গলাচিপায় বন বিভাগের খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকার

গলাচিপা(পটুয়াখালী):

পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলায় বন বিভাগের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের খালে বিষ দিয়ে অবাঁধে চলছে মাছ শিকার। এতে বনের ভিতরে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও মাছের পোনা ধ্বংস হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে। অপর দিকে বিষ প্রয়োগ করে শিকার করা মাছ খেয়ে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে নানা ধরনের দূরারোগ্য ব্যাধিতে । এছাড়া বিষ মিশ্রিত পানি পান করে হরিণ, গরু-মোষসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীও রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে।

সংশিষ্ট সূত্র জানায়, গলাচিপা উপজেলার বনবিভাগের আওতাধীন ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের প্রায় দুই’শ খালে মাছ ধরার নামে জেলে নামধারী দুর্বৃত্তরা বনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বিষ প্রয়োগ করে অবাধে মাছ শিকার করছে। এসব জেলে অল্প পরিশ্রমে অধিক মুনাফা লাভের আশায় সারা বছর মাছ শিকারের জন্য ডায়াজিনন, রিপকর্ড, ফাইটার, মার্শাল, ওস্তাদ ও ক্যারাটে জাতীয় কীটনাশক ব্যবহার করে। মাছ শিকারের জন্য এসব খালে জোয়ারের শেষ সময় পানি স্থিতি অবস্থায় খালে মুখ আড়াআড়িভাবে জাল দিয়ে আটকে দেয়া হয়। এরপর খালে অন্য প্রান্তে বিষ কা কীটনাশক ঢেলে দেয় অথবা ওই কীটনাশক চিড়া, ভাত বা অন্য খাবারের সাথে খালের পানির মধ্যে ছিটিয়ে দেয়। এর কিছুক্ষনের মধ্যেই জলাশয়ে থাকা বিভিন্ন প্রাজাতির মাছ বিষের তীব্রতায় নিস্তেজ হয়ে পানিতে ভেসে খালের দুই তীরে উঠে যায়। পরে ভাটায় খাল শুকিয়ে গেলে জেলেরা মাছ সংগ্রহ করে। জেলেরা শুধু চিংড়ি ও বড় মাছ সংগ্রহ করে। কিন্তু বিষক্রিয়ায় বিভন্নন  প্রজাতির মাছের রেনু ও ডিমও ধ্বংস হয়ে যায়।

এ অবস্থা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের মৎস্য ভান্ডার শূণ্য হয়ে পড়বে বলে অনেকে আশংকা করছেন। ইতোমধ্যে কাওইন, শিলন, আইর, রিটা, পাঙ্গাস, বগ্নি, বোত্রা, বাইম, শরপুটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে। অন্য দিকে কীটনাশক প্রয়োগ করে শিকার করা মাছ খেয়ে মানুষ আক্রান্ত হচ্চে নানা ধরনের দূরারোগ্য ব্যাধিতে ।

এছাড়া কীটনাশক প্রয়োগ করা পানি পান করে হরিণ, গরু, মহিষ অন্যান্য বন্যপ্রাণীও রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। গত বছরে বিষ প্রয়োগকৃত খালের পানি পান করে প্রায় দুইশ মহিষ মারা যায়। বনবিভাগের চরকানকুনি, চরআগুনমুখা, মাঝেরচর , ঘাসিরচর , চর আগস্তি , চর যমুনা, আশাবাড়িয়া, চরকাসেম, চর হেয়ারসহ বিভিন্ন বনাঞ্চলের খালে দিনের পর দিন সর্বনাশা কর্মকান্ড চলে আসছে ।

অভিযোগ রয়েছে, অসাধু এসব মাছ শিকারীরা বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায় এ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার মর্তে একাধিক মৎস্যজীবী জানান, এসব এলাকার বনের সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পের অসাধু বনকর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি মৌসুমে ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা দিয়ে এক একটি খাল লিজ নিতে হয়। টেন্ডার প্রক্রিয়ার মত যে যত বেশি টাকা দিতে পারে সেই ওই নির্দিষ্ট মৌসুমে খালে মাছ শিকার করবে। আবার দেখা গেছে একই খাল একাধিক ব্যক্তিকে লিজ দেয়ার দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। বন বিভাগের চরকাশেম এলাকার বিট কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন জানান, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।

স্থানীয় অপর একটি সূত্র জানায়, জেলে নামধারী এসব মৎস্য দুর্বৃত্তদের গডফাদার হিসেবে রয়েছে স্থানীয় কিছু মৎস্য আড়তদার, দাদনদাতা বা মহাজনরা। এসব আড়তদার দূলত জেলেদের টাকা দাদন দিয়ে এ সর্বনাশা কারবার চালাতে উৎসাহিত করে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ কামরুল ইসলাম জানান, বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগের জন্য এটি মারাত্বক হুমকি। আবার এরই ফলে ব্যাহত হচ্ছে প্রজনন প্রক্রিয়া। এ ছাড়া বিষমিশ্রিত পানি খেয়ে ম্যানগ্রোভ বনের বিভিন্ন প্রাণী নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অপর দিকে কীটনাশক প্রয়োগ করে মাছ ধরে বাজারে অবাঁধে বিক্রি হওয়ায় জনসাধারন এক প্রকার না জেনেই এসব মাছ অহরহ কিনে অজান্তেই নিজেদেরকে জটিল রোগে আক্রান্ত করছেন।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *