বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসেই রাজনীতি করতে চাই

(৭১বিডি২৪)আবির রায়হান:

শেখ হাসিনা মুক্তি আন্দোলন থেকে শুরু করে দশম জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন ও অন্যান্য আনোন্দলনের সময় দলের ক্রান্তিলঘ্নে যখন অনেক ছাত্রলীগ নেতা মাঠে নিস্ক্রিয় ছিলেন তখনও রাজপথে সক্রিয় থাকতে দেখা গিয়েছিলো আরিফুর রহমান লিমনকে। বর্তমান ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সাথে সার্বক্ষনিক থাকতেন মধুর ক্যান্টিন আর ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে। সদ্য ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ন পদ পেয়েছেন বরগুনা জেলার এই কৃতি সন্তান। এর আগে তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতির শুরুতে দায়িত্ব পান মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের। সম্প্রতি নিউজ বিডি৭১ এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় ব্যক্ত করেছেন ছাত্ররাজনীতি নিয়ে তার প্রত্যাশা ও চিন্তা-ভাবনা।

কখন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে হাতেখড়ি- এমন প্রশ্নের জবাবে এই পরীক্ষিত ছাত্রনেতা বলেন, আমার দাদা ছিলেন বামনা থানার ভুকাবুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং চাচা বর্তমানে ভুকাবুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক। দাদা সব সময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলতেন। আমি সহ আমার ভাই বোনদের সব সময় বঙ্গবন্ধুর গল্প শোনাতেন। কোন মানুষ আমাদের বাড়িতে প্রয়োজনে আসলে দাদা সব সময় তাদের উপকার করতেন। দাদার কাছে বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনে ও তার রাজনৈতিক কর্মকান্ড দেখে এবং আমার চাচার পরামর্শে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে পদার্পন করি।

বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসেই রাজনীতি করতে চাই২০০১ সালে ভুকাবুনিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে ছাত্ররাজনীতির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন লিমন। এর পর আসাসুনি কলেজ ছাত্রলীগের ইয়ার কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে আসাসুনি কলেজ ছাত্রলীগের প্রস্তাবিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনিত হন। ২০০৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জিয়াউর রহমান হল ছাত্রলীগের ১ নং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যখন ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ছিলেন জিয়া হল সাধারণ সম্পাদক। এরপর ছাত্রলীগের গত সোহাগ-নাজমুল কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন উপ-প্রচার সম্পাদক হিসেবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র লিমন ২০০২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ‘এ’ গ্রেড পেয়ে বরগুনা জেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। এরপর ২০০৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় ‘এ’ প্লাস পান। বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতির শুরু থেকেই থাকতেন ছাত্রলীগ সভাপতি সোহাগের সাথে জিয়া হলের ৩১০ নম্বর রুমে একই সাথে। হল রাজনীতি থেকেই একই সাথে তাদের পথচলা শুরু।

বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসেই রাজনীতি করতে চাইছাত্রলীগ সভাপতির বিশ্বস্তবন্ধু ছাত্র রাজনীতিতে তার অবদানের কথা জানিয়ে বলেন- আমি ২০০৫ সালে প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী বিভাগে ভর্তি হই। তখন থেকেই বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে হরতাল-অবোরোধসহ সকল দলীয় কর্যক্রমে সক্রিয় ছিলাম। এর পর দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই এবং জননেত্রী শেখ হাসিনা মুক্তি আন্দোলন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিরোধী আন্দোলনসহ সকল রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। এরমধ্যে গত ২০১৫ সালে নেপালে ভূমিকম্প দূর্গতদের সহায়তার জন্য ছাত্রলীগের ‘এইড ফর নেপাল’ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের প্রতিনিধি হিসেবে নেপাল গিয়ে ভূমিকম্প দূর্গতদের সহায়তা করে এসেছি। আমি সংগঠনের জন্য অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও সাইফুর রহমান সোহাগ এর নেতৃত্বে একই ভাবে কাজ করে যাবো।

ভবিষ্যত ছাত্রলীগ কেমন দেখতে চান, এরকম প্রশ্নে উত্তরে লিমন বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার ‘ভিশন ২০২১’ ডিজটাল বাংলাদেশের স্বপ্নকে এগিয়ে নেওয়ার পথ প্রদর্শক হবে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগ ভিশন ২০২১, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার, শিক্ষার অধিকার ও সকল মুক্তির আন্দোলনে অগ্রনী ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যত এ ধরনের যেকোন আন্দোলনে আমি সক্রিয়ভাবে অবদান রাখব। পারিবারিক কারনেই ছাত্রলীগের মত আদর্শ ভিত্তিক একটি ছাত্রসংগঠনে নিজেকে যুক্ত করতে পেরেছি। আর ভবিষ্যতে সারাটা জীবন এই আদর্শেই অটল থাকতে চাই। বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসেই ও তার আদর্শকে লালন করেই রাজনীতি করে যাবো।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রশংসা করে আরিফুর লিমন বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ তড়িৎ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। যদি এভাবে আর দশ বছর শান্তিপূর্ন ভাবে জননেত্রী দেশকে পরিচালনা করতে পারেন তাহলে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যাবে সেদিন আর বেশী দূরে নয়। শেখ হাসিনা শুধু বাংলাদেশের নেতাই নন, তিনি বিশ্ব রাজনীতিতেও একজন গুরুত্বপূর্ন নেতৃত্ব। আর এর প্রমান স্বরূপ ইতিমধ্যেই তিনি ‘সাউথ সাউথ পুরষ্কার, চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা অর্থ পুরষ্কারসহ’ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পদকে ভূষিত হয়েছেন। ভবিষ্যতে জননেত্রীর যে কোন আহবানে ছাত্রলীগের পক্ষথেকে তার পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *