‘তোমরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, তোমরাই আগামীতে দেশ চালাবে’

:: ৭১বিডি২৪ডটকম :: অনলাইন ডেস্ক ::


প্রধানমন্ত্রী
‘ফাইল ছবি‘

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে বলেছেন, তোমরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তোমরাই আগামীতে দেশ চালাবে। তোমাদের মধ্য থেকেই প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী হবে। এজন্য তোমরা দেশকে গভীরভাবে ভালোবাসবে। আমরা যেখানে রেখে যাবো সেখান থেকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

সোমবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জাতীয় শিশু-কিশোর সমাবেশে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর পর জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এবারই প্রথম স্বাধীনতা দিবসের সকালে সারাদেশে ও বিদেশে একযোগে একই সময়ে শুদ্ধসুরে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়।

পরে প্রধানমন্ত্রী সমাবেশ পরিদর্শনের পর কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজের পর তিনি পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সমাবেশের উদ্বোধন করেন এবং শিক্ষার্থীদের ডিসপ্লে দেখেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের স্বাধীনতার লক্ষ্য ছিল, যেটা জাতীর পিতা চেয়েছিলেন বাংলাদেশের সকল মানুষ উন্নত জীবন পাবে, সুন্দর জীবন পাবে এবং ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। সেই লক্ষ্য নিয়ে তিনি কাজ করে যাচ্ছিলেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরে সুযোগ পেয়েছিলেন। আর্থসামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে মর্যাদা তিনি দিয়ে গিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, আমাদের দুঃখের বিষয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্য করা হয়। আমি এবং আমার ছোট বোন দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে গিয়েছিলাম। ৬ মাস আমরা রিফিউজি হিসেবে বিদেশে থাকি। এরপর ১৯৮১ সালে আমি বাংলাদেশে ফেরার সুযোগ পাই, তখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আমাকে সভানেত্রী নির্বাচিত করে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে আসার পর থেকেই বাংলাদেশের মানুষের দুঃখ ঘোঁচানো, দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়ে তোলা, আর আমাদের ছোট শিশু-কিশোরদের উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই দীর্ঘদিন কাজ করি। ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে অনেক উন্নয়ন করি। ২০০৮ সালে দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা করি। আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, আজকে বাংলাদেশে দারিদ্রের হার কমেছে। আমাদের শিশুদের বিনামূল্যে বই দিচ্ছি, বৃত্তি দিচ্ছি। প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ শিক্ষার্থীকে আমরা বৃত্তি দিচ্ছি। ১ কোটি ৩০ লাখ মা মোবাইলের মাধ্যমে বৃত্তির টাকা পাচ্ছে। আমরা মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম করে দিচ্ছি। স্বাধীনতার উদ্দেশ্যই হলো বাংলাদেশ হবে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। এখন আমাদের উদ্দেশ্য এই বাংলাদেশকে বিশ্ব সভায় মর্যাদার আসনে নিয়ে আসা। ইতোমধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হতে পেরেছি। কারও কাছে হাত পেতে নয়, কারও কাছে মাথানত না করে আমরা মর্যাদার সঙ্গে বিশ্বে চলবো।

শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন দিয়ে পড়া-লেখা করবে, বাবা-মা’র মুখ উজ্জ্বল করবে, শিক্ষকদের কথা মেনে চলবে। আর এই দেশকে গভীরভাবে ভালোবাসবে। এই দেশকে আগামীদিনে গড়ে তুলবে। ২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবো বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্রমুক্ত। ২০২০ সালে আমাদের মহান নেতা জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে জন্ম শতবার্ষিকী পালন করবো। আর ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। ইনশাল্লাহ সেই দেশ আমরা গড়ে তুলবো।

অভিভাবকদের ছেলে-মেয়েদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাবা-মা, অভিভাবক, মসজিদের ইমাম, শিক্ষক সবাই সবসময় একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন, ছেলেমেয়েরা যেন কোনোভাবেই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকাসক্তিতে আসক্ত না হয়। তারা যেন মন দিয়ে লেখাপড়া করে, মানুষের মতো মানুষ হয়। সেই চেষ্টা সবাইকে করতে হবে।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *