পুলিশকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে একাত্ম হতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

৭১বিডি২৪ডটকম | অনলাইন ডেস্ক;


পুলিশকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে একাত্ম হতে হবে : প্রধানমন্ত্রী


শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে কমিউনিটি পুলিশিংকে আরও জোরদার করা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে একাত্ম হয়ে পুলিশ সেবাকে আরও জনবান্ধব করার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঔপনিবেশিক আমলের ধ্যান-ধারণার পরিবর্তে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পুলিশের সেবাকে আরও জনবান্ধব করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে অসহায় ও বিপন্ন মানুষের প্রতি অকুণ্ঠচিত্তে সেবার হাত প্রসারিত করতে হবে।’

রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে সোমবার (২৩ জানুয়ারি) পুলিশ সপ্তাহ ২০১৭-এর উদ্বোধন, ১৩২ জনকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এবারের পুলিশ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ‘জঙ্গি মাদকের প্রতিকার, বাংলাদেশ পুলিশের অঙ্গীকার’।

প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার ভাষণের উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ভাষণে যে কথা বলেছিলেন- ‘আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। আমাদের পুলিশ বাহিনী স্বাধীন দেশের পুলিশ বাহিনী। আমাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে দায়িত্ববোধ থাকতে হবে জনসেবা করার মানসিকতা নিয়ে।’

শান্তিময় ও নিরাপদ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে সরকার আরও জোরদার করবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর পুলিশকে আধুনিক ও জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে বহুমুখী পদেক্ষপ নিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি আত্মমর্যাদাশীল এবং আত্মনির্ভরশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু দেশি-বিদেশি একটি চক্র বাংলাদেশের এ অগ্রযাত্রাকে বানচালের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। গণতান্ত্রিক পথে মানুষের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়ে এরা সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে।

তিনি বলেন, কোমলমতি যুবক-কিশোরদের ধর্মের নামে বিভ্রান্ত করে জঙ্গিবাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ধর্মের অপব্যাখ্যা করে তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে সহিংস আক্রমণের মাধ্যমে মানুষ হত্যার মতো বর্বরোচিত কর্মকান্ডে প্ররোচিত করছে।

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদকে একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং আমাদের উন্নয়নের প্রধান বাধা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি হলি আর্টিজান এবং শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলা মোকাবিলায় ৪ জন পুলিশ সদস্য আত্মোৎসর্গ করেছেন। নির্ভীক এই ৪ পুলিশ সদস্যের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অসংখ্য প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় পুলিশের সাফল্য প্রসঙ্গে আরও বলেন, সম্প্রতি আশুলিয়ার আশকোনা এবং মিরপুরের কল্যাণপুরে পুলিশ জঙ্গিবিরোধী বিশেষ অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করেছে। পুলিশ জঙ্গি হামলার মাস্টারমাইন্ড, অস্ত্রদাতা, প্রশিক্ষক এবং আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।

২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের ২১ জন সদস্য জীবন দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের আত্মত্যাগ শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালের ফেব্রæয়ারি মাস থেকে গণতন্ত্রবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী, জনবিচ্ছিন্ন সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বিএনপি-জামায়াত শিবিরচক্র দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। তাদের সহিংসতা, নাশকতা, জ্বালাও-পোড়াও, নিরীহ মানুষ হত্যা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের চেষ্টা পুলিশ রুখে দিয়েছে।’

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচন ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে’ সম্পন্ন করতে পুলিশ সদস্যরা ‘অত্যন্ত দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে’ দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষা করেছেন। এজন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

১৩২ জনকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য ২৬ জনকে ২০১৬ সালের বিপিএম এবং ৪১ জনকে পিপিএম দেওয়া হয়।

এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের জন্য ২৪ জন বিপিএম (সেবা) এবং ৪১ জন পিপিএম (সেবা) পেয়েছেন এবার।

শেখ হাসিনা পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করে বলেন, ‘শুধু দেশেই নয়, গত প্রায় দুই যুগের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ পুলিশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে নিজেদের কর্মদক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় প্রদান করে বহির্বিশ্বে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।’

এর আগে প্রধানমন্ত্রী প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইজিপি একেএম শহীদুল হক এবং প্যারেড কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোখলেসুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

‘পুলিশ সপ্তাহ-২০১৭’ উপলক্ষে পুলিশ সদস্যদের মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্যারেড কমান্ডার চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারকে সঙ্গে করে একটি খোলা জিপে প্যারেড পরিদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের মাঝে ৪টি ক্যাটাগরিতে ১৩২ জন পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক বিতরণ করেন।

২০১৬ সালের মরণোত্তর পুলিশ পদক বিপিএম পান গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় নিহত পুলিশ সদস্য শহীদ রবিউল ইসলাম সিনিয়র এসি ডিবি ডিএমপি এবং শহীদ মো. সালাউদ্দিন খান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গুলশান থানা। উভয়ের স্ত্রী এই মরণোত্তর পদক গ্রহণ করেন।

একই সঙ্গে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতে জঙ্গি হামলা প্রতিরোধে নিহত পুলিশ কনস্টেবল শহীদ জহীরুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জের পক্ষে তাঁর স্ত্রী এবং পুলিশ কনস্টেবল শহীদ আনসারুল হক কিশোরগঞ্জের পক্ষে তাঁর মা মরণোত্তর পুলিশ পদক গ্রহণ করেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেন্টার এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও একাত্তরের বীর শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘রাজারবাগ-৭১’ নামের আবক্ষ মূর্তির নামফলক উন্মোচন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার পর প্যারেড কমান্ডারসহ কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়া শিল্পাঞ্চল, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, মেট্রোপিলিটন পুলিশ, র‌্যাব, এসপিবিএন, যৌথ রেঞ্জ, বিশেষায়িত পুলিশ, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী, নারী সদস্য, ট্রাফিক পুলিশ কন্টিনজেন্টের অধিনায়কদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রী ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সপ্তাহ ২০১৭ উদযাপন উপলক্ষে একটি কেক কাটেন। মন্ত্রি পরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন উত্তরের মেয়রসহ সামরিক ও বেসামরিক পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনীতিক, কূটনৈতিক মিশনের সদস্য, দাতা সংস্থার প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেশের উন্নয়নের পূর্বশর্ত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, আইনশৃঙ্খলা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থকে আমরা ব্যয় নয়, বিনিয়োগ মনে করি। আমাদের সরকারের গৃহীত উন্নয়ন কার্যক্রমের বিস্তৃতি দেশের প্রধান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাংলাদেশ পুলিশেও সমভাবে বিস্তৃত হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্বায়নের প্রেক্ষিতে পুলিশের কর্মক্ষেত্র ও কর্মব্যাপ্তি প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেবল চুরি-ডাকাতি, হত্যা-রাহাজানি বন্ধ নয়, পুলিশের কাজের ক্ষেত্র আজ বিস্তৃত হয়েছে-সাইবার ক্রাইম, মানি লন্ডারিং, মাদক পাচার এবং পণ্য চোরাচালান ও নারী-শিশু পাচার প্রতিরোধে, এমনকি জলজ ও বনজ সম্পদ এবং পরিবেশ সংরক্ষণেও।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের নারী সদস্যরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় ভ‚মিকা পালন করছে। বৈশ্বিক পরিন্ডলে আমাদের পুলিশ সদস্যদের অর্জিত অভিজ্ঞতা দেশের আইনশৃঙ্খলাসহ গণতন্ত্রের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখছে।

পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তনশীল বিশ্বে প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ও অপরাধের নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশের আধুনিকায়নের বিকল্প নেই। বাংলাদেশ পুলিশের কৌশলগত পরিকল্পনা, অবকাঠামো এবং মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করে কর্মক্ষেত্রে পুলিশের সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

পুলিশের উন্নয়নে গৃহীত সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারই ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশ পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে ৭৩৯টি ক্যাডার পদসহ ৩২ হাজার ৩১টি পদ সৃজন করে।

দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশের জনবল যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার বাংলাদেশ পুলিশে আরও ৫০ হাজার জনবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৪১ হাজার পদ সৃজন করা হয়েছে। বর্ধিত জনবলের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যানবাহন ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি সরবরাহের বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট গঠন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট গঠন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ গঠন করা হয়েছে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ গঠনের ফলে শিল্প প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে গার্মেন্ট সেক্টরে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া আরও বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট যেমন-পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং ২টি স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ব্যক্তির নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত ও জোরদার করতে তাঁর সরকার বিশেষায়িত ব্যাটালিয়ন গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

পুলিশ বাহিনীর এসআই/সার্জেন্ট পদকে ৩য় থেকে ২য় শ্রেণিতে এবং ইন্সপেক্টর পদকে ২য় থেকে ১ম শ্রেণিতে উন্নীত করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক প্রদত্ত আইজিপির র‌্যাংকব্যাজ পুনঃপ্রবর্তনপূর্বক আইজিপির পদকে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় উন্নীতকরণ এবং পুলিশ বিভাগের ২টি গ্রেড-২ পদকে গ্রেড-১ পদে উন্নীত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এপিবিএন বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারসহ সারাদেশে ৩০টি ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে সিআইডিতে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেন্টার এবং সাইবার ক্রাইম ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।

পুলিশ সদস্যদের জন্য ঝুঁকি ভাতা প্রবর্তন, পুলিশের আবাসন, চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধিসহ পুলিশের জনসেবা বুদ্ধির জন্য সরকারের চালু করা ‘বিডি পুলিশ হেল্প লাইন’ নামক অ্যাপ চালুর প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার পথ অনুসরণ করে আমরা বাংলাদেশ পুলিশে নারীদের নিয়োগ দিচ্ছি।

প্রথমবারের মতো ২০১৫ সালে বাংলাদেশ পুলিশে ট্রাফিক সার্জেন্ট হিসেবে নারীদের নিয়োগ প্রদান করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পুলিশে সর্বপ্রথম ১৯৭৪ সালে নারীদের নিয়োগ প্রদান করেন, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশ পদক ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘এত বিপুলসংখ্যক পদক আর কখনও প্রদান করা হয়নি। এ পদক আপনাদের কাজের স্বীকৃতির পাশাপাশি আপনাদের ভবিষ্যতেও আরও পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করবে। পাশাপাশি আপনারা সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে ব্রতী হবেন।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা অব্যাহত থাকলে আমরা অচিরেই জাতির জনকের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশের দারিদ্র্যের হার ২২ শতাংশে কমিয়ে আনা, ১২৩ ভাগ বেতন বৃদ্ধি, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি, উপবৃত্তি প্রদানসহ তাঁর সরকারের সময়ে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, আমরা জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। আমরা কারো কাছে হাত পেতে নয়, ভিক্ষা করে নয়- নিজেদের আত্মনির্ভরশীল, মর্যাদাবান জাতি হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

এই দেশকে আমরা ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশের তালিকায় স্থান পাবে-ইনশা আল্লাহ। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হবে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ। সেই লক্ষ্য অর্জনেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’ভোরেরপাতা

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *