পটুয়াখালী-৪ আসন আ’লীগের চায় আসন ধরে রাখতে, বিএনপির চায় ফিরে পেতে

:: ৭১বিডি২৪ডটকম :: মো. ছগির হোসেন ::


পটুয়াখালী-৪ আসন আ’লীগের চায় আসন ধরে রাখতে, বিএনপির চায় ফিরে পেতে


:: কলাপাড়া (পটুয়াখালী) :: ১১৪ পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে জমে উঠেছে প্রচার প্রচারনা। প্রতিক বরাদ্দের পর এ আসনে নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়ে সব দলের প্রার্থীরা। এই আসনে মুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মহাজোট ও ঐক্য ফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থীর মধ্যে। বিএনপি মনোনীত ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী এবিএম মোশাররফ হোসেনের চেয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত মহাজোট প্রার্থী মো. মহিব্বুর রহমান মহিব প্রচার প্রচারনায় এগিয়ে রয়েছে। এই আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাটি হিসেবে পরিচিত।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর এখানে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ শুরু করে। এরমধ্যে উল্লেখ যোগ্য পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা যাওয়ার তিনটি নদীর উপর তিনটি সেতু, দেশের তৃতীয় পায়রা সমুদ্র বন্দর, তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সাবমেরিন ল্যান্ডিং স্টেশন। একারনে আসনটি জেলার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ। এ আসনে আওয়ামী লীগ তাদের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে বিএনপি পুনরুদ্ধারে মরিয়া।

নির্বাচনে ৬জন প্রার্থীর মধ্যে (জাপা-এ) প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার গত ১৯ ডিসেম্বর নিজের প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ঘোষনা দিয়ে মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে কাজ শুরু করেছেন। এখন মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ৫ প্রার্থী। আওয়ামী লীগ মনোনীত মহোজোট প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. মহিব্বুর রহমান মহিব (নৌকা), বিএনপি মনোনীত ঐক্য ফ্যন্ট প্রার্থী কেন্ত্রীয় বিএনপি’র প্রশিক্ষন বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান (হাতপাখা), বাসদ মনোনীত বাম গনতান্ত্রিক জোট প্রার্থী অ্যাডভোকেট জহিরুল আলম সবুজ (মই), ইসলামী ঐক্য জোটের আবদুর রহমান (মিনার)। তবে মহাজোট ও ঐক্য ফ্রন্টের পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একটি বড় ভোট ব্যাংক রয়েছে এ আসনে।

কলাপাড়া উপজেলার দুটি পৌরসভা, ১২টি ইউনিয়ন ও রাঙ্গাবলী উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে এ সংসদীয় আসন গঠিত। এ আসনে নতুন ভোটারসহ মোট ভোটার ২লাখ ৪৯ হাজার ৪৬ জন এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৯ জন, নরী ভোটার রয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ২৫৭ জন। এরদের মধ্যে নতুন ভোটার হয়েছে ২৯ হাজার ৭৬১ জন।

সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি আলহাজ মো. মাহবুবুর রহমান এর কাছে বিএনপির প্রার্থী এবিএম মোশারফ হোসেন প্রায় ৩০ হাজার ভোটে পরাজিত হয়। এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পরিবর্তন করে মো. মহিব্বুর রহমান মহিবকে মনোনয়ন দেয়া হয়। মহিবকে মনোনয়ন দেয়ায় আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দিনের বিভেদ ভুলে সব নেতা কর্মীরা আরও বেশী ভোটে জয়লাভের আশায় পুরো শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছেন। বিএনপিও বসে নেই তারা তাদের বিরোধ নিস্পত্তি করে একজোট হয়েছেন দলীয় প্রার্থী এবিএম মোশাররফ হোসেনকে বিজয়ী করতে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করছেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে তাদের প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে।

অপর দিকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ফের বিজয়ী হতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটরদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরে নৌকায় ভোট দেয়ার আবেদন জানাচ্ছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই সংসদীয় আসনে তেমন কোন সহিংসতা না ঘটলেও প্রচারনার প্রথম দিকে রাঙ্গাবলীর খালগোড়া বাজারে আওয়ামী লীগ বিএনপি সংর্ঘষ ছাড়া তেমন কোন সহিসংতা ঘটেনি। সাধারন ভোটরা মনে করেন নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও শন্তিপূর্ন পরিবেশে সম্পন্ন হলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা হাড্ডি লড়াই হবে।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *