গলাচিপায় সার ডিলারদের সিন্ডিকেট ব্যাবসা রমরমা- সার সংকটে দিশেহারা কৃষকরা

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় ডিলারদের সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির কারনে হাজার হাজার হত দরিদ্র প্রান্তিক কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিভিন্ন ডিলার পর্যায় থেকে ঘুরে ঘুরে ভোগান্তির মধ্যে কৃষকদের বেশী দামে কিনতে হচ্ছে সার।


গলাচিপায় সার ডিলারদের সিন্ডিকেট ব্যাবসা রমরমা- সার সংকটে দিশেহারা কৃষকরা


যেখানে বর্তমান সরকার “কৃষক বাঁচাও দেশ বাঁচাও” এই শ্লোগানকে মিথ্যে করে, কৃষি বান্ধব সরকার বলে সাধারন দরিদ্র কৃষকদের কথা চিন্তা করে ভর্তূকী মূল্যে সার দিচ্ছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশী পরিমানে চরকাজল ইউনিয়ন ও চর বিশ্বাস ইউনিয়নে বিসিআইসি’র সার ডিলারের অনিয়মে দিশাহারা প্রান্তিক কৃষকশ্রেনী। সর্ব ইউনিয়নের সার ডিলাররা অনিয়ম করছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বুধবার চরকাজল ক্লোজারে সারের ট্রলারে গিয়ে মেসার্স আবির এন্টার প্রাইজ এর মালিক আলী আহম্মদ এর নামে কাগজে লেখা হল ২০০ বস্তা কিন্তু ট্রলারে আছে ৬৫০ বস্তা। এর তিনদিন পূর্বে মেসার্স আবির এন্টারপ্রাইজের মালিক আলী আহম্মদ ৪০০ বস্তা সার এনে মন্নান ভূইয়া বাজারে গোপনে চৌরা মূল্যে বিক্রি করে বলেও অনুসন্ধানে জানা যায়।

এদিকে বুধবার ১৩ ফেব্রুয়ারী চরকাজল ও চরবিশ্বাস ক্লোজার বাজারে ষ্টিল ট্রলারে চিটাগাং ইউরিয়া ফাটিলাইজার লিমিটেডের ৩৭৮৫৯ নং রশিদের ৬ শত বস্তা ইউরিয়া সার আনেন। উল্লেখ্য তিনদিন পূর্বেও ৪’শত বস্তা ইউরিয়া সার কোথায় পেল প্রশ্নের উত্তরে উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো.সাইদুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে ফোন দিয়ে উপস্থিত করলে তিনি জানান, গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতে সভা করে মৌখিক ভাবে নাকি বরাদ্দের চেয়েও বেশি সার আমদানির নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, জানুয়ারী মাসে প্রতি মূল ডিলার পর্যায় সার বরাদ্ধ ছিল মোট ২০ টন, তা তিনি এনেছেন, আমি এ্যারাইবেলও দিয়েছি। আর ফেব্রুয়ারী মাসে বরাদ্ধ হল মোট ৩০ টন, সে হিসেবে বার্তি ৪শত বস্তা নিশ্চয় অবৈধভাবে এনেছেন, এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ভালো জানেন বলে দায়ভার উত্তর দেন। সারের দাম ডিলার পর্যায় থেকে কৃষকদের কাছ থেকে দাম বেশী নেওয়া হয় এ ব্যাপারে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে উপর মহলে জানিয়েছি।

এদিকে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে কৃষকদের কাছ থেকে জানা যায়, চরকাজল ইউনিয়নের বিসিআইসির ডিলার আলী আহমেদ ও চরবিশ্বাস ইউনিয়নের বিসিআইসির সার ডিলার কুদ্দুছ মোল্লা কৃষকদের জিম্মি করে ইউরিয়া সার বিক্রী করছেন বস্তা ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা যা সরকার কতৃক নির্ধারিত ৮০০টাকা, ড্যাপ সার বিক্রী হচ্ছে বস্তা ১৪০০ টাকা থেকে ১৫৫০ টাকা যার সরকার কতৃক নির্ধারিত ১২৫০ টাকা, এমওপি সার বিক্রী হচ্ছে বস্তা ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা যা সরকার কতৃক নির্ধারিত ৭৫০ টাকা। চরকাজল ইউনিয়নের মেসার্স আবির এন্টারপ্রাইজ’ প্রোঃ আলী আহম্মদ (সাবেক চেয়ারম্যান) ও চরবিশ্বাস ইউনিয়নের মেসার্স এনায়েত এন্টারপ্রাইজের প্রোঃ মো. কুদ্দুস মোল্লার অনিয়মে কৃষক ভোগান্তি চরমে বলে দাবি করেছেন প্রান্তিক কৃষকগোষ্ঠী ।

প্রতি ইউনিয়নে মূল ডিলার ছাড়া ওয়ার্ড পর্যায়ে ৯ জন করে সাব ডিলার আছে। যাদেরকে ইউনিয়নের মূল ডিলার নিয়ন্ত্রন করে থাকেন। চরকাজল ইউনিয়নের মূল ডিলার আলী আহম্মদ এর বিরুদ্ধে খোদ কৃষক ছাড়া সাব ডিলারদের সার ঠিকমত দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ আছে। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, কিছুদিন পূর্বেও মেসার্স আলী আহম্মেদ বিরুদ্ধে সার দূর্নীতির নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও অদৃশ্য ইশারায় ধামাচাপা হলেও, পূনরায় মেসার্স আবির এন্টারপ্রাইজ প্রোঃ আলী আহম্মেদের বিরুদ্ধে গত ২০ জানুয়ারী ২০১৯ইং তারিখে সাব ডিলার সাহাবুদ্দিন মেম্বর (কার্ড নম্বর ১১৩) গলাচিপা কৃষি কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিলেও অদৃশ্য ইশারার আজও তা আলোর মূখ দেখেননি শুধু তাই নয়, বরাদ্দকৃত সার চাইতে গেলে মূল ডিলার বস্তা প্রতি ৯ শত ৫০ টাকা দাবী করে বলে দুঃখ প্রকাশ করেন খুচরা সার বিক্রিয় প্রতিনিধি ও বর্তমান ইউপি সদস্য মোঃ শাহাবুদ্দিন।

এ ব্যাপারে মাঠ পর্যায় প্রান্তিক কৃষকগোষ্ঠী ভিডিও সাক্ষাতকারে জানান, চরকাজল ইউনিয়নের ডিলার আলী আহম্মদ ও চরবিশ্বাস ইউনিয়নের কুদ্দুস মোল্লা তারা খুচরা সার বস্তা প্রতি সরকারী দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশী নেন। দাম বেশী না দিলে বলে সার নেই। আমরা গরীব মানুষ আমাদের ঠেকিয়ে ডিলাররা বেশী দাম নিচ্ছেন। এ ছাড়া তারা সংশ্লিষ্ট ঐ ইউনিয়নে সার না পেয়ে গলাচিপা ও ভোলা যান সার ক্রয় করতে সেখানেও ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশী নেন বলে জানান।

এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বাস্তবে উপজেলার সমস্ত সার ডিলাররাই সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের কাছ থেকে বেশী দামে সার বিক্রী করছেন বলে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ আর এম সাইফুল্লাহকে অফিসে গিয়ে না পেয়ে মুঠোফোনে জানান, বাহির থেকে সার আমদানির কথা আমি উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সভা করে রেজুলেশন করেছি এবং অনুমতি দিয়েছি। সারের দাম বেশী নেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কৃষকরা আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করলে ব্যাবস্থা নেব। সাব ডিলার সাহাবুদ্দিন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়ে মূল ডিলারকে সোকজ করেছি।

উক্ত ব্যাপারে পটুয়াখালী উপপরিচালক কৃষিসম্প্রসারন অধিদপ্তর খামারবাড়ি হ্নদয় স্বর দত্ত মুঠোফোনে জানান, অতিরিক্ত সারের প্রয়োজন হলে আমাকে অবহিত করলেই আমি বিকল্প ভাবে সারের ব্যাবস্থা করতাম কিন্তু আমাকে না জানিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কিভাবে এ ধরনের অনুমতি দেন। দাম বেশী নেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, উক্ত বিষয়টি আমি পরোক্ষভাবে শুনেছি তবে আমি এখন ট্রেনিং এ আছি রবিবার এসে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করবো বলে প্রতিবেদককে জানান।


Jasim Uddin৭১বিডি২৪ডটকম/জসিম উদ্দিন/গলাচিপা(পটুয়াখালী)

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *