পটুয়াখালীতে যৌতুক মামলা প্রত্যাহারে বাদিকে প্রাণ নাশের হুমকি !!

৭১বিডি২৪ডটকম | জলিলুর রহমান সোহেল;


পটুয়াখালী


পটুয়াখালী: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ অনুসারে বিবাহ স্থির থাকার শর্তে বা বিবাহের পণ হিসেবে প্রদত্ত বা প্রদানে সম্মত অর্থ, যে কোন সামগ্রী বা অন্যবিধ সম্পদকে যৌতুক বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এ আইনটি অনুসরন করেই বর্তমানে যৌতুক নিরোধ আইন- ২০১৭’ শীর্ষক আইনের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন এ আইনটি ‘যৌতুক নিরোধ আইন-২০১৭’ হিসেবে অভিহিত হবে। খসড়ায় আরো বলা হয়েছে, এ আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধসমূহ আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আপসযোগ্য বলে গণ্য হবে। যদি কোনো বিয়ের এক পক্ষের কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ অন্য পক্ষের কোনো ব্যক্তিকে যৌতুকের জন্য আত্মহত্যার প্ররোচনা করেন, মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন বা অঙ্গহানি করেন, মারাত্মক জখম করেন বা সাধারণ জখমও করেন, তাহলে তারা আত্মহত্যার প্ররোচনার জন্য ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ ছাড়া অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।

তাছাড়া – যৌতুক নিরোধ আইন-১৯৮০’ বলবৎ রয়েছে। ‘যৌতুক নিরোধ আইন-২০১৭’ পাস হলে আগের আইনটি বিলুপ্ত হবে। বিলুপ্ত আইনের অধীনে প্রণীত বিধি, প্রবিধি ইত্যাদি উপ-আইন বলে গণ্য হবে। আগের আইনের অধীনে জারিকৃত সকল আদেশ, নির্দেশ, প্রজ্ঞাপন বা নোটিশ এই আইনের বিধানাবলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত এই আইনের অধীনে প্রণীত বা জারিকৃত বলে গণ্য হবে। আগের আইনটি রহিত করা হলেও ওই আইনের অধীনে যেসব কার্য সম্পন্ন হয়েছে, তা নতুন এই আইনের অধীনে সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য হবে। প্রণীত খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, এই আইনের অধীনে কোনো অপরাধ সংঘটনের তারিখ হইতে দুই বছরের মধ্যে অভিযোগ দায়ের না করলে, কোনো আদালত এই আইনের অধীনে কোনো মামলা আমলে নেবেন না। প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নিচের কোনো আদালতে এই আইনের অধীনে বিচার করা হবে না বলে উল্লেখ এর পাশাপাশি, যৌতুকের জন্য আত্মহত্যার প্ররোচনায় অপরাধে ১৪ বছরের জেল এবং নির্যাতন করে গুরুতর জখম করলে যাবজ্জীবন সাজার বিধান রেখেই নতুন আইন করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন সরকার। এতোটা বিধি নিষেধ তাকা সত্যেও অপরাধিরা বিজ্ঞ আদালতের কাছে আপোষ মিমাংশার আবেদন প্রেক্ষিতে জামিনে মুক্ত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। জামিনে মুক্তি লাভের পর চলছে মামলা প্রত্যাহারে প্রান নাশের হুমকি। এর ধারাবাহিকতায় পটুয়াখালী জেলাধীন সদর উপজেলা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড সবুজবাগ ৬ষ্ঠ লেনের বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে খাদিজা আক্তারের সাথে একই উপজেলার কালিকাপুর এলাকার আলমগীর সর্দারের ছেলের রানা সর্দার সাথে গত ১২/০৮/২০১৩ ইং তারিখ ইসলামী শরাহ্ শরিয়ত মোতাবেক আত্বীয় স্বজনের উপস্থিতিতে ২,০০০০০/টাকা রেজিস্ট্রি কাবিন মূলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলাম। বিয়ে হওয়ার পর যৌতুকের দাবিতে মধ্যযুগীয় কায়দায় হাত,পা,ও মুখ বেধেঁ শারিরিক ভাবে নির্মম অত্যাচারের খবর পাওয়া যায়। সরজমিন জানা যায়, খাদিজা আক্তার প্রতিবেদক’কে জানান আমরা দুজন ভালো বেসে ছিলাম পরিবারের মতামত না থাকলেও আমাদের দুজনের প্রবল চাপের মুখে দুটি পরিবার গত কথা ছিলো, আমাকে সুখেই রাখবে, বিবাহের পূর্বে আপনার স্বামী কোন চাকরি বা ব্যবসা করতেন কি ? না জানতে চাইলে, তিনি জানান, না বেকার ছিলেন তথাপিও আমি ভালো বেসে বিয়ে করে ছিলাম, বেশ কিছু দিন ভালই চলছিলো, আমাদের বৌবাহিক দাম্পত্য জীবন । খাদিজা আরো জানায়, আমার মেহেদি রং না মুছতেই ধরা পরে যায় তার আসল রুপ। প্রতিদিন নেশা করে বাড়ি ফিরতেন, আমি প্রতিবাদ করলে আমাকে আপত্তিকর গালিগালাজ সহ- শারীরিক ভাবে নির্যাতন শুরু করে। বাবা ‘মা – আমার নির্যাতে কষ্টো পাবে ভেবে কিছুই বলতে পারিনি। ভেবে ছিলাম সব ঠিক হয়ে যাবে। নির্যাতনের বিষয়টা শুরুতেই আমার শশুর শাশুরি জানতেন। তারা জেনেও কোনরুপ প্রতিকার না করে উল্টো আমাকেই শাসাতেন বলতেই কান্নাজরিত কন্ঠে বলেন, শশুর- শাশুড়ি সহ সবাই বলে, বেকার দেখে বিয়ে করেছিস এখন মর। নির্যাতনের বিষয়টি আমি গোপন করলেও বাবা,মা এক পর্যায় জেনে গেলে আমি বিপাকে পরে যাই। স্বামীর বেকারত্ব ঘুচাতে আমার শশুর শাশুড়ি যৌতুকের টাকা দাবি কারে।পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতন চালাতে থাকলে, বিদেশ যাবার কথা বলে যৌতুকের জন্য চাপ দেয় খাদিজার স্বামী রানা সর্দার ও শশুর- শাশুড়ি। একপর্যায় খাদিজা তার বাবার বাড়ি থেকে ধার দেনা করে ৩লক্ষ টাকা দিলেও, সেই টাকা হাতে পেয়ে বিদেশ না গিয়ে নেশায় খরচ করে স্বামী রানা সর্দার । টাকা ফুরতেই নির্যাতন শুরু হয়ে যায়। বর্তমানে মামলা চলমান অবস্থায় প্রান নাশের ভুমকিতে আমাদের গোটা পরিবার আতংকিত আমরা বাচতে চাই বলে কান্নায় ভেংঙ্গে পরে খাদিজা। অন্যদিকে অত্যাচারের প্রতিবাদে হতভাগিনী খাদিজা আক্তার মোকাম পটুয়াখালী বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১ম আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের ৪ ধারা মোতাবেক গত ১৩/৯/১৭ ইং তারিখ মামলা দায়ের করেন যার নং ৮৩০/১৭ইং। এ বিষয়ে আসামী রানা সর্দার ও তার পরিবারের সাথে জানতে চাইলে, ক্যামেরার সামনে কথা বলতে না চাইলেও, হুংকার দিয়ে বলে, এ ধরনের মামলায় কিছুই হয়না, আগাম জামিন নিয়েছি। জামিন পাওয়ার পর থেকেই নির্যাতিত খাদিজা ও তার পরিবারকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লোক দিয়ে হুমকি দিয়ে আসছে বলে প্রতিবেদককে জানায় অসহায় খাদিজা ও তার পরিবার। মহামান্য আদালতের সূবিচারে খাদিজা ও তার পরিবার ন্যায় বিচার পেয়ে তার বেচেঁ থাকার অধীকার ফিরে পাবে এটাই জনসাধারণের প্রত্যাশা।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *