‘গ্রাহকের অজান্তেও একাধিক সিমের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন হচ্ছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে মোবাইল ফোনের সিম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আঙ্গুলের ছাপ মিলছে না অজুহাতে বারবার বায়োমেট্রিক নিয়ে রিটেইলাররা গ্রাহকের অজান্তে একাধিক সিম নিবন্ধনের ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

বুধবার বিটিআরসি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এমদাদ উল বারী এ তথ্য জানান।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এমদাদ উল বারী বলেন, কোনো কোনো রিটেইলার একাধিকবার আঙুলের ছাপ নিয়ে গ্রাহকের অজান্তে একাধিক মোবাইল সিম বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করছে। তাই আঙুলের ছাপ দেওয়ার সময় গ্রাহকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

এসময় চট্টগ্রামে জালিয়াতির মাধ্যমে বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত সিমগুলো বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত হয়নি বলে দাবি করেন বিটিআরসি মহাপরিচালক।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার নুরুন্নার নামের এক নারী গ্রাহক পুলিশের কছে অভিযোগ করেন, তার নিবন্ধিত রবি সিম অজান্তে একজন নতুন করে তুলে তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ হাজার টাকা সরিয়ে নিয়েছে।

এ বিষয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এমদাদ উল বারী বলেন, ‘যে গ্রাহক (নুরুন্নাহার) অভিযোগ করেছেন, তার সিম বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত ছিল না।’

এদিকে একজন গ্রাহক কতটি মোবাইল ফোন সিমের মালিক তা এসএমএসে জানানোর প্রক্রিয়া শুরু করছে বিটিআরসি।

বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু হওয়ার পর গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে আঙ্গুলের ছাপ না দিয়ে নতুন সিম কেনা যাচ্ছে না। পাশাপাশি চলছে পুরনো সিমের পুনঃনিবন্ধন।

সরকারের বেঁধে দেওয়া নতুন সময়সীমা অনুযায়ী, আগামী ৩১ মে রাত ১২টা পর্যন্ত সিম পুনঃনিবন্ধন করা যাবে। এরপর যেসব সিমের নিবন্ধন থাকবে না সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। ৩১ মে ‘জিরো আওয়ার’ থেকেই এ সিমগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।

চলতি মাসেও যারা বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম পুনঃনিবন্ধন করবেন না, তারা সেই সিম আবার কিনতে চাইলে দুই মাস অপেক্ষা করতে হবে।

গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ছয় অপারেটরের ৯ কোটি ৭০ লাখ ৮৫ হাজার ৭৪১টি সিম বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে পুনর্নিবন্ধিত হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এ সময় বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *