ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ নদীতে নিরাপদ নয় ভাসমান মান্তা গোষ্ঠী

৭১বিডি২৪ডটকম । সঞ্জিব দাস,


ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ নদীতে নিরাপদ নয় ভাসমান মান্তা গোষ্ঠী


গলাচিপা (পটুয়াখালী): নৌকায় ঘর, নৌকায় বাড়ি খাওয়া- দাওয়া-ঘুম সব কিছুই নৌকায়। জীবিকার তাগিদে নদীতে ছুটে চলা। একারণে ভাসমান মানুষগুলো জানে না কোথায় কি হচ্ছে, সেই বার্তা পৌঁছেনা তাদের কানে। ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ আতংকে যখন উপকূলের মানুষ। ঠিক তখনও তারা স্বাভাবিক ! এই ঝড়ের কথা তারা জানে না। তাদের কানেও আসেনি।

সোমবার সরেজমিনে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সাগরপাড়ের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বুড়াগৌরাঙ্গ নদী ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বুড়াগৌরাঙ্গ নদী উত্তাল। ওই নদীতেই ভাসমান প্রায় দুই শতাধিক ‘মান্তা’ সম্প্রদায়ের লোকজনের বসবাস। ওইসব লোকজন নদীতেই বাস করে। স্থানীয় লোকজন ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র সতর্ক বার্তা পেয়ে নিরাপদে গেলেও তাদের কাছে সেই বার্তা পৌঁছেনি। ফলে নিরপত্তা হীনতায় রয়েছে তারা। যেকোন মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত হানলে তাদের প্রাণহানির আশংকা রয়েছে।

ভাসমান ওইসব মান্তা সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র সতর্ক বার্তা পায়নি তারা। শুধু এই ঝড়ই নয়, কোন ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত পৌঁছে না তাদের কাছে। একারণে ঝড়-বন্যার মৌসুমে তারা থাকে নিরপত্তা হীনতার মধ্যে।

এ সময় গণি সরদার বলেন, ‘ঝড়- বইন্যার কথাতো হুনি নাই। আইজ দেহি একছের পানি উডে। আর একছের বাতাস। আমাগো নৌকাগুলো নদী গরম থাহায় উল্টাই পাল্টায়া যাচ্ছে।’ জাহাঙ্গীর সিকদার বলেন, ‘নদীতে থাহি। এইহানে কেউ আমাগোরে ঝড়ের খবর জানাইতে আয় না। কখন ঝড় ওইবে তাও জানি না। কি আর করমু। ঝড়- বইন্যারে ডরাই লাভ নাই। নদীতে জন্ম ওইছে, নদীতেই মরতে ওইবে।’

এ ব্যাপারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্তদায়িত্বে) তপন কুমার ঘোষ বলেন, সমুদ্রগামী জেলে ও ভাসমান মান্তা সম্প্রদায়ের লোকজনকে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্ক বার্তা পৌঁছানোর এখন পর্যন্ত কোন পদ্ধতি চালু হয়নি। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাদের কাছে সতর্ক বার্তা পৌঁছানো হয়।

এ ব্যাপারে চরমোন্তাজ ইউপি চেয়ারম্যান হানিফ মিয়ার মোবাইলে একাধিক বার কল করলেও ফোন বন্ধ থাকায় মন্তব্য নেওয়া যায়নি।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *