ছাত্রলীগের শীর্ষপদে যারা আসছেন

:: ৭১বিডি২৪ডটকম :: অনলাইন ডেস্ক ::


ছাত্রলীগ


২৯তম জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগের নতুন নেতা নির্বাচিত করতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সদ্য বিদায়ী কমিটির শীর্ষনেতাদের অনুরোধে গণভবন থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ ঠিক করবেন ‘ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী’ শেখ হাসিনা।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষস্থানীয় পদে নানা যাচাই-বাছাইয়ের পর শেষ মুহূর্তে আলোচনায় রয়েছেন ৮ প্রার্থী। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন আদিত্য নন্দী ও রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শীর্ষস্থানীয় পদে শেষ মুহূর্তে আলোচনায় রয়েছেন বিদায়ী কমিটির সহ-সভাপতি আদিত্য নন্দী, অর্ণা জামান, নীশিতা ইকবাল নদী, সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল পাঠান সেতু, আইনবিষয়ক উপ-সম্পাদক হোসাইন সাদ্দাম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স ও বুয়েট ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ কনক।

আদিত্য নন্দী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থী। ব্যবসা অনুষদের ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ছাত্র আদিত্যের বাড়ি চট্টগ্রাম। তিনি এর আগে জগন্নাথ হল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন।

রাজশাহীর মেয়ে অর্ণা জামান জাতীয় চার নেতার অন্যতম এএইচএম কামরুজ্জামানের নাতনি। তার বাবা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র।

ময়মনসিংহের মেয়ে নীশিতা ইকবাল নদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী শামসুন নাহার হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী নদী রাজনীতিতে বেশ সক্রিয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র আশিকুল পাঠান সেতু ময়মনসিংহের ছেলে। তিনি আগের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।

পঞ্চগড়ের ছেলে হোসাইন সাদ্দাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এএফ রহমানের শিক্ষার্থী তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের দাদা গণপরিষদের সদস্য ছিলেন। বাবা স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বাগেরহাটের রামপালের ছেলে প্রিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী। আরেকজন হলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাইদ কনক। পাবনার ছেলে কনক বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিতুমীর হলের শীর্ষনেতা ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ দুই পদে সর্বশেষ আলোচনা চলছে ওই ৮ নেতাকে ঘিরে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন আদিত্য নন্দী ও রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। তবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নারী নেতা হিসেবে আওয়ামী লীগ হাইকমান্ডের পছন্দের শীর্ষে অর্ণা জামান ও নীশিতা ইকবাল নদী।

জানা গেছে, ২৯তম জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে প্রায় দেড় যুগের বেশি সময় ধরে চলে আসা ছাত্রলীগ সিন্ডিকেটের অবসান হতে যাচ্ছে। এবারের সম্মেলনের ‘লোক দেখানো নির্বাচন’-এর মাধ্যমে ছাত্রলীগের নেতা নির্বাচিত হয়নি। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পছন্দে এবার ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হতে যাচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের রাজত্ব করে আসা সংগঠনের সাবেক শীর্ষনেতাদের সিন্ডিকেটের ক্ষমতা খর্ব হওয়ায় তারাও ক্ষেপেছেন। শেষ মুহূর্তে শীর্ষস্থানীয় পদে যেসব নেতা আলোচনায় রয়েছেন, তাদের নামে নানা মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রার্থীদের নামে অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে।

সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতে গণভবনে দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে ছাত্রলীগের শীর্ষনেতাদের বয়স বাড়িয়ে ২৮ বছর ৩৬৩ দিন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু সিন্ডিকেটের অনুসারী বলে পরিচিত ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী কমিটির শীর্ষনেতারা অনূর্র্ধ্ব ২৮ বছরের বেশি বয়সী প্রার্থীদের সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন গতকাল শনিবার কাউন্সিল অধিবেশন থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। ওই অধিবেশনে উপস্থিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কথাও অমান্য করেন তারা। একপর্যায়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন থেকে বের হয়ে গণভবনে যান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। এর কিছুক্ষণ পর অধিবেশনের প্রথম সেশন মুলতবি করে ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইনও আসেন গণভবনে। তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তাদের বলেন সব প্রার্থীর নামের তালিকা রেখে যেতে। তিনি যাচাই-বাছাই করে কমিটি দেবেন।

এরপর আবার অধিবেশনের দ্বিতীয় সেশনে মিলনায়তনে ফিরে এসে এসএম জাকির হোসাইন বলেন, নতুন নেতা নির্বাচনে শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত মেনে নেবে ছাত্রলীগ। দুই-একদিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগকে নতুন কমিটি উপহার দেবেন। ওই সিদ্ধান্ত আমরা আপনাদের জানিয়ে দেব। এরপর একই বক্তব্য দিয়ে অধিবেশন সমাপ্তি ঘোষণা করেন বিদায়ী সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ।

সূত্র: আমাদের সময়

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *