামেও চামড়া কিনেছেন। আবার মৌসুমী কসাইদের কারনে ছুড়ি/চাকুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ চামড়াও তারা চড়া দামে কিনছেন।

অপরদিকে বরিশাল থেকে ট্যানারীতে চামড়া পাঠানোর জন্য যে সংরক্ষনের কার্যক্রম চালানো হয় তার খরচের কথা একবারও মাথায় রাখেনি তারা। তিনি জানান, এছাড়াও লবনের অতিরিক্ত দামের কারনে চামড়া প্রসেসিং এ খরচ এ বছর বেড়ে গেছে কয়েকগুন। পাশাপাশি ঈদের সময় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে, যাও মিলছে তাও চড়া মূল্যে, আর অভিজ্ঞ শ্রমিক ছাড়া চামড়া সংরক্ষনের কাজ করা কঠিন। শ্রমিক না পেয়ে অনেক আবার স্থানীয় প্রকৃয়া বরফ দিয়ে চামড়া ভালো রাখার চেষ্টা করছেন।

মৌসুমী ব্যবসায়ীদের একজন তরিকুল ইসলাম জানান, গত বারের চেয়ে এবার গরুর একটি চামড়ায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কম পাওয়া যাচ্ছে। এখানকার ট্যানারির এজেন্টরা সবাই এক জোট হয়ে কম দাম দিচ্ছে। আর ছাগলের চামড়া তো হ্যাচকা ২০ টাকায় কিনছেন তারা।

অপর মৌসুমী ব্যবসায়ী জলিল বলেন, এখানে চামড়া আনার পর মোকাম মালিকরা এমন একটা ভাব করছেন, তাদের চামড়ার কোন প্রয়োজন নেই। দিলে দিয়ে যেতে পারেন। বরিশাল চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি মোঃ শামিম জানান, লোকসান আর ট্যানারি ব্যবসায়ীদের কাছে বকেয়া টাকা আটকে থাকায় এবারে মূলধন কম নিয়ে মাঠে নেমেছেন ব্যবসায়ীরা। তাই ইচ্ছে থাকলেও অল্প চামড়া কিনেই তারা ঘরে উঠে যাচ্ছেন। অনেকে তো এ ব্যবসা ছেড়েই দিয়েছেন।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *