নিঁখোজ দুই স্কুল ছাত্রীকে ঢাকা থেকে উদ্ধার : আটক ২ অপহরনকারী

:: ৭১বিডি২৪ডটকম :: ব্যুরো প্রধান ::


আটক


:: বরিশাল :: বরিশাল নগরের কাশিপুর এলাকা থেকে নিঁখোজ হওয়ার চারদিনের মাথায় দুই স্কুল ছাত্রীকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনার সাথে জড়িত ২ ব্যক্তিকে আটকও করা হয়েছে।

যারা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সু-কৌশলে শিশু বয়সী স্কুল ছাত্রীদ্বয়কে অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে যায় এবং শারিরীকভাবে নিগৃহীত করে। পাশাপাশি স্কুল ছাত্রীদ্বয়ের পরিবারের কাছে কিছু টাকা মুক্তিপনও চায়।

আটককৃতরা হলো পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার পাড়েরহাটের উমিতপুর এলাকার মোঃ হাববিবুর রহমানের ছেলে মোঃ মিরাজ শেখ (৪২) ও মৃত নান্না হাওলাদারের ছেলে মোঃ রিপন হাওলাদার সুমন (৩০)।

রোববার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে নগরের আমতলা মোড়স্থ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার কার্যালয়ে (অস্থায়ী) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোঃ মোশারফ হোসেন জানান, গত ১৪ নভেম্বর সকাল ৮ টার দিকে বরিশাল নগরের চহঠা এলাকার ১২ বছরের দুই স্কুল ছাত্রী বাসা থেকে নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কাশিপুর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের উদ্দেশ্যে বের হন।

কিন্তু স্কুলের সময় শেষ হলেও তারা বাড়িতে না ফিরে আসায় স্বজনরা খোজাখুজি শুরু করে। পরে এ ঘটনায় নিঁখোজ সংক্রান্তে এক ছাত্রীর মা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

এরপর পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে গোপন সংবাদ ও আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ১৭ নভেম্বর শনিবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে ঢাকার খিলগাঁও থানা এলাকার সিপাহীবাগ টেম্পু স্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে ভিকটিমদ্বয়কে উদ্ধার করার পাশাপাশি, তাদের বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সু-কৌশলে ভূল বুঝিয়ে দুই অপহরনকারীকে আটক করা হয়।

পুলিশ কমিশনার জানান, মূলত উদ্ধারের পর ভিকটিমদ্বয় ও অপহরনকারীদের কাছ থেকে যেটুকু জানাগেছে, তাতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অপহরণকারীদের সাথে স্কুলছাত্রীদ্বয়ের পরিচয় হয়।

এরপর অপরহনকারী ওই দুই ব্যক্তি নিজেদের অবিবাহিত দাবী করে শিশু বয়সী স্কুল ছাত্রীদ্বয়কে তাদের বিদ্যালয়ের সামনে থেকেই গত ১৪ নভেম্বর ঢাকায় নিয়ে যায়। সেখান অবুঝ এই শিশুদের বাসা ভাড়া করে রেখে শারিরীকভাবে নিগৃহীতও করে। আবার এদিকে অপহরনকারীরা ভিকটিমদ্বয়ের পরিবারের কাচে ৫ হাজার টাকা মুক্তিপনও চায়।

মূলত অপহরণকারী উভয় ব্যক্তিই বিবাহিত। যার মধ্যে মোঃ মিরাজ শেখ আগে ভ্যান চালাতো এবং তার ৩ সন্তান রয়েছে, অপরদিকে মোঃ রিপন হাওলাদার ওরফে সুমন আগে অটোরিক্সা চালাতো এবং সে ১ সন্তানের জনক।

তিনি বলেন, অপহরনকারীরা প্রতারণার আশ্রয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে আর তারা শিশুদ্বয়কে বিয়ে ও করতো না।তবে এ ঘটনার সাথে পাচার সহ অন্য কোন বিষয় রয়েছে কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখা হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব মামলার চার্জশীট দিয়ে এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার বলেন, কাশিপুরের এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হচ্ছে। যেখানে অপহরন ও ধর্ষনের বিষয়টি উল্লেখ থাকবে, দোষীদের বিচারও হবে। তবে মোবাইল ফোন শিশুদের হাতে দেয়ার আগে অভিভাবকদের আরো সতর্ক হওয়া উচিত। উঠতি বয়সের বাচ্চাদের টেনডেনসি বুদ্ধিমানের মতো নয়। কারণ শিশু বয়সের সাথে তাদের অভিজ্ঞতার ঝুলিটা শক্ত-পোক্ত নয়।

তিনি বলেন, ভিকটিমদ্বয় শিশুবয়সী হওয়ায় তারা দ্রুত প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়েছে, এ বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক হওয়া উচিত। সন্তানকে ফেরত আনা যাবে কিন্তু সম্ভ্রম হানির বিষয়টি কি হবে, তা সকলের ভাবা উচিত। প্রয়োজন ছাড়া বাচ্চাদের হাতে মোবাইল না দেয়া উত্তম।

সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *