গোলাম মাওলা রনির মনোনয়নে বিএনপি নেতা কর্মীদের ক্ষোভ

:: ৭১বিডি২৪ডটকম :: স্টাফ রিপোর্টার ::



:: পটুয়াখালী :: পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা ও দশমিনা) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ গোলাম মাওলা রনির বিএনপিতে যোগদান ও মনোনয়ন নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা ও ক্ষুব্ধ হয় তৃণমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীরা।

রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। সেটা আবার প্রমাণিত হল পটুয়াখালী-৩ আসন কে কেন্দ্র করে। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রার্থী ছিলেন ৯ জন। তার মধ্যে তিনজন নেতা দীর্ঘদিন দলের হয়ে মাঠ ঘাট চষে বেড়িয়েছেন।

তাঁদের ভিতর থেকে সোমবার হাসান মামুন এবং আলহাজ্ব শাহজাহান খানকে প্রথম মনোনয়ন ফরম দেয়া হয়।সেখান থেকে বিকাল ৪ টায় পটুয়াখালী ৩ আসনের জন্য হাসান মামুন কে মনোনয়ন প্রদান করে চিঠি হস্তান্তর করা হয়। এ খবর প্রকাশ হওয়ার পর (গলাচিপা ও দশমিনা) আসনের বিএনপি নেতাকর্মী ও জনসাধারনের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

সোমবার(২৬ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে বদলে যেতে থাকে দৃশ্যপট। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় আওয়ামীলীগের সাবেক সাংসদ গোলাম মাওলা রনি বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে ওই দলে যোগদান করেন। সেই সাথে ভাগ বসান মনোনয়নে। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন এবং মনোনয়ন প্রধান করেন।এ খবর প্রকাশ হওয়ার পর হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয় তৃণমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীরা।

মনোনয়ন প্রাপ্তদের মধ্যে হাসান মামুনের কথা না বললেই নয়.. ত্রিশ বছরের রাজনৈতিক জীবনে শেষ এক যুগ মিশে ছিলেন এই আসনের মাটি ও মানু্ষের সাথে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সমান জনপ্রিয় এ নেতা এক ডজনের অধিক মামলা মাথায় নিয়ে জেল খেটেছেন একাধিকবার। সাধারণ ভোটারদের মাঝে তার তুমুল জনপ্রিয়তা কে পুজি করে বাগিয়ে নিয়েছিলেন এবারের মনোনয়ন। কেন্দ্র থেকে চিঠিও দেয়া হয় তাকে।

‘হাসান মামুন’ ২০১০ সালে ছাত্ররাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার পর থেকেই তিনি এলাকার রাজনীতিতে সক্রিয়। দশমিনা-গলাচিপাবাসীর কর্মসংস্থানে অবদান রাখেন এই তরুণ রাজনীতিক নেতা। দুই উপজেলার বিএনপির গুরুপিংয়ের রাজনীতিকে ছুড়ে ফেলে ঐক্যবদ্ধ রাজনীতির ধারা সৃষ্টি করেছেন।

দশমিনা উপজেলা যুবদলের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘রনি আওয়ামী লীগের সাংসদ থাকাকালীন আমাদের নেতা–কর্মীদের নামে ১৯টি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছিল। বিশেষ করে ভাইয়া বাহিনীর নির্যাতনের কথা আজও তাড়িয়ে বেড়ায়। বিএনপি সমর্থকরা মনে করেন দলে জনপ্রিয় এবং বিজয়ী হওয়ার মত প্রার্থী থাকার পরও কেন অন্য দলের বিতর্কিত লোক কে এনে সাথে সাথে মনোনয়ন দিতে হবে?

মনোনয়ন বিতর্কের ব্যাপারে দশমিনা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা ফখরুজ্জামান বাদল বলেন, হাসান মামুনের বিকল্প এই নির্বাচনী এলাকায় নাই, তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয় দলকে সুসংগঠিত এবং পুঃগঠন করেছেন, তৃণমূল পর্যায়ে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। আওয়ামী লীগের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার জন্য তিনি একমাত্র উইনিং কেনডিডেট। তিনি আরও বলেন, গোলাম মাওলা রনি আমাদের দলে যোগ দিয়েছেন তাকে আমরা স্বাগতম জানা তার মানে এই না যে দল তাকে মনোনয়ন দেবে, দলের অনেক নেতা কর্মীরা হাসান মামুনের সমর্থক তারা অন্য কাউকে মেনে নিতে পারবে না। হাসান মামুন যদি নির্বাচন করে তাহলে সে বিপুল ভোটে জয় লাভ করবেন।

গলাচিপা উপজেলা যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলাম মিন্টু যানান, ‘গোলাম মাওলা রনি বিএনপিতে যোগদান করেছেন, তবে এখনো তাঁকে পটুয়াখালী-৩ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। আমরা চাই যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দলের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা, তাঁরাই মনোনয়ন পাক।’

উল্লেখ্য,২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভ করেন। ওই নির্বাচনে জয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম মাওলা। সাবেক এ সাংসদ রনি নামেই পরিচিত। নানা কারণে শুধু নিজ এলাকায় নন, জেলা, বিভাগীয় শহর বরিশাল থেকে শুরু করে দেশব্যাপী তিনি আলোচিত।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *