দূর্গাসাগর পাড়ে হরিনের বিচরন

বিভাগীয় প্রতিনিধি, বরিশাল :

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য রক্ষার পাশাপাশি উৎপাদনমুখি হওয়ার লক্ষে বরিশালের দূর্গাসাগর পাড়ের বাগানে হরিণের বিচরন ঘটানো হচ্ছে, পাশাপাশি কয়েক’শ হাঁস পালনও করা হবে এখানে।

এমনটাই জানিয়েছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান।

তিনি আরো জানান, এরআগে প্রায় ৯ মন রুই-কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ দূর্গাসাগরে ছাড়া হয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য রক্ষার পাশাপাশি উৎপাদনমুখি হওয়ার লক্ষে এবার হাঁস পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আর দূর্গাসাগরে আসা দর্শনার্থীদের জন্য ২ টি হরিনের বিচরণ ঘটানো হবে এখানে। যা আজ থেকেই দেখতে পারবে দর্শনার্থীরা।

তিনি আরো জানান, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ হরিনদুটি বরিশাল জেলা প্রশাসনকে দেয়া হয়েছে, যা ইতিমধ্যে হাতে এসে পৌছেছে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত দূর্গাসাগর দীঘিতে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য চলতি বছরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিসিক্যামেরা বসানো হয়। এছাড়া সাগর পারের ওয়াকওয়ের রোডলাইট সংস্কার করারও বিষয়টি গুরুত্বে সহিত দেখছেন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসন।

এদিকে আরো কিছু কাজ সম্পন্ন করার পরেই আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে এ কার্যক্রমগুলোর কথা তুলে ধরা হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানাগেছে।

বরিশালের দূর্গাসাগরে নানান প্রতিকূলতার কারনে গত কয়েকবছর ধরে শীতকালে অতিথি পাখির আগমন তেমন একটা দেখা যায়না। তবে একটা সময় ছিলো দূর্গাসাগর এলাকায় পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিতো। আর এ পাখির জন্য পর্যটকদের উপচে পড়া ভীড়ও ছিলো।

স্থানীয়দের মতে, ২০০৭ সালের সিডরের পর থেকে পাখির সংখ্যা যেমন কমতে থাকে তেমনি বাকলা চন্দ্রদীপ রাজাদের এ আবাসস্থলে পর্যটকদের উপস্থিতিও কমতে থাকে। আর বর্তমানে অতিথি পাখির অবস্থান শূন্যের কোঠায় ই বলা চলে।

বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের বানারীপাড়-বরিশাল সড়কের পাশে অবস্থিত। ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে চন্দ্রদীপ পরগনার তৎকালীন রাজা শীবনারায়ণ এলাকাবাসীর পানির সংকট নিরসনে স্ত্রী দূর্গারানীর নামানুসারে দূর্গাসাগর দীঘি খনন করেন। যা পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে দ্বিতীয়বারের মতো খনন করা হয়।

৪৫.৫৫ একর জমির মধ্যে দ্বীপসহ জলভাগের পরিমান ২৭.৩৮ একর এবং স্থলভাগের পরিমান ১৮.০৪ একর। দীঘির চারপাশে ও মাঝের দ্বীপটিতে বিভিনś প্রজাতির ফলজ, ঔষধি ও বনজ বৃক্ষ রয়েছে। এছারা দীঘির চারপাশ দিয়ে ১.৬ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে রয়েছে।

তিনঘাট ও মধ্যখানে দ্বীপবিশিষ্ট এ দীঘির সর্বশেষ ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত সংস্কার করা হয়।

সংস্কার ও সময়ের সাথে সাথে দূর্গাসগর হয়ে ওঠে পর্যটনস্পটে। অনুপম নৈশর্গিক পরিবেশ বৃক্ষশোভিত ও পাখির কলোকাকলিতে মুখরিত দূর্গাসাগরে আসতে শুরু করে দূর দূরান্ত থেকে মানুষ। আর মার্স মাসে হিন্দু ধর্মালম্বীদের বড় উৎসব দূর্গাস্নান উৎসবও হয়ে থাকে এই দীঘিতে।

সময়ের সাথে সাথে জেলা প্রশাসনের তত্বাবধায়নে এ সাগরের রক্ষনাবেক্ষন ও আয়ের উৎস হিসেবে ঠিক করা হয় প্রবেশ ফি। আবার পিকনিক করার জন্য এখানে যারা আসেন তাদের জন্য রয়েছে আলাদা চার্জ।

তবে এখানে সৌখিন মাছ শিকারীদের আনাগোনা বেশি থাকায় রয়েছে মৎস শিকারের জন্যও সু-ব্যবস্থা।

সর্বোশেষ ২০১৬ সালে আবারে এটিকে দৃষ্টিনন্দন ও পর্যটক নির্ভর করার লক্ষে মাঠে নামে জেলা প্রশাসন

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *