তিস্তা চুক্তি না হওয়া ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়: প্রধানমন্ত্রী

:: ৭১বিডি২৪ডটকম :: অনলাইন ডেস্ক ::


প্রধানমন্ত্রী


তিস্তা চুক্তির বাস্তবায়ন না হওয়া ভারতের অভ্যন্তরীণ জটিলতার বিষয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই জটিলতা দূর হলেই অল্প সময়ের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়ন হবে। পানি আর ধরে রাখতে পারবে না, কিছু পানিতো আমাদের দিতেই হবে। ভারতের নদী গুলোকে যেন তারা ড্রেসিং করে এই বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি।

দেশের সব মানুষের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়নের নামে পুকুর-খাল ভরাট করা যাবে না। শিল্প-কারখার জন্য অনেক সময় ভরাটের প্রয়োজন হলেও বিকল্প জলাধার সৃষ্টি করতে হবে। সবার জন্য সুপেয় পানি সরবরাহে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে ৮৪ ভাগ মানুষের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করেছি। বিশুদ্ধ পানির জন্য জনসচেতনতা সৃষ্টি করছি।

মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিশুদ্ধ পানি কীভাবে সংরক্ষণ করা যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিশ্বের ১০০ কোটি মানুষ সুপেয় পানি পায় না। বর্ষকালের পানি যত বেশি সংরক্ষণ করা যাবে দেশ ততই উপকৃত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে নদী ড্রেজিং করার কোনও পরিকল্পনা আসে না। আসে নদীর পাড় বাঁধাই, গাছ লাগানো, নদীর পাড়ে চার লেন রাস্তা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের। কিন্তু রাস্তা করার জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় রয়েছে।’

নদীগুলোকে রক্ষা করার তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ড্রেজিং করার সময় খেয়াল রাখতে হবে বন্যার পানির জন্য বাঁধ দেয়ার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে। আমাদের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, আমাদের আরও জায়গা লাগবে। ডুবোচরগুলো যেন আমরা ব্যবহার করতে পারি সেটা মাথায় রাখতে হবে।

ঢাকার পুকুরগুলোয় দালানকোঠা উঠেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দুভার্গ্যজনক পুকুরের মধ্যে দালানকোঠা উঠে গেছে। পুকুরগুলো রাখা দরকার ছিল। খেয়াল করে দেখবেন পুকুর পাড়ের বাতাস অনেক ঠাণ্ডা থাকে। এই পুকুরগুলোয় বৃষ্টির পানি জমা হয়। আমাদের ভূখণ্ড ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা। ভূগর্ভস্থ স্তর থেকে পানি যত তোলা হবে পানির স্তর তত ফাঁক হয়ে যাবে। ভূমিকম্প হলে ক্ষয়ক্ষতি আমাদেরই হবে।

সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদীপথে স্টিমার-লঞ্চ চলাচল করে। খাওয়া-দাওয়ার পর বর্জ্য সব নদীতে ফেলা হচ্ছে। যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে। প্রত্যেক বাসে ময়লা ফেলার জায়গা থাকতে হবে। হাসপাতালগুলোয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে। আবাসিক এলাকায় অনেক হাসপাতাল আছে। কিন্তু হাসপাতালগুরোয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। এগুলো জ্ঞানী মানুষেরাই করছেন। জ্ঞানী মানুষেরা অনেক সময় অজ্ঞানের মতো কাজ করছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জাতীয় পানি নীতি ১৯৯৯ প্রণয়ন করি, বাংলাদেশ পানি আইন ২০১৩ প্রণয়ন করেছি। এরইমধ্যে ৬৪ লাখ হেক্টর জমি বন্যা নিয়ন্ত্রণ এলাকায় এনেছি।

প্রসঙ্গত, ‘পানির জন্য প্রকৃতি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব পানি দিবস ছিল ২২ মার্চ। কিন্তু বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়ায় ওইদিন সরকারি কর্মসূচি ছিল। তাই সেদিন পানি দিবস পালন করতে না পারায় আজ মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) সরকারিভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *