বরিশালে অপহরণের আট দিন পর শিশু উদ্ধার

৭১বিডি২৪.কম । করেসপন্ডেন্ট;


অপহরণ


বরিশাল : অপহরণের পর আটকে রেখে নির্যাতনের ৮ দিন পর পরিবারের কাছে ফেরত দেয়া হয়েছে পঞ্চম শ্রেনীতে অধ্যায়নরত এক ছাত্রীকে (১৩)।

শনিবার সকাল দশ টায় সাবেক কাউন্সিলর শালিসী করে অপহরণকারী মহসিনকে (৩৫) ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানার মাধ্যমে ঘটনা ধামাচাপা দিলে ক্ষুব্ধ হন স্থানীয়রা। বিষয়টি তারা সাংবাদিকদের জানালে ঘটনাস্থলে গেলে এরপর দুপুরে পুলিশ এসে নির্যাতিত ছাত্রীকে ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যায়। মহসিন বরিশাল নগরীর ২২ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিল আনম সাইফুল আহসান আজিমের টোটাল গ্যাসের গাড়ি চালক এবং কাজীপাড়া মুন্সিবাড়ি এলাকার ভাড়াটিয়া।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন মহসিনের বাড়ি মাদারীপুরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। নির্যাতিত ওই ছাত্রীর দেয়া বর্ণনা হলো, মহসিন তাদের বাসার সামনে সাবেক কাউন্সিলরের গ্যাসের দোকানের গাড়ির চালক। মহসিনের গাড়ির হেলপার মাসুদের স্ত্রী মালিয়া ওর সাথে পড়ে। ২ ডিসেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় আরবি পড়া শেষে ঘরে ফেরার পথে মালিয়া তাকে আচার খাওয়ায়। এসময় অচেতন হলে মহসিন বাসযোগে তুলে নিয়ে যায় তাকে। পরদিন শনিবার বেলা ১২ টার দিকে ছাত্রীটির জ্ঞান ফিরলে জানতে পায় এটি মাদারীপুর মহসিনের বোনের বাড়ি। বরিশালে বাসায় ফিরতে চাইলে আটকে রেখে নির্যাতন করে মহসিন ও তার বোনেরা। এরপর মহসিনের স্ত্রী ছালমা গিয়ে তাকে নিয়ে এসে ৯ ডিসেম্বর শুক্রবার বরিশালে বাসায় পৌঁছে দেয়।

নির্যাতিত শিশুটির মা বলেন, খোঁজ করে মেয়েকে কোথায়ও না পেয়ে দুই দিন পর কোতোয়ালী থানায় জিডি করেন। এরপর সন্দেহ হলে মহসিনের মোবাইল নম্বরে ফোন দিয়ে ঢাকায় আছে বলে জানায়। ঠিকানা মতে স্বামীকে পাঠিয়ে কোন খোঁজ মেলেনি। এরপর মহসিনের বড় স্ত্রী ছালমাকে চাপ দিলে শুক্রবার রাত দশটায় মাদারীপুর থেকে আমার মেয়েকে বাসায় নিয়ে আসে। এরপর ছালমাকে আটকে রাখি। পরদিন সকালে স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর ও আনান্য লোককেরা এসে শালিসী করার কথা বলে ছালমাকে নিয়ে যায়। আর আমাদের বলে, যা হবার হয়েছে ইজ্জতের বিষয় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে ওই নিয়ে চুপচাপ থাকো।

শালিসীদারদের মধ্যে একজন স্থানীয় মুদি দোকানী মিজানুর রহমান বলেন, মহসিনের আরো ৩ টি বিয়ে আছে। এজন্য ওর সাথে মেয়েটির বিয়ে দেয়া ঠিক হবেনা বিচার করে আর্থিক জরিমানা করেছি। মেয়ের বাবা বিয়ের জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা চাইলে মহসিন বলেছে মামা টাকা টোকাতো খরচ হয়ে গেছে ৩০ হাজার টাকা দিতে পারবো। সেই অনুযায়ী ত্রিশ হাজার টাকায় রফা হয়েছে।

এনিয়ে শিশুটির বাবা চায়ের দোকানী বলেন, তিনি এমনিতেই অসহায়। অপরদিকে সাকেব কাউন্সিলর আজিম ভাই ও আরো লোকেরা শালিসী করায় তিনি না বলতে পারেনি। তবে এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার চান তিনি।

নগর পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) গোলাম রউফ খান বলেন, অপহরণের পর আটকে রেখে নির্যাতনের ন্যায় এই ঘটনা আদৌ শালিসের মাধ্যমে মিমাংসা হওয়ার নয়। এর অঅগে জিডি হওয়ার পর আমরা বিভিন্ন থানায় সংবাদ পাঠিয়েছি। এখন শিমুটি উদ্ধার করে ভিক্টিম সার্পোট সেন্টারে রাখা হবে। এরপর তার অভিভাবকদের মাধ্যমে মামলা নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ন্যায্য বিচারের জন্য সব করা হবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *