বরিশালে কীর্তনখোলা নদীতে লঞ্চ-স্টীমার সংঘর্ষ, নিহত ৫ : আহত ৫

বরিশাল :

বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে ঢাকাগামী সুরভি-৭ লঞ্চের সঙ্গে বরিশালগামী পিএস মাহসুদ স্টীমারের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে করে ৫ জন যাত্রী নিহত ও ৫ জন যাত্রী আহত হয়েছে। সোমবার (৪ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে কীর্তনখোলার চরবাড়িয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত বরিশাল নগরের কাশিপুর এলাকার কালু (৩০), মোড়লগঞ্জের ফারজানা (১৯), বাগেরহাটের শাকিল সর্দার (২১), রুবেল (২২) ও চাঁদপুরের নুরুল ইসলাম (৫০) কে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স ও সার্জারী ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। অপরদিকে মোড়লগঞ্জের সীমা আক্তার (২০) ও বরিশাল নগরের কাউনিয়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জামাল উদ্দিনের মেয়ে তামানśা (১২) এর পরিচয় পাওয়া গেছে। তবে অজ্ঞাত ৩৫ বছরের এক নারী ও অজ্ঞাত ৪০ বছরের দুই ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়নি। ভোররাতে কীর্তনখোলা নদীতে ওই দূর্ঘটনায় স্টীমারটির বামপাশের প্যাডেল ও এর আশপাশের অংশ দুমড়ে মুচড়ে গেলে লঞ্চটি ঘটনাস্থলে নোঙর করা হয়। খবর পেয়ে বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের ৪ টি ইউনিট, কোষ্টগার্ড, নৌ-পুলিশ, মেট্রোপলিটন পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তাৎক্ষনিক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। পিএস মাহসুদের মাস্টার জয়নাল আবেদীন জানান, স্টীমারটি ঢাকা থেকে চাঁদপুর হয়ে বরিশালের দিকে যাচ্ছিলো স্ট্রীমারটি। চরবাড়িয়া এলাকায় আসলে বিপরীতগামী (ঢাকাগামী) সুরভী-৭ লঞ্চটি এক টানা হর্ন দেয়। নৌ আইন অনুযায়ী এক টানা হর্ন দিলে নৌ যানগুলো যে যার ডান দিক থেকে চলবে। হর্ন অনুযায়ী স্ট্রীমারটি ডান দিকে নিয়ে যাওয়া হলেও লঞ্চটি তার দিক পরিবর্তন না করে স্ট্রীমারটিকে ধাক্কায় দেয়। তিনি জানান, এতে স্টীমারের বামপাশের প্যাডেলসহ ডেকের অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। কয়েকটি কেবিন যাত্রীদের নিয়ে দুমড়ে মুচরে যায়। জাহাজটি চলাচলে অক্ষম হয়ে পড়লে নদীর ওই স্থানে নোঙর করে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। বরিশাল বিআইডব্লিউটিসি’র সহকারি মহা ব্যবস্থাপক আবুল কালাম জানান, ঘটনার পরপরই ৫ জন আহতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে একে একে ক্ষতিগ্রস্থ অংশ থেকে নিহত ৫ জনের মরদেহ বের করে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তিনি জানান, স্ট্রীমারটিতে ৭শ’র মত যাত্রী ছিলো, তবে এদের বাহিরে কেউ হতাহত হয়নি। তাদেরকে সরকারী যাত্রীবাহি জাহাজ এমভি মধুমতির সাহায্যে গন্তব্যে পৌছে দেয়া হচ্ছে। তবে রুবেল নামে আহত এক যাত্রী জানিয়েছেন জাহাজটিতে প্রায় দেড় থেকে ২ হাজার যাত্রী ছিলো। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপ-পরিচালক এবং বরিশাল নৌবন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে বরিশাল আসে সুরভী ৭ লঞ্চটি। ভোররাতে যাত্রী ঘাটে নামিয়ে দিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে খালি রওয়ানা দেয়। আর পিএস মাহসুদ নামের স্টীমারটি যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে বরিশালের দিকে আসছিলো। তিনি আরো জানান, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত স্ট্রীমারটিকে টাগবোট দুর্বারের সাহায্যে টেনে বরিশাল নৌ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অপরদিকে সুরভী-৭ লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের সহকারি পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ফারুক হোসেন জানান, তারা ৩ জন নারী সহ ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। এছাড়া জীবিত উদ্ধার হয়েছে আরো ৫ জন। তবে কোন নিঁেখাজের খবর পাননি তারা। উদ্ধার অভিযান সকাল ৯ টার দিকে শেষ হয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে এ দূর্ঘটনার খবর পেয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক ড.গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান, বিএমপি’র পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন, জেলার পুলিশ সুপার এস এম আকতারুľামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবুল কালাম আজাদ, বিএমপি’র উপ পুলিশ কমিশনার আবু সালেহ মোঃ রায়হান, আঃ রউফ, সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহানাজ পারভীন, আসাদুľামান, সহ জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, কোষ্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উর্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ও উদ্ধার অভিযান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক ড.গাজী মোঃ সাইফুľামান জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহতদের চিকিৎসায় সার্বিক সহযোগীতা করা হবে। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ও আহতদের সার্বিক খোজ খবর রাখা হচ্ছে।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *